"নারী নেতৃত্ব/নারী শাসক এবং রাসুলুল্লাহ(সাঃ)-এর বিরক্তি" এই লেখাতে দুইটি বিষয় আলোচনা করা হল। ১) মুহাম্মদ(সাঃ)-এর চিঠি অবমাননা এবং "নারী শাসক" সম্পর্কে হাদিস এবং ২) পারস্যের বাদশাহ কিসরা এবং তার ছেলে শিরোয়াইন-এর ধ্বংস হওয়া এবং উভয়ের লুচ্চামীর কাহিনী। মুহাম্মদ (সাঃ) দূত(সাহাবী) মারফত তৎকালীন পারস্যের(ইরান) বাদশাহ কিসরা এবং রোমান বাদশাহ কায়সার'কে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। রোমান বাদশাহ কায়সার চিঠি পাওয়ার পর অহংকার করেছিল না, বেয়াদবী করেছিল না, চিঠিকে অবমাননা করেছিল না এবং প্রেরিত দুতের সাথে ভাল ব্যবহার করেছিল। কিন্তু বাদশাহীর গদির লোভে ইসলামের দাওয়াত কবুল করেছিল না। অপরদিকে, কিসরা মুহাম্মদ(সাঃ)-এর চিঠিটিকে অবমাননা করে ছিড়ে টুকরা টুকরা ফেলে দিয়েছিল, অহংকার করেছিল, বেয়াদবী করেছিল এবং প্রেরিত দুতের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছিল এবং দূতকে বলেছিল যে, "যাও বল গিয়ে আমি তোমাদেরকে দেখতে আসছি।" কিসরার কাছে প্রেরিত দুত অপমানিত হয়ে রাসুল(সাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে সব ঘটনা যখন খুলে বলছিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ(সাঃ) সব শোনার পর ভবিষ্যতবানী করে করে বলেছিলেন যেঃ "ইযা হালাকা কিসরা হা'লা কিসরা বা'ত"। অর্থঃ পারস্য দেশের বা ইরানের কিসরা ধ্বংস হয়ে গেলে আর কোন কিসরা জন্মলাভ করবে না। কিসরা ও তার ছেলের ধ্বংসের ঘটনাঃ কিসরার এক ছেলে ছিল তার নাম ছিল 'শিরোয়াইন'; বড় বদমাশ ও লুচ্চা/যেনাকার ছিল। কিসরা তার ছেলের কুচরিত্রের কারনে ছেলের উপর এতই অতিস্ট হয়েছিল যে, সে তার ছেলেকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে এবং কিসরা তার ছেলেকে/পুত্রকে মেরে ফেলার জন্য কৌশলে তার রাজদরবারের ঔষধের ঘরে বা দাওয়াখানায় একটি বোতলে বিষ রেখে দিয়েছিল এবং বোতলের গায়ে লিখে রেখেছিল "যৌনশক্তি" বৃর্দ্ধির ঔষধ। ইত্যবসরে, কিসরার ছেলে (শিরোয়াইন) কিসরাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল এই কারনে যে, সে যদি তার পিতাকে(কিসরা) হত্যা না করে তাহলে সে পারস্যের রাজা/বাদশাহ হতে পারবে না এবং গদিতেও বসতে পারবে না। উল্লেখ্য যে, পিতা-পুত্র উভয়েই ছিল লুচ্চা/যেনাকার। অতঃপর সুযোগ বুঝে কিসরাকে তার ছেলে হত্যা করে এবং রাজদরবারের দাওয়াখানায় ঢুকে তার পিতার রক্ষীত "যৌনশক্তি" বৃর্দ্ধির ঔষধের বোতলের বিষ 'যৌনশক্তি' বৃর্দ্ধির ঔষধ ভাবিয়া মনের খুশীতে (কারন, বোতলের ঔষধ খেলে যৌনশক্তি বাড়বে এবং বেশী নারীকে সহবাস করতে পারবে) ঢক ঢক করে খেয়ে ফেলেছিল এবং মারা গিয়েছিল। অতঃপর কিসরার আর কোন ছেলে না থাকায় পারস্যের(ইরান) জনগন কিসরার মেয়েকে/কন্যাকে তাদের স্বীয় শাসনভার কিসরার কন্যাকে অর্পন করেছিল। তারপর, এই সংবাদ যখন রাসুল(সাঃ)-এর নিকট আসলো, তখন তিনি বলেছিলেনঃ "সে জাতি কখনোই কল্যান/সফলতা লাভ করতে পারবে না, যদি তাদের স্বীয় শাসনভার কোন নারীর হাতে/উপর অর্পন করে"। ***বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ। রাসুল(সাঃ) অন্যত্র আরও বলেছিলেনঃ “সেই ক্বওম কখনোই কল্যাণ লাভ করবে না, যে ক্বওমের প্রধান হবে মহিলা"। ***বুখারী। “যখন তোমাদের শাসনভার মহিলাদের উপর ন্যস্ত হয় তখন যমীনের উপরিভাগ থেকে যমীনের তলভাগ তোমাদের জন্য উত্তম। অর্থাৎ বেঁচে থাকার চেয়ে মারা যাওয়াই ভাল"। ***তিরমিযী। নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে বিরক্তি প্রকাশ করে রাসূল(সাঃ) বলেছিলেনঃ “যখন তোমাদের শাসক হবে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দুষ্ট ও শয়তান প্রকৃতির, তোমাদের ধনীরা যখন হবে তোমাদের মধ্যে বেশী কৃপণ আর তোমাদের (জাতীয়) কাজ-কর্মের দায়িত্ব যখন ন্যস্ত হবে তোমাদের স্ত্রী লোকদের হাতে তখন মৃত্যু হবে জীবন অপেক্ষা উত্তম"।***তিরমিযী। উল্লেখ্য যে, যদি কোন নারী জোড়-জবরদস্তি করে ক্ষমতা দখল করে; তাহলে, সেটা ভিন্ন ব্যাপার এবং সে অবস্থায় আল্লাহ'তাআলা ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু, কোন জাতি যদি স্বেচ্ছায় তাদের শাসনভার কোন নারীকে দিয়ে দেয় বা শাসক নির্বাচিত করে; তাহলে, সে জাতি কখনোই সফলতা লাভ করতে পারবে না। যেমনটি ঘটেছিল পারস্যের কিসরার কন্যার ক্ষেত্রে। কারন, পারস্যের জনগন স্বেচ্ছায় কিসরার কন্যাকে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিল। "শেষ কথা" আমরাও চাইনা কিসরার কন্যার মত কাউকে স্বেচ্ছায় শাসনভার অর্পন করতে। কারন, আল্লাহ'তাআলা বলেছেনঃ "পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল।" ***সুরা নিসাঃ আয়াত- ৩৪। মন্তব্যঃ রোমান বাদশাহ অহংকার ও বেয়াদবী না করার কারনে তার মসনদ/গদি হারিয়েছিল না এবং দুনিয়ার সুখ পেয়েছিল- পরকাল হারিয়েছিল। কিন্তু কিসরার অহংকার, বেয়াদবী এবং চরম চরম দুর্ব্যবহারের কারনে তার মসনদ হারিয়েছিল এবং ধ্বংস হয়েছিল। তার ঔরশের একমাত্র ছেলে শিরোয়াইন-ও ধ্বংস হয়েছিল। কিসরার অন্য কোন ছেলে না থাকায় তার একমাত্র মেয়েকে পারস্যের জনগন স্বেচ্ছায় তাদের শাসনভার অর্পন করেছিল এবং রাসুল(সাঃ)-এর ভবিষ্যতবানী সত্যে পরিনত হয়েছিল।
শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৩
নারী নেতৃত্ব/নারী শাসক
"নারী নেতৃত্ব/নারী শাসক এবং রাসুলুল্লাহ(সাঃ)-এর বিরক্তি" এই লেখাতে দুইটি বিষয় আলোচনা করা হল। ১) মুহাম্মদ(সাঃ)-এর চিঠি অবমাননা এবং "নারী শাসক" সম্পর্কে হাদিস এবং ২) পারস্যের বাদশাহ কিসরা এবং তার ছেলে শিরোয়াইন-এর ধ্বংস হওয়া এবং উভয়ের লুচ্চামীর কাহিনী। মুহাম্মদ (সাঃ) দূত(সাহাবী) মারফত তৎকালীন পারস্যের(ইরান) বাদশাহ কিসরা এবং রোমান বাদশাহ কায়সার'কে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। রোমান বাদশাহ কায়সার চিঠি পাওয়ার পর অহংকার করেছিল না, বেয়াদবী করেছিল না, চিঠিকে অবমাননা করেছিল না এবং প্রেরিত দুতের সাথে ভাল ব্যবহার করেছিল। কিন্তু বাদশাহীর গদির লোভে ইসলামের দাওয়াত কবুল করেছিল না। অপরদিকে, কিসরা মুহাম্মদ(সাঃ)-এর চিঠিটিকে অবমাননা করে ছিড়ে টুকরা টুকরা ফেলে দিয়েছিল, অহংকার করেছিল, বেয়াদবী করেছিল এবং প্রেরিত দুতের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছিল এবং দূতকে বলেছিল যে, "যাও বল গিয়ে আমি তোমাদেরকে দেখতে আসছি।" কিসরার কাছে প্রেরিত দুত অপমানিত হয়ে রাসুল(সাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে সব ঘটনা যখন খুলে বলছিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ(সাঃ) সব শোনার পর ভবিষ্যতবানী করে করে বলেছিলেন যেঃ "ইযা হালাকা কিসরা হা'লা কিসরা বা'ত"। অর্থঃ পারস্য দেশের বা ইরানের কিসরা ধ্বংস হয়ে গেলে আর কোন কিসরা জন্মলাভ করবে না। কিসরা ও তার ছেলের ধ্বংসের ঘটনাঃ কিসরার এক ছেলে ছিল তার নাম ছিল 'শিরোয়াইন'; বড় বদমাশ ও লুচ্চা/যেনাকার ছিল। কিসরা তার ছেলের কুচরিত্রের কারনে ছেলের উপর এতই অতিস্ট হয়েছিল যে, সে তার ছেলেকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে এবং কিসরা তার ছেলেকে/পুত্রকে মেরে ফেলার জন্য কৌশলে তার রাজদরবারের ঔষধের ঘরে বা দাওয়াখানায় একটি বোতলে বিষ রেখে দিয়েছিল এবং বোতলের গায়ে লিখে রেখেছিল "যৌনশক্তি" বৃর্দ্ধির ঔষধ। ইত্যবসরে, কিসরার ছেলে (শিরোয়াইন) কিসরাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল এই কারনে যে, সে যদি তার পিতাকে(কিসরা) হত্যা না করে তাহলে সে পারস্যের রাজা/বাদশাহ হতে পারবে না এবং গদিতেও বসতে পারবে না। উল্লেখ্য যে, পিতা-পুত্র উভয়েই ছিল লুচ্চা/যেনাকার। অতঃপর সুযোগ বুঝে কিসরাকে তার ছেলে হত্যা করে এবং রাজদরবারের দাওয়াখানায় ঢুকে তার পিতার রক্ষীত "যৌনশক্তি" বৃর্দ্ধির ঔষধের বোতলের বিষ 'যৌনশক্তি' বৃর্দ্ধির ঔষধ ভাবিয়া মনের খুশীতে (কারন, বোতলের ঔষধ খেলে যৌনশক্তি বাড়বে এবং বেশী নারীকে সহবাস করতে পারবে) ঢক ঢক করে খেয়ে ফেলেছিল এবং মারা গিয়েছিল। অতঃপর কিসরার আর কোন ছেলে না থাকায় পারস্যের(ইরান) জনগন কিসরার মেয়েকে/কন্যাকে তাদের স্বীয় শাসনভার কিসরার কন্যাকে অর্পন করেছিল। তারপর, এই সংবাদ যখন রাসুল(সাঃ)-এর নিকট আসলো, তখন তিনি বলেছিলেনঃ "সে জাতি কখনোই কল্যান/সফলতা লাভ করতে পারবে না, যদি তাদের স্বীয় শাসনভার কোন নারীর হাতে/উপর অর্পন করে"। ***বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ। রাসুল(সাঃ) অন্যত্র আরও বলেছিলেনঃ “সেই ক্বওম কখনোই কল্যাণ লাভ করবে না, যে ক্বওমের প্রধান হবে মহিলা"। ***বুখারী। “যখন তোমাদের শাসনভার মহিলাদের উপর ন্যস্ত হয় তখন যমীনের উপরিভাগ থেকে যমীনের তলভাগ তোমাদের জন্য উত্তম। অর্থাৎ বেঁচে থাকার চেয়ে মারা যাওয়াই ভাল"। ***তিরমিযী। নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে বিরক্তি প্রকাশ করে রাসূল(সাঃ) বলেছিলেনঃ “যখন তোমাদের শাসক হবে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দুষ্ট ও শয়তান প্রকৃতির, তোমাদের ধনীরা যখন হবে তোমাদের মধ্যে বেশী কৃপণ আর তোমাদের (জাতীয়) কাজ-কর্মের দায়িত্ব যখন ন্যস্ত হবে তোমাদের স্ত্রী লোকদের হাতে তখন মৃত্যু হবে জীবন অপেক্ষা উত্তম"।***তিরমিযী। উল্লেখ্য যে, যদি কোন নারী জোড়-জবরদস্তি করে ক্ষমতা দখল করে; তাহলে, সেটা ভিন্ন ব্যাপার এবং সে অবস্থায় আল্লাহ'তাআলা ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু, কোন জাতি যদি স্বেচ্ছায় তাদের শাসনভার কোন নারীকে দিয়ে দেয় বা শাসক নির্বাচিত করে; তাহলে, সে জাতি কখনোই সফলতা লাভ করতে পারবে না। যেমনটি ঘটেছিল পারস্যের কিসরার কন্যার ক্ষেত্রে। কারন, পারস্যের জনগন স্বেচ্ছায় কিসরার কন্যাকে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিল। "শেষ কথা" আমরাও চাইনা কিসরার কন্যার মত কাউকে স্বেচ্ছায় শাসনভার অর্পন করতে। কারন, আল্লাহ'তাআলা বলেছেনঃ "পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল।" ***সুরা নিসাঃ আয়াত- ৩৪। মন্তব্যঃ রোমান বাদশাহ অহংকার ও বেয়াদবী না করার কারনে তার মসনদ/গদি হারিয়েছিল না এবং দুনিয়ার সুখ পেয়েছিল- পরকাল হারিয়েছিল। কিন্তু কিসরার অহংকার, বেয়াদবী এবং চরম চরম দুর্ব্যবহারের কারনে তার মসনদ হারিয়েছিল এবং ধ্বংস হয়েছিল। তার ঔরশের একমাত্র ছেলে শিরোয়াইন-ও ধ্বংস হয়েছিল। কিসরার অন্য কোন ছেলে না থাকায় তার একমাত্র মেয়েকে পারস্যের জনগন স্বেচ্ছায় তাদের শাসনভার অর্পন করেছিল এবং রাসুল(সাঃ)-এর ভবিষ্যতবানী সত্যে পরিনত হয়েছিল।
মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৩
খিলাফত ব্যবস্থা কি মাত্র ত্রিশ বছর টিকে ছিল?
খিলাফত ব্যবস্থা কি মাত্র ত্রিশ বছর টিকে ছিল?
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে সারা বিশ্বের নেতা রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সা) এর হাতে প্রথম ইসলামী
রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তা ১৯২৪ সালের ৩ মার্চ
বিশ্বাসঘাতক কামাল আতাতুর্কের হাতে তা ধ্বংস হয়। খুলাফায়ে রাশেদিনের পর
থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা বা খিলাফত ব্যবস্থা যে
ধারাবাহিকভাবে টিকেছিল তা ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও শরীয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে
পর্যবেক্ষণ করলে তা আমাদের কাছে বোধগম্য হবে।
আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে এ ব্যবস্থার ধারাবাহিক অস্তিত্ব বুঝতে চাই,
তাহলে দেখতে হবে প্রথমতঃ এ ব্যবস্থার কাঠামো কি ইতিহাস জুড়ে টিকেছিল কিনা।
দ্বিতীয়তঃ এ কাঠামোতে সময়ের আবর্তে কি কোন পরিবর্তন এসেছে কিনা। রাসুল
(সা) ও খুলাফায়ে রাশেদিনের সময়ের ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান স্তম্ভগুলো হল:
১। খলীফা বা রাষ্ট্রপ্রধান
২। খলীফার প্রতিনিধিত্বকারী সহকারী (মু’ওয়ায়ীন আত তাফউঈদ)
৩। খলীফার নির্বাহী সহকারী (মু’ওয়ায়ীন আত তানফীয)
৪। গভর্ণরবৃন্দ (উলাহ্)
৫। আমীর-উল-জিহাদ
৬। বিচার বিভাগ
৭। প্রশাসনিক বিভাগ
৮। উম্মাহ্ কাউন্সিল (মাজলিস আল-উম্মাহ্)
তাই আমরা যদি ১৯২৪ সাল পর্যন্ত ১৩০০ বছরের ইতিহাসের চুলচেরা বিশ্লেষণ করি,
তাহলে দেখতে পাই পরামর্শ সভা মাজলিস আল উম্মাহই শুধু বিভিন্ন সময়ে উপেক্ষিত
বা অবহেলিত ছিল। খুলাফায়ে রাশেদিনের পর মাজলিস আল উম্মাহর প্রতি কিছু
সংখ্যক খলীফার উদাসীনতার অর্থ এই নয় যে, পরামর্শ সভা না থাকলেই ব্যবস্থা
হিসেবে খিলাফতের অবসান হয়ে গেল। অন্য সব স্তম্ভ টিকে থাকলে মাজলিসুল উম্মাহ
বা শুরা ছাড়াও ইসলামী শাসন ব্যবস্থা চলতে পারে, যদিও শুরা উম্মাহর অধিকার।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংকট, গৃহযুদ্ধ ও বিদেশী সেনাবাহিনীর
আগ্রাসন ঘটলেও এমন কখনো হয় নি যে, মুসলিমরা খলীফা বিহীন ছিল।
নিজের পুত্রকে খলীফা হিসেবে মনোনয়ন দেয়া বা বংশীয় শাসনের অভিযোগ খানিকটা
সত্য এবং এটাও সত্য যে, খলীফা নিয়োগের বায়াতের পদ্ধতিতেও কখনো কখনো অনিয়ম
দেখা যায়। কিন্তু এটা খিলাফতের ধারাবাহিকতাকে কখনো প্রভাবিত করতে পারেনি।
অনেক সময় এমনও ঘটেছে যে, খলীফা তার ছেলেকে যোগ্য মনে করলে তার মৃত্যুর আগেই
জনগণের কাছ থেকে ছেলের জন্য বায়াতের শপথ আদায় করেছিলেন। পরবর্তীতে তা আবার
নবায়ন করেছেন। এ বাই’য়াত মূলত প্রভাবশালী লোকজন এবং জনপ্রতিনিধিরা
অংশগ্রহণ করত।
খুলাফায়ে রাশেদিনের পর খিলাফত টিকে থাকার কথা ইসলামী আলেমরাও স্বীকার
করেছেন। যদিও এদের মধ্যে দু একজন তিরমিযী শরীফের একটি হাদীসের কারণে প্রথম
চার খলীফার পর পরবর্তী খলীফাদের ক্ষেত্রে “খলীফা” শব্দটি ব্যবহার করতে
অপছন্দ করতেন। সে হাদীসটি হল: রাসুল (সা) বলেছেন, “আমার পর আমার উম্মাহর
মধ্যে ৩০ বছর পর্যন্ত খিলাফত থাকবে তারপর শুরু হবে বংশীয় আকড়ে ধরা শাসন
(মুলকান আদ্দান) [একই বর্ণনা-সুনানে আবু দাউদ (২/২৬৪) এবং মুসনাদে আহমদ
(১/১৬৯) থেকেও পাওয়া যায়।] ইসলামী বিশারদগণ ব্যাখ্যা করেন যে, যেহেতু এ
হাদীসটি এ বিষয়ক অন্যান্য হাদীসের সঙ্গে আপাত দৃষ্টিতে সাংঘর্ষিক মত প্রদান
করে তাই এই হাদীসের গূঢ় অর্থ ৩০ বছর পর খিলাফত ব্যবস্থা শেষ হয়ে যাবে তা
নিশ্চিতভাবে বোঝাচ্ছে না।
জাবির বিন সামুরাহ (রা) বর্ণনা করেন, “রাসূল (সা) বলেন, দ্বীন ইসলাম ততদিন
পর্যন্ত টিকে থাকবে যতদিন না আল্লাহর নির্ধারিত ক্ষণ উপস্থিত হয় অথবা
কুরাইশ বংশীয় বারজন খলীফা তোমাদেরকে শাসন না করে” [সহীহ মুসলিম]।
এ হাদীস থেকে বোঝা যায় মুসলমানদের চার পাঁচ জন নয় বরং একাধিক সংখ্যক খলীফা
শাসন করবেন। এ হাদীস অনুসারে খিলাফত ব্যবস্থা শুধু ত্রিশ বছরের মধ্যে
সীমাবদ্ধ থাকা বাস্তব সম্মত নয়। এ হাদীসের ব্যাখ্যায় কাজী আইয়াদ বলেন, “এই
হাদীসটিতে যেখানে বলা হয়েছে ‘আমার পর খিলাফত ৩০ বছর টিকে থাকবে, এর পর শুরু
হবে বংশীয় শাসন’ যা পুর্ববর্তী এই হাদীসটির সাথে সাংঘর্ষিক- ‘যত দিন না
কুরাইশ বার জন খলীফা উম্মাহকে শাসন করে, ইসলামী দ্বীন ততদিন টিকে থাকবে’।
[সহীহ মুসলিম] এ সাংঘর্ষিক মনে হওয়া বিবৃতির সমাধান হল - ৩০ বছর খিলাফত
টিকে থাকবে নবুয়্যতের আদলে অর্থাৎ সঠিকভাবে পরিচালিত খিলাফত ব্যবস্থার
আদলে। বাস্তবে এই ত্রিশ বছর হযরত আবু বকর (রা) থেকে হাসান বিন আলী (রা) এর
শাসনকালকেই বোঝায়। [এভাবেই আন-নববী তার সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যার মধ্যে
উল্লেখ করেছেন পৃষ্ঠা-৮২১। পাঠক লক্ষ্য করুন এ ত্রিশ বছরে চার জন নয় বরং
পাঁচ জন খলীফা উম্মাহকে শাসন করেছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে রাসূল (সা) বলেন, “বনী ইসরাইলকে শাসন করতেন নবীগণ,
যখন এক মৃত্যুবরণ করতেন তখন তার স্থলে অন্য নবী আসতেন, কিন্তু আমার পর আর
কোন নবী নেই। শীঘ্রই খলীফারা আসছেন এবং তারা সংখ্যায় হবেন অনেক। তারা (রা)
(সাহাবীরা) জিজ্ঞেস করলেন, তখন আপনি আমাদের কী করতে আদেশ দেন? তিনি (সা)
বললেন, তোমরা তাদের একজনের পর একজনের বায়’আত পূর্ণ করবে, তাদের হক আদায়
করবে”। (বুখারী, মুসলিম)
উল্লিখিত হাদীস থেকে বোঝা যায় রাসুল (সা) এর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী
না আসায় কার তত্ত্বাবধানে মুসলমানদের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হবে সেটা
স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং সেটা হচ্ছে খিলাফত ব্যবস্থা ও খলীফার
তত্ত্বাবধানে।
১২ জন খলীফার বিষয়টিও কাযী আইয়াদ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন ‘সম্ভবত
হাদীসটিতে যে ১২ জন খলীফার কথা বলা হয়েছে – তারা হল এমন ১২ জন খলীফা যাদের
শাসনকালে ইসলামের শৌর্য-বীর্য বৃদ্ধি পেয়েছিল-উম্মাহ ঐ সকল নেতৃত্বে
ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং সর্বোপরি খলীফা হিসেবে উম্মাহর দেখাশুনাও তারা ঠিকভাবে
করেছিলেন। [আস সুয়ূতি তারীখ আল খুলাফা, পৃষ্ঠা: ১৪]
ইবনে হাজার বলেন, “এই হাদীসটি সম্পর্কে যে কয়েকজন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তার
মধ্যে কাযী আইয়াদের যুক্তি সবচেয়ে শক্তিশালী কারণ রাসূল (সা) এর কিছু
সংশ্লিষ্ট সহীহ হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়েই তিনি যুক্তি তুলে ধরেছেন। যেমন: এ
সম্পর্কে রাসূল (সা) বলেন, লোকেরা তাদেরকে কেন্দ্র করে একত্রিত হবে......”।
(ফাতহুল বারী) এর পাশাপাশি ইবনে হাজার কয়েকজন খলীফার উদাহরণসহ ঐতিহাসিক
সত্যতা তুলে ধরেন।
ইমাম শাফে’ঈ (র) এর অনুসারী ফিকহ বিশেষজ্ঞ সাইফ-উদ-দ্বীন আল আমিদি তার
বইয়ের মধ্যে (আল ইমামা মিন আবকার আল আফকার ফি উসুল আদ দিন, পৃ-৩০৬)
সংশ্লিষ্ট হাদীসটির ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, এ হাদীসটিতে বলা হয়েছে ‘আমার
খিলাফত থাকবে ৩০ বছর তারপর এতে বংশীয় শাসনের রীতি আসবে’। এ হাদিসটিতে চার
খলীফা [আবু বকর, উমর, উসমান, আলী (রা)] পর্যন্ত খিলাফত ব্যবস্থা টিকে থাকবে
তা বোঝায়নি। এবং এই হাদীসটি দিয়ে শুধু এ কথাও বোঝায়নি যে, চার খলীফার সময়
পর্যন্ত খিলাফত ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকবে। বরং রাসূল (সা) বুঝিয়েছেন-তাঁর পর
কোন প্রকার বিচ্যুতি ছাড়া তাঁর নেতৃত্বের ধরণ (সুন্নাহ অনুসারে) ইমাম বা
খলীফারা উল্লেখিত সময় পর্যন্ত নেতৃত্ব দেবেন। এর পর বেশীর ভাগ শাসকরাই
উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ অলংকৃত করে শাসন করবেন। তা সত্ত্বেও
যে খিলাফত ব্যবস্থা টিকে ছিল তা নিচের দুটি বিষয় থেকে বোঝা যায়।
প্রথমতঃ পরবর্তী সকল সময়ে উম্মাহর মধ্যে এ ব্যাপারে ঐক্যমত ছিল যে তাদের
একজন ইমাম বা খলীফা থাকতে হবে এবং তাকে মানা আবশ্যক।
দ্বিতীয়তঃ তিনি (সা) বলেছেন, ‘তারপর আসবে (তাসির) মুলকান’। এখানে যে
বাক্যাংশটি ব্যবহার করা হয়েছে সে ‘তাসিরু মুলকান’ (تصير ملكا) দিয়ে
খিলাফতকেই নির্দেশ করা হচ্ছে। উল্লিখিত ক্রিয়াটি (তাসিরু) খিলাফতকে ছাড়া
অন্য কোন কিছুকেই বোঝায় না। এ দিয়ে আরও প্রতিপন্ন হয় না যে খিলাফতই ‘মুলকে’
পরিণত হবে। কেননা একটি বিষয় অন্য বিষয়ে পরিণত হতে গেলে প্রথম বিষয়টির
অস্তিত্বে থাকা অবশ্যই জরুরী। এখানে প্রথম উল্লিখিত বিষয়ে ইমাম আমিদি
ব্যাখ্যা করেন, দলিল অনুসারে উম্মাহকে অবশ্যই সে যুগের ইমামকে (খলীফাকে)
মানতে হবে। এটা দিয়ে অবশ্যই এক খলীফার পর আরেক খলীফা আসার বিষয়টিকে
সীমাবদ্ধ করা হয় নি। আমিদির দ্বিতীয় যুক্তি হল ভাষাতাত্ত্বিক। উক্ত
হাদিসটির বক্তব্য হল- খিলাফতের চরিত্র বা প্রেক্ষিত পরিবর্তিত হয়েছে;
খিলাফত ব্যবস্থা নিজে নয়। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে
যেমন: ‘তারপর তারেক রেগে গেল’ (ثم يصير طارق غاضبا) এখানে তারেকের অবস্থান
বা গুণগত অবস্থার পরিবর্তন বুঝিয়েছে। অর্থাৎ তারেক রেগে গিয়ে আলী বা উমরে
পরিণত হতে পারে না। একইভাবে হাদিসটিতে যখন বলা হয়েছে “ছুম্মা তাসিরু
মুলকান” এর অর্থ হল এবং ‘এরপর আসবে বংশীয় শাসন’ এ বাক্যাংশ দিয়ে কখনো বোঝা
যায় না যে খিলাফত ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেল। বরং ঐ ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন
আসাকে বোঝায়।
৯০৩ হিজরিতে খলীফা মুতাওয়াক্কিল আবুল-’ইজ মৃত্যুবরণ করেন। তার স্থানে তার
ছেলে আল মুসতামসিক বিল্লাহ খলীফা নিযুক্ত হন। এ সময়ে বিখ্যাত ইসলামী পণ্ডিত
ইমাম জালাল আল-দিন সুয়ুতি তারীখ আল খুলাফা (খলীফাদের ইতিহাস) বইয়ে তখন
পর্যন্ত খলীফা হসেবে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ
করেছিলেন। তিনি এ বইয়ের সূচনায় বলেন, “আবু বকর (রা) এর মৃত্যুর পর থেকে এ
পর্যন্ত যত খলীফা শাসন করেছেন এখানে সংক্ষেপে সে সব খলীফাদের জীবনী তুলে
ধরলাম। যারা ছিলেন বিশ্বাসীদের নেতা (আমীর উল মু’মিনিন) যারা উম্মাহর সকল
বিষয় নিয়ে দেখাশুনা করতেন”। তার এই বই লেখার সময়টা ছিল হিজরতের ৯০০ বছর পর।
সমস্ত খিলাফতের সময়কাল জুড়েই তৎকালীন খলীফাদের সাথে ইসলামী পণ্ডিতদের
যোগাযোগ ছিল। কেউ কেউ খলীফাদের বিভিন্ন কাজের কৈফিয়ত বা ইসলামী ব্যাখ্যা
চাইতেন। আবার কেউ কেউ তাদের শাসন কাজে সরাসরি সহযোগিতা করতেন। উদাহরণ দিয়ে
বলা যায় - ইমাম আবু হানিফা খলীফা আল মানসুরের এক সিদ্ধান্তের কৈফিয়ত
চেয়েছিলেন। কাজি আবু ইউসুফ খলীফা হারুন অর রশিদের শাসন আমলে প্রধান
বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মুসতানসির বিল্লাহ তাতারদের পরাজিত করার
পর আল-’ইজ বিন আব্দুস সালাম তার নিকট বায়’আত গ্রহণ করেছিলেন।
উসমানীয় খিলাফতের শেষের দিকে পশ্চিমা পুঁজিবাদী শক্তিগুলো যখন মুসলিমদের
রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিল দেয়ার ষড়যন্ত্রে মগ্ন ছিল তখন মাওলানা
কাশিম নানুতবি (র) এর সরাসরি ছাত্র ও দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান মাওলানা
মুহাম্মদ হাসান (র) ১৯২০ সালে ইসলামের শত্রুদের সাম্রাজ্যবাদী ছোবল থেকে
উসমানীয় খিলাফতকে রক্ষা করার জন্য মুসলিমদের উদ্দেশ্যে এক ফতোয়া জারি করেন।
সম্মানিত মাওলানা হাসান বলেন ‘ইসলামের শত্রুরা ইসলামের সম্মান ও
প্রতিপত্তি ধ্বংস করতে চেষ্টার ত্রুটি করছে। ইরাক, ফিলিস্তিন, সিরিয়ার উপর
তাদের লোভাতুর দৃষ্টি পড়ছে। মুসলমানদের খলীফা – যিনি সারা বিশ্বের
মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করেন, পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি, ইসলামের সার্বজনীন
আইন বাস্তবায়নকারী; যিনি মুসলিমদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করেন এবং
সৃষ্টিকর্তার সম্মানিত বাণী পৃথিবীর বুকে রক্ষা ও বাস্তবায়নকারী, সেই
খলীফারা আজ শত্রু বেষ্টিত ……… [মাওলানা সাইদ মুহাম্মদ মিয়ার “দ্যা প্রিজনার
অফ মাল্টা” বইয়ে ২৯ অক্টোবর ১৯২০ সালে জারিকৃত ফতোয়াটির ইংরেজি অনুবাদ
প্রকাশ করেন, পৃষ্ঠা ৭৮]
খিলাফত আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা মাওলানা মুহাম্মদ আলি যোহার খিলাফত সম্পর্কে
মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “তুরস্কের খলীফারা হল রাসূল (সা) এর
উত্তরাধিকারী। মুমিনদের নেতা বা বিশ্বাসীদের প্রধান। যার অস্তিত্বের কথা
কুরআন ও রাসূলের সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। (মোহাম্মদ আলী যোহার, মাই লাইফ এ
ফ্র্যাগমেন্ট)। এ প্রসঙ্গে উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলান আবুল কালাম
আজাদের ১৯২০ সালে খিলাফত নিয়ে লেখা “দ্যা ইস্যু অব খিলাফত” বইয়ের শুরুতেই
লিখেন, খিলাফত ছাড়া ইসলামের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। ইন্ডিয়ার মুসলমানদের উচিত
তাদের সর্বোশক্তি ও সামর্থ্য দিয়ে খিলাফত রক্ষা করার জন্য কাজ করা”। বইটির
মধ্যে আবু বকর (রা) থেকে শুরু করে ১৯২০ সাল পর্যন্ত সকল খলীফার একটি
তালিকাও তিনি সংযোজন করেন। খিলাফতের শেষ পর্যায়ে এসেও তাই আমরা দেখতে পাই
খিলাফত টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে উলামারা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ছিলেন। খুলাফায়ে
রাশেদিনের পর খিলাফতের ধারাবাহিকতা থাকাটা আহলুস সুন্নাতের বিশ্বাসের একটি
গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ প্রসঙ্গে শাফি মাযহাবের ইমাম আত-তাফতাজানী হানাফী
মাযহাবের ইমাম আন নাসাফির চিন্তার সঙ্গে সম্পুর্ণ একমত পোষণ করেন। এ বিষয়ে
আত-তাফতাজানী বলেন, উম্মাহর জন্য একজন ইমাম নিয়োগ করা যে বাধ্যতামূলক সে
বিষয়ে সকল ইমামের মধ্যে মতৈক্য আছে। কারণ রাসূল (সা) বলেছেন, “যে ব্যাক্তি
এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে তার কাঁধে কোন খলীফার বায়’আত (আনুগত্যের শপথ)
নেই তবে তার মৃত্যু হচ্ছে জাহেলিয়াতের মৃত্যু” (মুসলিম)। আত-তাফতাজানী আরও
বলেন, “মুসলিমদের একজন ইমাম থাকা বাধ্যতামূলক যিনি মুসলমানদের প্রশাসন
পরিচালনা করবেন। যিনি মুসলিমদের জন্য নির্দেশিত ডিক্রিগুলো রক্ষা করবেন,
মুসলিমদের ভৌগলিক সীমানা সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করবেন, মুসলিম
সেনাবাহিনীকে যথাযথ সামরিক সরঞ্জামে সুসজ্জিত রাখবেন, জনগণের দানের অর্থ
গচ্ছিত রাখবেন, জুম্মাহর নামাজ ও প্রধান প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব
দিবেন, সৃষ্টিজগতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবেন, বৈধ অধিকার রক্ষার
পক্ষে তিনি প্রমাণাদি গ্রহণ করবেন। অভিভাবকহীন যুবক যুবতীদের নিজ
অভিভাবকত্বে বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। [আকিদাত অ্যান নাসাফিয়া পৃঃ ১৪৭]
ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও দলীলের নিরীখে ইমাম তাফতাজানী বক্তব্য যে ঠিক তা বোঝা
যায়। একজন খলীফা নিয়োগ করা মুসলিমদের জন্য বাধ্যতামূলক যা রাসূল (সা) এর
সুন্নাহেরই প্রতিফলন। তাই উল্লেখিত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বলা যায় আমাদের
সমাজে খিলাফতের কাল “ত্রিশ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ” ছিল তা নিতান্তই
অবাস্তবিক, অযৌক্তিক ও অলীক অনুমান ছাড়া আর কিছুই নয়। খিলাফত ব্যবস্থা
উম্মাহকে দেখাশুনার ব্যবস্থা হিসেবে রাসূল (সা) এর ওফাতের পর উসমানীয়
খিলাফতের আমল পর্যন্ত টিকেছিল।
ইটালিয়ান সেনা অফিসার ও ওমর মুখতারঃ
মুসোলিনির ইটালিয়ান সেনা অফিসার তাকে জিজ্ঞেস করলঃ তুমি কি ইটালিয়ান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছ?
ওমর মুখতারঃ হ্যাঁ করেছি
সেনা অফিসারঃ লিবিয়ার মানুষকেও তুমি এর জন্য উষ্কে দিয়েছ?
ওমর মুখতারঃ অবশ্যই
সেনা অফিসারঃ তুমি কি জান এর জন্য তোমার শাস্তি মৃত্যুদন্ড?
ওমর মুখতারঃ হ্যাঁ
সেনা অফিসারঃ তুমি যা বলছ, তা কি জেনে বুঝে বলছ?
ওমর মুখতারঃ অবশ্যই, কোন সন্দেহ নাই
সেনা অফিসারঃ তুমি কত বছর ধরে ইটালিয়ান শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছ?
ওমর মুখতারঃ বিশ বছর
সেনা অফিসারঃ তুমি যা করেছ তার জন্য তুমি অনুতপ্ত?
ওমর মুখতারঃ প্রশ্নই হয় না, আমি আমার দেশ আর মানুষের জন্য লড়েছি
সেনা অফিসারঃ তুমি কি বুঝতে পারছ যে তোমাকে এখন হত্যা করা হবে?
সেনা অফিসারঃ হ্যা জানি
সেনা আদালতের বিচারক তার দিকে তাকিয়ে বললঃ তোমার মত লোকের এমন পরিণতি দেখে আমি দুঃখিত
ওমর বললেনঃ কিন্তু এটাই তো জীবন শেষ করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়
এরপর বিচারক অনেক চেষ্টা করল ওমরকে ক্ষান্ত করতে এবং প্রস্তাব দিল তাকে মুক্ত করে দেয়া হবে যদি মুজাহিদিনরা ইটালিয়ানদের সাথে যুদ্ধ বন্ধ করে এই শর্তে
কিন্তু ওমর মুখতার তার দিকে তাকালেন এবং তার সেই বিখ্যাত উক্তিটি বললেনঃ
"যেই শাহাদত আঙ্গুলি দিয়ে আমি প্রতিদিন সাক্ষ্য দেই যে এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই সেই আঙ্গুল মিথ্যার কোন কথা লিখতে পারবে না। আমরা আত্মসমর্পন এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে করি না। আমরা হয় জিতি, না হয় মরি"
আল্লাহ তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান করে দিন। ওমর মুখতার, দ্য লায়ন অব দ্য ডেজার্ট বা মরুর সিংহ- লিবিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রখ্যাত সেই ইমাম, সেই শিক্ষক- আলেম, সেই শহীদ, সেই বিখ্যাত নেতা, যিনি আজো আমাদের মুসলিম জাতির অনুপ্রেরণার অংশ, আল্লাহ আমাদেরকে তার মতো করে দিন । http://bn.wikipedia.org/wiki/ওমর_মুখতার
ওমর মুখতারঃ হ্যাঁ করেছি
সেনা অফিসারঃ লিবিয়ার মানুষকেও তুমি এর জন্য উষ্কে দিয়েছ?
ওমর মুখতারঃ অবশ্যই
সেনা অফিসারঃ তুমি কি জান এর জন্য তোমার শাস্তি মৃত্যুদন্ড?
ওমর মুখতারঃ হ্যাঁ
সেনা অফিসারঃ তুমি যা বলছ, তা কি জেনে বুঝে বলছ?
ওমর মুখতারঃ অবশ্যই, কোন সন্দেহ নাই
সেনা অফিসারঃ তুমি কত বছর ধরে ইটালিয়ান শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছ?
ওমর মুখতারঃ বিশ বছর
সেনা অফিসারঃ তুমি যা করেছ তার জন্য তুমি অনুতপ্ত?
ওমর মুখতারঃ প্রশ্নই হয় না, আমি আমার দেশ আর মানুষের জন্য লড়েছি
সেনা অফিসারঃ তুমি কি বুঝতে পারছ যে তোমাকে এখন হত্যা করা হবে?
সেনা অফিসারঃ হ্যা জানি
সেনা আদালতের বিচারক তার দিকে তাকিয়ে বললঃ তোমার মত লোকের এমন পরিণতি দেখে আমি দুঃখিত
ওমর বললেনঃ কিন্তু এটাই তো জীবন শেষ করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়
এরপর বিচারক অনেক চেষ্টা করল ওমরকে ক্ষান্ত করতে এবং প্রস্তাব দিল তাকে মুক্ত করে দেয়া হবে যদি মুজাহিদিনরা ইটালিয়ানদের সাথে যুদ্ধ বন্ধ করে এই শর্তে
কিন্তু ওমর মুখতার তার দিকে তাকালেন এবং তার সেই বিখ্যাত উক্তিটি বললেনঃ
"যেই শাহাদত আঙ্গুলি দিয়ে আমি প্রতিদিন সাক্ষ্য দেই যে এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই সেই আঙ্গুল মিথ্যার কোন কথা লিখতে পারবে না। আমরা আত্মসমর্পন এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে করি না। আমরা হয় জিতি, না হয় মরি"
আল্লাহ তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান করে দিন। ওমর মুখতার, দ্য লায়ন অব দ্য ডেজার্ট বা মরুর সিংহ- লিবিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রখ্যাত সেই ইমাম, সেই শিক্ষক- আলেম, সেই শহীদ, সেই বিখ্যাত নেতা, যিনি আজো আমাদের মুসলিম জাতির অনুপ্রেরণার অংশ, আল্লাহ আমাদেরকে তার মতো করে দিন । http://bn.wikipedia.org/wiki/ওমর_মুখতার
কেন শরিয়া প্রতিষ্ঠা করতে পারছিনা
কেন শরিয়া প্রতিষ্ঠা করতে পারছিনা
সম্প্রতি
পিউ রিসার্চ অনুযায়ী বাংলাদেশের ৮২% মানুষ রাষ্ট্রীয় সংবিধান হিসেবে
'শরিয়া'কে বাস্তবায়িত হিসেবে চায়। [১] শরিয়ার প্রতি এতো সমর্থন থাকার পরেও
আমরা কেন শরিয়া প্রতিষ্ঠা করতে পারছিনা। এর কিছু কারণ তুলে দেয়া হলঃ
• যে কটি মুসলিম দেশে এখন নামকাওয়াস্তে তথাকথিত গণতন্ত্র আছে সেগুলোর কোনোটিতেই গণতন্ত্র জনগণের মতামত নিয়ে আরোপ করা হয়নি। জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তা না হলে তারা জনগণের কাছে অপশন দিত যে, জনগণ কি ‘ইসলামি শাসন ব্যবস্থা’ চায়, নাকি ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ চায়। অর্থাত্ ইলেকশন আর গণতন্ত্র এক নয়। নির্বাচন হলো পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বোচ্চ সংগঠন রাষ্ট্রের নেতা খুঁজে বের করার একটি উপায়। যা একটি পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও ইসলামি ব্যবস্থা তথা সব ব্যবস্থার মধ্যেই গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচনের একটি উপকরণ মাত্র। ইলেকশন কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ পরিচালনরার আদর্শ নয়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিসর, ইরাক, ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানের মানুষ দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক অত্যাচার ও স্বৈরাচারী শাসকদের কারণে যথার্থভাবে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ না পাওয়ায় নির্বাচনে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। গণতন্ত্র আর ইলেকশন এক নয় বলেই পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন অপশন জনগণকে দেয়া হয়নি যে জনগণ পুঁজিবাদী গণতন্ত্র চায়, নাকি সমাজতন্ত্র চায়। [২]
• পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর মুসলিম বিশ্বের স্বৈরশাসকদের ক্ষমতায় নিয়ে আসা ও তাদের সব রকমের সহযোগিতা দিয়ে মসনদে টিকিয়ে রাখার বিষয়গুলো আজ বুঝতে আর কারও বাকি নেই। ওসমানিয় খিলাফতের পতনের পর মুসলিম ভূ-খণ্ডগুলো থেকে সম্পদ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্রিটিশ-ফ্রান্স-আমেরিকা কখনও স্বৈরশাসক আবার কখনও সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। মুসলিম বিশ্বের স্বৈরশাসকদের সঙ্গে আমেরিকার দহরম-মহরম সম্পর্কের কথা কারও না জানা নেই। জামাল আব্দুল নাসের, ইসলাম কারিমভ, হোসনে জাইম, করিম কাসেম, হাফিজ আল আসাদ, জেনারেল সুহার্তো, সাদ্দাম, সৌদ বংশের শাসকগণ, গাদ্দাফি, মোবারক, আইয়ুব খান, জিয়াউল হক, মোশাররফদের মতো বর্তমান ও সাবেক স্বৈরশাসকরা আমেরিকা-ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে টিকে আছে, টিকে ছিল। তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, ইরান, সিরিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির ঘটনা প্রবাহ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, এ দেশগুলোর স্বৈরশাসকদের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করা আমেরিকা-ব্রিটেনের লক্ষ্য নয়। [২]
[১] Pew Research Center
সুত্রঃ http://www.pewforum.org/2013/04/30/the-worlds-muslims-religion-politics-society-beliefs-about-sharia/
[২] মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রায়নের সঙ্কট ও সম্ভাবনা; খান শরীফুজ্জামা্ন
লেখক ও মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিবিষয়ক এমফিল গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; shoheldu412@gmail.com
সুত্রঃ https://www.facebook.com/notes/peoples-demand-to-the-sincere-military-officers/মুসলিম-বিশ্বে-গণতন্ত্রায়নের-সঙ্কট-ও-সম্ভাবনা-খান-শরীফুজ্জামান/486221801499196?id=465171920270851
• যে কটি মুসলিম দেশে এখন নামকাওয়াস্তে তথাকথিত গণতন্ত্র আছে সেগুলোর কোনোটিতেই গণতন্ত্র জনগণের মতামত নিয়ে আরোপ করা হয়নি। জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তা না হলে তারা জনগণের কাছে অপশন দিত যে, জনগণ কি ‘ইসলামি শাসন ব্যবস্থা’ চায়, নাকি ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ চায়। অর্থাত্ ইলেকশন আর গণতন্ত্র এক নয়। নির্বাচন হলো পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বোচ্চ সংগঠন রাষ্ট্রের নেতা খুঁজে বের করার একটি উপায়। যা একটি পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও ইসলামি ব্যবস্থা তথা সব ব্যবস্থার মধ্যেই গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচনের একটি উপকরণ মাত্র। ইলেকশন কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ পরিচালনরার আদর্শ নয়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিসর, ইরাক, ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানের মানুষ দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক অত্যাচার ও স্বৈরাচারী শাসকদের কারণে যথার্থভাবে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ না পাওয়ায় নির্বাচনে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। গণতন্ত্র আর ইলেকশন এক নয় বলেই পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন অপশন জনগণকে দেয়া হয়নি যে জনগণ পুঁজিবাদী গণতন্ত্র চায়, নাকি সমাজতন্ত্র চায়। [২]
• পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর মুসলিম বিশ্বের স্বৈরশাসকদের ক্ষমতায় নিয়ে আসা ও তাদের সব রকমের সহযোগিতা দিয়ে মসনদে টিকিয়ে রাখার বিষয়গুলো আজ বুঝতে আর কারও বাকি নেই। ওসমানিয় খিলাফতের পতনের পর মুসলিম ভূ-খণ্ডগুলো থেকে সম্পদ প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য ব্রিটিশ-ফ্রান্স-আমেরিকা কখনও স্বৈরশাসক আবার কখনও সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। মুসলিম বিশ্বের স্বৈরশাসকদের সঙ্গে আমেরিকার দহরম-মহরম সম্পর্কের কথা কারও না জানা নেই। জামাল আব্দুল নাসের, ইসলাম কারিমভ, হোসনে জাইম, করিম কাসেম, হাফিজ আল আসাদ, জেনারেল সুহার্তো, সাদ্দাম, সৌদ বংশের শাসকগণ, গাদ্দাফি, মোবারক, আইয়ুব খান, জিয়াউল হক, মোশাররফদের মতো বর্তমান ও সাবেক স্বৈরশাসকরা আমেরিকা-ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে টিকে আছে, টিকে ছিল। তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, ইরান, সিরিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির ঘটনা প্রবাহ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, এ দেশগুলোর স্বৈরশাসকদের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করা আমেরিকা-ব্রিটেনের লক্ষ্য নয়। [২]
[১] Pew Research Center
সুত্রঃ http://www.pewforum.org/2013/04/30/the-worlds-muslims-religion-politics-society-beliefs-about-sharia/
[২] মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রায়নের সঙ্কট ও সম্ভাবনা; খান শরীফুজ্জামা্ন
লেখক ও মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিবিষয়ক এমফিল গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; shoheldu412@gmail.com
সুত্রঃ https://www.facebook.com/notes/peoples-demand-to-the-sincere-military-officers/মুসলিম-বিশ্বে-গণতন্ত্রায়নের-সঙ্কট-ও-সম্ভাবনা-খান-শরীফুজ্জামান/486221801499196?id=465171920270851
মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৩
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে গনতন্ত্রপন্থীদের বিভ্রান্তির জবাব
হুদাইবিয়ার
সন্ধি সম্পর্কে গনতন্ত্রপন্থীদের বিভ্রান্তির জবাব ।
----------------------------------------------- আশা করি পড়বেন ও অবশ্যই
কমেন্ট করে বলবেন হুদাইবিয়ার সন্ধিটা দিয়ে কি গনতন্ত্র কে হালাল করা যাবে
???!!! আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক ইসলামী (!) দলগুলোর
নেতা কর্মীদের যখন গণতান্ত্রিক পন্থা, ধর্মনিরপেক্ষ বা জাতীয়তাবাদী
দলগুলোর সাথে জোট বাধা বা আপস করার ব্যপারে জিজ্ঞেস করা হয় তখন তারা
হুদাইবিয়ার সন্ধির কথা বলেন এবং এই সন্ধির দোহাই দিয়ে কুফর শক্তির সাথে
আপস বা জোট করার ব্যপারটা কে বৈধতা দান করেন। যদিও তাদের অনেককেই
হুদাইবিয়ার সন্ধিতে কি বলা হয়েছে বা এটি কি ধরনের সন্ধি সে ব্যপারে
জিজ্ঞেস করে কোন সদুত্তর পাইনি। যাই হোক হুদাইবিয়ার সন্ধির ব্যপারে কিছু
বলার আগে সন্ধিটির মূল বিষয়বস্তুগুলো একবার দেখে নেই। হিজরি ৬ষ্ঠ সনের
জিলকদ মাস। নবী করীম (সাঃ) চৌদ্দশ সাহাবীসহ উমরা পালন করার জন্য মক্কা রওনা
হলেন। মক্কার কাছাকাছি উসফান নামক স্থানে পৌছার পর রাসুল (সাঃ) কুরাইশদের
যুদ্ধ প্রস্তুতির খবর পান। সংঘাত এড়ানোর জন্য রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশে
সাহাবীগন দুর্গম পথ দিয়ে হুদাইবিয়া উপত্যকার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন।
সানিয়াতুল মুরার নামক স্থানে গিয়ে রাসুল(সাঃ) এর উট থেমে যায় এবং সেখানে
তিনি যাত্রাবিরতির নির্দেশ দেন। অপরদিকে কুরাইশদের পক্ষ থেকে সামরিক
অভিযানের হুমকি আসতে থাকে। একপর্যায়ে কুরাইশদের পক্ষ থেকে সুহায়ল ইবনে
আমরকে রাসুল (সাঃ) এর নিকট দূত হিসাবে পাঠান হয়। সন্ধির ব্যপারে
উভয়পক্ষের মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হলে শেষপর্যন্ত সেখানে সন্ধিচুক্তি লিপিবদ্ধ
হয় এবং নিম্ন লিখিত সমঝোতাগুলিই হুদাইবিয়ার সন্ধি হিসাবে পরিচিত হয়ঃ (১)
মুসলমানগণ এ বছর উমরা না করেই মদীনায় ফিরে যাবে। (২) আগামী বছর উমরার
জন্য এসে তারা তিন দিন মক্কায় অবস্থান করতে পারবে। (৩) মুসলমানরাকোষবদ্ধ
তলোয়ার নিয়ে আসবে, অন্য কোন অস্ত্র আনবে না এবং তাদের অবস্থানকালে
কুরাইশরা মক্কা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাবে। (৪) কুরাইশদের এবং মুসলমানদের
মধ্যে আগামী দশ বছর যুদ্ধ বন্ধ থাকবে। (৫) কুরাইশদের কেউ মদীনায় আশ্রয়
নিলে তাকে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু মদীনায় কোন মুসলমান মক্কায় আশ্রয় নিলে,
তাকে ফেরত দেয়া হবে না
(৬)
আরবের যেকোন গোত্রের লোক মুসলমানদের বা কুরাইশদের সাথে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ
হতে পারবে। [সীরাতে ইবনে হিশাম] হুদাইবিয়ার সন্ধি ছিল মুলত একটি পররাষ্ট্র
চুক্তি যা মদীনা ইসলামি রাষ্ট্র কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছিল। এই সন্ধিচুক্তি
ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে
ব্যবহৃত হয়নি। আর হুদাইবিয়ার চুক্তিতে কোন হারাম শর্ত থাকার প্রশ্নই আসে
না। কেননা সন্ধিটি আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর ইচ্ছায়
সম্পাদিত হয়েছিল। এঈ চুক্তির ব্যপারে রাসুল (সাঃ) উমর (রাঃ) কে বলেছিলেন,
“আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আমি তাঁর নির্দেশ কখনও লঙ্ঘন করবোনা আর তিনিও
আমাকে কখনও বিপথগামী করবেন না” [সীরাতে ইবনে হিশাম] তাই গণতন্ত্র বা কুফরি
মতবাদের সন্ধিচুক্তির সাথে হুদাইবিয়ার মত মহান চুক্তির কোন তুলনাই হতে
পারে না। সুতরাং যে সব সন্ধিচুক্তি বা জোট দ্বারা গণতন্ত্র, নারী নেতৃত্বকে
বৈধতা দেয়া হয়, জাতীয়তাবাদী বা ধর্মনিরপেক্ষ সরকারকে ক্ষমতায় বসানো
হয় তা শরীয়তের অকাট্য দলিল দ্বারা নিশ্ছিতভাবে হারাম। এ প্রসঙ্গে রাসুল
(সাঃ) এর হাদীস হল- “মুসলিমদের মধ্যে চুক্তি বৈধ – যদি চুক্তিতে এমন কোন
শর্ত না থাকে, যা হালালকে হারাম করে বা হারামকে হালাল করে” [তিরমিজী]
সুতরাং কতিপয় শায়খ, মুফতি, মুফাসসির বা মাওলানা দ্বারা এসব চুক্তি বা জোট
গঠিত হলেই তা যে বৈধ হবে এমন ভাবার কোন অবকাশ নেই। তাই কাউকে অন্ধ অনু্করন
করে নয় বরং কুরআন হাদিস ও ইসলামী মুলনীতি সমূহ কি বলে সেদিকে লক্ষ রেখেই
ইসলামী রাজনীতি করা উচিৎ। আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা আমাদের জ্ঞান অর্জন করার ও
অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৩
জাতীয়তাবাদ তথা আসোবিয়্যা
জাহেলিয়াতের ভিত্তিতে অর্জিত কোন বিজয় আর যাই হোক মুসলমানদের বিজয় হতে পারে না। যদিও আজকের সমাজ এবং পারিপার্শ্বিকতার বিচারে এই কড়া সত্যটা উচ্চারণ করার সাহস ইসলামপন্থী হওয়ার দাবীদার অনেক রথী মহারথীরও নেই। কিন্তু সত্য বলার ক্ষেত্রে ইসলাম আপোষহীন, ভয়হীন। কোন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মুসলিম কোরআন এবং হাদিসের সতর্কবার্তাগুলো অনুধাবনের পর জাহেলিয়াতের বিজয়গুলোকে নিয়ে গর্ব করবে না এবং নিজেকে ওসবের দিকে সম্পৃক্তও করবে না বরং তা নিজের জন্য লজ্জা ও অভিশাপ মনে করে ছুড়ে ফেলবে।
''জাতীয়তাবাদের ওপর যে মৃত্যুবরণ করে, জাতীয়তাবাদের দিকে যে আহ্বান করে এবং জাতীয়তাবাদের জন্য যে হত্যা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।''(সুনানে আবু দাউদ)
''যে জাতীয়তাবাদ তথা আসোবিয়্যার জাহেলী আহবানের দিকে মানুষকে ডাকে সে যেন তার পিতার লজ্জাস্থান কামড়ে ধরে পড়ে আছে (তাকে ছাড়তে চাইছে না)।
এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, এবং একথাটি লুকিয়ে রেখো না অর্থাৎ বলার ক্ষেত্রে কোনো লজ্জা বা অস্বস্তিবোধ করোনা।إِذَا الرَّجُلُ تَعَزَّى بِعَزَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَعِضُّوهُ بِهَنِ أَبِيهِ وَلَا تَكْنُواমুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১২৩৬
''রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এবং সাহাবাগণ(রাঃ) সবসময় উত্তম ভাষায় কথা বলতেন। এমনকি চরম তিরস্কার করার সময়েও উনারা বাক্য চয়নে সতর্ক থাকতেন। কিন্তু জাতীয়তাবাদ নিয়ে স্বয়ং রাসুল(সাঃ) এই ভাষা ব্যবহার করতে বলেছেন। কারণ প্রত্যেক মানুষ তাদের পিতার লজ্জাস্থান হতে নির্গত শুক্রানু হতে জন্ম নেয়। যখন সে বংশীয় ঐতিহ্যের অজুহাতে কিংবা পিতৃভূমি ও পিতৃ ভাষার কথা বলে সত্য অস্বীকার করে তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা পিতার লজ্জাস্থান কামড়ে ধরে থাকে।
কিছু মানুষের কথা শুনলে মনেহয় বংশের মুখে চুনকালি দিয়ে নিন্ম বংশীয় কন্যার হাত ধরে পলায়ন আর ইসলামের কারণে বংশীয় রীতি ত্যাগ করা একই রকম। মক্কার কাফের সর্দারদের অনেকেই শুধুমাত্র গোত্র প্রীতির কারণে সত্য জেনেও অস্বীকার করেছে। যার ফলে আবুল হাকাম বা জ্ঞানীদের পিতা উপাধি ধারন করা ওমর বিন হিশাম শেষ পর্যন্ত আবু জাহল বা মূর্খদের পিতা হিসাবে দুনিয়ার কাছে পরিচিত হয়।
বিভক্ত ভারত পাকিস্তানের মানুষ ৪৭এর চেতনা ধারন করে একে অপরকে ঘৃণা করতে থাকে। পরবর্তীতে বিভক্ত বাংলাদেশ ৭১ এর চেতনায় পাকিস্তান বিরোধিতায় চেতিয়া উঠে। অথচ দুই ক্ষেত্রেই যদি কেহ অপরাধ করে থাকে তা কিছু শাসক করেছে যারা কুফরের তাবেদারি করত। অথচ ঐ কুফর, কুফরি মতাদর্শ আর কুফরের দালালদের বদলে নির্দিষ্ট ভুমির মানুষ একে অপরকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে। বলা যায় ঐ একই কুফরি শক্তি আমাদের পরস্পরের মাঝে ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়েছে তাদের মিডিয়া ব্যবহার করে।
ভাষা যা আল্লাহর দান। এই ভাষা কোন ভুমির মানুষের সম্পত্তি নয়। এটা ভাব আদান প্রদানের মাধ্যম মাত্র। অথচ এখানে দুই দলকে বলা হল তোমাদের ভাষা উত্তম, শ্রুতিমধুর, সকল ভাষার সেরা এইসব। শাসকদের উস্কানো হল। তারা একটি ভাষার ব্যবহার কমিয়ে দিল। আবার অপর দল এই ভাষার জন্য জীবন দিয়ে দিল। কিন্তু সেই ভাষা যখন কিছু সিরিয়াল, সিনেমার মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তখন ঐ চেতনাধারি দেশপ্রেমিকের দল উচ্চবাচ্য করছে না।কারন এতে প্রভু অসন্তুষ্ট হবে।
যে ভুমির মাটি মায়ের শরীরের মত বলে হাজারো সঙ্গীতের ম্যাতকার শুরু করল শিল্পমনার দল। সেই ভুমি যখন একরের পর একর ভারত সরকার দখল করে তখন মায়ের অঙ্গহানি হয়না। মায়ের ধনসম্পদ যখন কিছু বহুজাতিক কোম্পানি লুটে নেয় তখন মায়ের কুলাঙ্গার সন্তানেরা বাদ্য বাজিয়ে চিয়ারলিড করে।
মূল কথা হল এই ভাষা আর ভুমি শুধুমাত্র আবেগ। এই আবেগকে ব্যবহার করে মনুষ্যরচিত বিধান চাপিয়ে দেয়া হয় আর লুটপাটের লাইসেন্স করে নেয়। অদূর ভবিষ্যতে হয়ত মার্কিন ভারত পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যে পৃথক খ্রিষ্টান রাষ্ট্র তথা জুম্মাল্যান্ড করার পরিকল্পনা হচ্ছে তা বাস্তবায়ন হবে। আর তারাও কোন এক সালের বিশেষ দিনে চেতনায় চেতিয়া চুং চাং করে গীত গাইবে। এইভাবে তারা বাংলাদেশকে হানাদার রাষ্ট্র হিসাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ঘৃণা করে যাবে। আর শত্রু রাষ্ট্র হিসাবে পররাষ্ট্র পর্যায়ে ক্ষমা চাইবার বিল পাশ হবে। আমরা ভিসা, পাসপোর্ট নিয়ে রাঙ্গামাটি হানিমুনে যাব।
আল্লাহ্ যেন ওইদিন দেখার পূর্বেই আমাদের খিলাফাহ রাষ্ট্র দান করেন। আমাদের যেন তৌফিক দেন ঐ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজ করার যার সীমানা হবে তুরস্ক থেকে ইন্দোনেশিয়া। যেখানে কোন বর্ডার থাকবে না। কোন নেতা পূজা থাকবে না। থাকবে কেবল মহান প্রতিপালকের প্রশংসাধ্বনি।
আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম
-রালফ রোভার
শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৩
গোলাম আহমদ মোর্তজার ৫টি বই PDF
ইতিহাসবিদ গোলাম আহমদ মোর্তজার ৫টি বই ও তাদের পিডিএফ লিঙ্ক
===========================================
সম্প্রতি Farabi Shafiur Rahman ভাই এবং বিভিন্ন পেজের মাধ্যমে অনেকেই গোলাম আহমদ মোর্তজার ইতিহাসভিত্তিক বইগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। কিন্তু তারা দিয়েছেন মাত্র একটি দুটি বইয়ের লিঙ্ক। গোলাম আহমদ মোর্তজার এপর্যন্ত পাঁচটি বই আমি ইন্টারনেটে পিডিএফ আকারে পেয়েছি। সেগুলোর লিঙ্ক আগ্রহী পাঠকদের জন্য দেয়া হলো।
১/ ইতিহাসের ইতিহাস: গোলাম আহমদ মোর্তজার সবচেয়ে নামকরা বই। ভারতের গতানুগতিক ইতিহাসবিষয়ক পাঠ্যপুস্তকগুলোতে যে মুসলিমবিদ্বেষী বানোয়াট তথ্যগুলো রয়েছে, সেগুলো তিনি প্রমাণসহকারে উপস্থাপন করেন। বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ যে ইংরেজদের দালাল ছিল, শিবাজি যে একটি নিষ্ঠুর ডাকাত ছিল সেগুলো তার বইতে প্রমাণসহকারে উপস্থাপন করা হয়েছিল। যার ফলে মিথ্যার ওপর ভর করে টিকে থাকা ভারতীয় হিন্দু সরকার ১৯৮১ সালে বইটি বাজেয়াপ্ত করে।
বইটির লিঙ্ক: http://www.banglainternet.com/other/ityhaser_ityhash_golam_ahmad_mortaza.pdf
২/ বাজেয়াপ্ত ইতিহাস: ইতিহাসের ইতিহাস বইটি ভারত সরকার বাজেয়াপ্ত করার পর গোলাম আহমদ মোর্তজা মানসিকভাবে দারুণ আহত হন। যার ফলে তিনি লেখেন তার ‘বাজেয়াপ্ত ইতিহাস’ বইটি। এই বইতে বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথদের দালালির আরও তথ্য দিয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন।
বইটির লিঙ্ক: http://www.banglainternet.com/other/bajeyapto_itihas.pdf
৩/ চেপে রাখা ইতিহাস: ইতিহাসের ইতিহাস বইটি ভারত সরকার বাজেয়াপ্ত করার পর বইটি পরিমার্জিত করে ‘চেপে রাখা ইতিহাস’ বইটি প্রকাশ করা হয়। এই বইটি পড়ার আগে ‘ইতিহাসের ইতিহাস’ বইটি পড়ে নেয়া ভাল। কারণ দুটো প্রায় একই বই, ইতিহাসের ইতিহাস বইটির লেখাগুলোই কপি করে ‘চেপে রাখা ইতিহাস’ লেখা হয়েছে কেবল কয়েকটি হিন্দু ঐতিহাসিকদের দেয়া তথ্য যোগ করে।
বইটির লিঙ্ক: http://www.banglainternet.com/other/chepe_rakha_ityhash.pdf
৪/ বজ্রকলম: এই বইটিতে গোলাম আহমদ মোর্তজা একটু হার্ডলাইনে লেখালেখি করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, যে ঋগ্বেদ নিয়ে হিন্দুরা এত গর্ব করে তার জন্ম হয়েছে আদতে ব্রিটিশআমলে। খ্রিস্টান বুদ্ধিজীবী ম্যাক্সমুলার রাশিয়া থেকে ঋগ্বেদের পুঁথি সংগ্রহ করে(!) তাকে লিখিতরূপ দিয়ে ভারতে প্রচার করা হয়েছিল, কারণ হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী বেদ লিপিবদ্ধ করা ছিল নিষেধ। এ বইতে আরো দেখানো হয়েছে, বাঙালি হিন্দুরা তাদের স্ত্রী ও পুত্রবধুদের গর্ভে ব্রিটিশ সন্তান জন্ম দিয়ে তাদের দ্বারা ব্রিটিশদের সহায়তা করিয়েছিল। মন্দিরে কালীমূর্তির রজঃস্রাব হচ্ছে, এ কথা বলে পুরোহিত কিভাবে ভক্তদের হাতে নিজের স্ত্রী ও মেয়েদের মাসিকের রক্তভেজা ন্যাকড়া তুলে দেয়, তারপর সেসব ন্যাকড়ার রক্ত হিন্দুরা কিভাবে তাদের মুখমণ্ডলে মেখেছিল পুণ্যের(!) আশায় সেসবের রোমহর্ষক কাহিনী রয়েছে এই বইটিতে।
বইটির লিঙ্ক: https://www.box.com/s/hf8ddij32ebz7wsn2j48
৫/ এ এক অন্য ইতিহাস: বজ্রকলম বইটির দ্বিতীয় খণ্ডটিই ‘এ এক অন্য ইতিহাস’ নামে প্রকাশ করা হয়েছিল। এ বইটিতেও বহু তথ্য পাওয়া যাবে।
বইটির লিঙ্ক: পার্ট-১: https://www.box.com/s/aszrbxixc79w3d5e9u3g
পার্ট-২: https://www.box.com/s/5ye5ukg5p4jvs4g3tihu
বইগুলো বাংলাদেশ থেকেও প্রকাশ করা হয়েছে। রকমারি ডট কমে গোলাম আহমদ মোর্তজার বেশ কয়েকটি বই অর্ডার দিয়ে কেনা যাবে।
http://rokomari.com/author/13477
উল্লেখ্য, গোলাম আহমদ মোর্তজা এমন একজন ব্যক্তি, যাকে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী হিন্দুরা প্রচণ্ড ভয় পায়। আমি বাঙালি হিন্দু পোস্ট পেজে দেখেছিলাম, পশ্চিমবঙ্গের একজন হিন্দু বলছে “আপনারা হিন্দু পেজগুলোতে কেবল জাকির নায়েককে নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গোলাম আহমদ মোর্তজার সামনে তো কেউই দাঁড়াতে পারে না। কারণ সে ইতিহাস সামনে রেখে কথা বলে।”
জাকির নায়েকের ভূমিকা রক্ষণাত্মক, গোলাম আহমদ মোর্তজার ভূমিকা অনেকটা আক্রমণাত্মক। রক্ষণাত্মক খেলা খেলে জাকির নায়েককে ভারত থেকে তার টিভি চ্যানেলসহ বহিষ্কৃত হতে হয়েছে। বিপরীতে গোলাম আহমদ মোর্তজাকে ভারত সরকার পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে রাখে এই ভয়ে যে, তার কোন ক্ষতি হলে তার দায় অবধারিতভাবে ভারত সরকারের কাঁধে এসে পড়বে, যেহেতু ভারত সরকারই তার বই বাজেয়াপ্ত করেছিল।
https://www.facebook.com/rajdarbaar/posts/678506775528054
ব্যাকআপ রেখে দিলাম, ইনশাআল্লাহ পরে নামিয়ে নিবো। http://lifebd24.com/data/7211/Golam-Ahmad-Mortaza.html
http://www.amardeshonline.com/pages/printnews/2013/09/04/214965
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)

![খিলাফত ব্যবস্থা কি মাত্র ত্রিশ বছর টিকে ছিল?
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে সারা বিশ্বের নেতা রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সা) এর হাতে প্রথম ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তা ১৯২৪ সালের ৩ মার্চ বিশ্বাসঘাতক কামাল আতাতুর্কের হাতে তা ধ্বংস হয়। খুলাফায়ে রাশেদিনের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা বা খিলাফত ব্যবস্থা যে ধারাবাহিকভাবে টিকেছিল তা ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও শরীয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করলে তা আমাদের কাছে বোধগম্য হবে।
আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে এ ব্যবস্থার ধারাবাহিক অস্তিত্ব বুঝতে চাই, তাহলে দেখতে হবে প্রথমতঃ এ ব্যবস্থার কাঠামো কি ইতিহাস জুড়ে টিকেছিল কিনা। দ্বিতীয়তঃ এ কাঠামোতে সময়ের আবর্তে কি কোন পরিবর্তন এসেছে কিনা। রাসুল (সা) ও খুলাফায়ে রাশেদিনের সময়ের ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান স্তম্ভগুলো হল:
১। খলীফা বা রাষ্ট্রপ্রধান
২। খলীফার প্রতিনিধিত্বকারী সহকারী (মু’ওয়ায়ীন আত তাফউঈদ)
৩। খলীফার নির্বাহী সহকারী (মু’ওয়ায়ীন আত তানফীয)
৪। গভর্ণরবৃন্দ (উলাহ্)
৫। আমীর-উল-জিহাদ
৬। বিচার বিভাগ
৭। প্রশাসনিক বিভাগ
৮। উম্মাহ্ কাউন্সিল (মাজলিস আল-উম্মাহ্)
তাই আমরা যদি ১৯২৪ সাল পর্যন্ত ১৩০০ বছরের ইতিহাসের চুলচেরা বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখতে পাই পরামর্শ সভা মাজলিস আল উম্মাহই শুধু বিভিন্ন সময়ে উপেক্ষিত বা অবহেলিত ছিল। খুলাফায়ে রাশেদিনের পর মাজলিস আল উম্মাহর প্রতি কিছু সংখ্যক খলীফার উদাসীনতার অর্থ এই নয় যে, পরামর্শ সভা না থাকলেই ব্যবস্থা হিসেবে খিলাফতের অবসান হয়ে গেল। অন্য সব স্তম্ভ টিকে থাকলে মাজলিসুল উম্মাহ বা শুরা ছাড়াও ইসলামী শাসন ব্যবস্থা চলতে পারে, যদিও শুরা উম্মাহর অধিকার। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংকট, গৃহযুদ্ধ ও বিদেশী সেনাবাহিনীর আগ্রাসন ঘটলেও এমন কখনো হয় নি যে, মুসলিমরা খলীফা বিহীন ছিল।
নিজের পুত্রকে খলীফা হিসেবে মনোনয়ন দেয়া বা বংশীয় শাসনের অভিযোগ খানিকটা সত্য এবং এটাও সত্য যে, খলীফা নিয়োগের বায়াতের পদ্ধতিতেও কখনো কখনো অনিয়ম দেখা যায়। কিন্তু এটা খিলাফতের ধারাবাহিকতাকে কখনো প্রভাবিত করতে পারেনি। অনেক সময় এমনও ঘটেছে যে, খলীফা তার ছেলেকে যোগ্য মনে করলে তার মৃত্যুর আগেই জনগণের কাছ থেকে ছেলের জন্য বায়াতের শপথ আদায় করেছিলেন। পরবর্তীতে তা আবার নবায়ন করেছেন। এ বাই’য়াত মূলত প্রভাবশালী লোকজন এবং জনপ্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করত।
খুলাফায়ে রাশেদিনের পর খিলাফত টিকে থাকার কথা ইসলামী আলেমরাও স্বীকার করেছেন। যদিও এদের মধ্যে দু একজন তিরমিযী শরীফের একটি হাদীসের কারণে প্রথম চার খলীফার পর পরবর্তী খলীফাদের ক্ষেত্রে “খলীফা” শব্দটি ব্যবহার করতে অপছন্দ করতেন। সে হাদীসটি হল: রাসুল (সা) বলেছেন, “আমার পর আমার উম্মাহর মধ্যে ৩০ বছর পর্যন্ত খিলাফত থাকবে তারপর শুরু হবে বংশীয় আকড়ে ধরা শাসন (মুলকান আদ্দান) [একই বর্ণনা-সুনানে আবু দাউদ (২/২৬৪) এবং মুসনাদে আহমদ (১/১৬৯) থেকেও পাওয়া যায়।] ইসলামী বিশারদগণ ব্যাখ্যা করেন যে, যেহেতু এ হাদীসটি এ বিষয়ক অন্যান্য হাদীসের সঙ্গে আপাত দৃষ্টিতে সাংঘর্ষিক মত প্রদান করে তাই এই হাদীসের গূঢ় অর্থ ৩০ বছর পর খিলাফত ব্যবস্থা শেষ হয়ে যাবে তা নিশ্চিতভাবে বোঝাচ্ছে না।
জাবির বিন সামুরাহ (রা) বর্ণনা করেন, “রাসূল (সা) বলেন, দ্বীন ইসলাম ততদিন পর্যন্ত টিকে থাকবে যতদিন না আল্লাহর নির্ধারিত ক্ষণ উপস্থিত হয় অথবা কুরাইশ বংশীয় বারজন খলীফা তোমাদেরকে শাসন না করে” [সহীহ মুসলিম]।
এ হাদীস থেকে বোঝা যায় মুসলমানদের চার পাঁচ জন নয় বরং একাধিক সংখ্যক খলীফা শাসন করবেন। এ হাদীস অনুসারে খিলাফত ব্যবস্থা শুধু ত্রিশ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা বাস্তব সম্মত নয়। এ হাদীসের ব্যাখ্যায় কাজী আইয়াদ বলেন, “এই হাদীসটিতে যেখানে বলা হয়েছে ‘আমার পর খিলাফত ৩০ বছর টিকে থাকবে, এর পর শুরু হবে বংশীয় শাসন’ যা পুর্ববর্তী এই হাদীসটির সাথে সাংঘর্ষিক- ‘যত দিন না কুরাইশ বার জন খলীফা উম্মাহকে শাসন করে, ইসলামী দ্বীন ততদিন টিকে থাকবে’। [সহীহ মুসলিম] এ সাংঘর্ষিক মনে হওয়া বিবৃতির সমাধান হল - ৩০ বছর খিলাফত টিকে থাকবে নবুয়্যতের আদলে অর্থাৎ সঠিকভাবে পরিচালিত খিলাফত ব্যবস্থার আদলে। বাস্তবে এই ত্রিশ বছর হযরত আবু বকর (রা) থেকে হাসান বিন আলী (রা) এর শাসনকালকেই বোঝায়। [এভাবেই আন-নববী তার সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যার মধ্যে উল্লেখ করেছেন পৃষ্ঠা-৮২১। পাঠক লক্ষ্য করুন এ ত্রিশ বছরে চার জন নয় বরং পাঁচ জন খলীফা উম্মাহকে শাসন করেছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে রাসূল (সা) বলেন, “বনী ইসরাইলকে শাসন করতেন নবীগণ, যখন এক মৃত্যুবরণ করতেন তখন তার স্থলে অন্য নবী আসতেন, কিন্তু আমার পর আর কোন নবী নেই। শীঘ্রই খলীফারা আসছেন এবং তারা সংখ্যায় হবেন অনেক। তারা (রা) (সাহাবীরা) জিজ্ঞেস করলেন, তখন আপনি আমাদের কী করতে আদেশ দেন? তিনি (সা) বললেন, তোমরা তাদের একজনের পর একজনের বায়’আত পূর্ণ করবে, তাদের হক আদায় করবে”। (বুখারী, মুসলিম)
উল্লিখিত হাদীস থেকে বোঝা যায় রাসুল (সা) এর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী না আসায় কার তত্ত্বাবধানে মুসলমানদের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হবে সেটা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং সেটা হচ্ছে খিলাফত ব্যবস্থা ও খলীফার তত্ত্বাবধানে।
১২ জন খলীফার বিষয়টিও কাযী আইয়াদ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন ‘সম্ভবত হাদীসটিতে যে ১২ জন খলীফার কথা বলা হয়েছে – তারা হল এমন ১২ জন খলীফা যাদের শাসনকালে ইসলামের শৌর্য-বীর্য বৃদ্ধি পেয়েছিল-উম্মাহ ঐ সকল নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং সর্বোপরি খলীফা হিসেবে উম্মাহর দেখাশুনাও তারা ঠিকভাবে করেছিলেন। [আস সুয়ূতি তারীখ আল খুলাফা, পৃষ্ঠা: ১৪]
ইবনে হাজার বলেন, “এই হাদীসটি সম্পর্কে যে কয়েকজন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তার মধ্যে কাযী আইয়াদের যুক্তি সবচেয়ে শক্তিশালী কারণ রাসূল (সা) এর কিছু সংশ্লিষ্ট সহীহ হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়েই তিনি যুক্তি তুলে ধরেছেন। যেমন: এ সম্পর্কে রাসূল (সা) বলেন, লোকেরা তাদেরকে কেন্দ্র করে একত্রিত হবে......”। (ফাতহুল বারী) এর পাশাপাশি ইবনে হাজার কয়েকজন খলীফার উদাহরণসহ ঐতিহাসিক সত্যতা তুলে ধরেন।
ইমাম শাফে’ঈ (র) এর অনুসারী ফিকহ বিশেষজ্ঞ সাইফ-উদ-দ্বীন আল আমিদি তার বইয়ের মধ্যে (আল ইমামা মিন আবকার আল আফকার ফি উসুল আদ দিন, পৃ-৩০৬) সংশ্লিষ্ট হাদীসটির ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, এ হাদীসটিতে বলা হয়েছে ‘আমার খিলাফত থাকবে ৩০ বছর তারপর এতে বংশীয় শাসনের রীতি আসবে’। এ হাদিসটিতে চার খলীফা [আবু বকর, উমর, উসমান, আলী (রা)] পর্যন্ত খিলাফত ব্যবস্থা টিকে থাকবে তা বোঝায়নি। এবং এই হাদীসটি দিয়ে শুধু এ কথাও বোঝায়নি যে, চার খলীফার সময় পর্যন্ত খিলাফত ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকবে। বরং রাসূল (সা) বুঝিয়েছেন-তাঁর পর কোন প্রকার বিচ্যুতি ছাড়া তাঁর নেতৃত্বের ধরণ (সুন্নাহ অনুসারে) ইমাম বা খলীফারা উল্লেখিত সময় পর্যন্ত নেতৃত্ব দেবেন। এর পর বেশীর ভাগ শাসকরাই উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ অলংকৃত করে শাসন করবেন। তা সত্ত্বেও যে খিলাফত ব্যবস্থা টিকে ছিল তা নিচের দুটি বিষয় থেকে বোঝা যায়।
প্রথমতঃ পরবর্তী সকল সময়ে উম্মাহর মধ্যে এ ব্যাপারে ঐক্যমত ছিল যে তাদের একজন ইমাম বা খলীফা থাকতে হবে এবং তাকে মানা আবশ্যক।
দ্বিতীয়তঃ তিনি (সা) বলেছেন, ‘তারপর আসবে (তাসির) মুলকান’। এখানে যে বাক্যাংশটি ব্যবহার করা হয়েছে সে ‘তাসিরু মুলকান’ (تصير ملكا) দিয়ে খিলাফতকেই নির্দেশ করা হচ্ছে। উল্লিখিত ক্রিয়াটি (তাসিরু) খিলাফতকে ছাড়া অন্য কোন কিছুকেই বোঝায় না। এ দিয়ে আরও প্রতিপন্ন হয় না যে খিলাফতই ‘মুলকে’ পরিণত হবে। কেননা একটি বিষয় অন্য বিষয়ে পরিণত হতে গেলে প্রথম বিষয়টির অস্তিত্বে থাকা অবশ্যই জরুরী। এখানে প্রথম উল্লিখিত বিষয়ে ইমাম আমিদি ব্যাখ্যা করেন, দলিল অনুসারে উম্মাহকে অবশ্যই সে যুগের ইমামকে (খলীফাকে) মানতে হবে। এটা দিয়ে অবশ্যই এক খলীফার পর আরেক খলীফা আসার বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ করা হয় নি। আমিদির দ্বিতীয় যুক্তি হল ভাষাতাত্ত্বিক। উক্ত হাদিসটির বক্তব্য হল- খিলাফতের চরিত্র বা প্রেক্ষিত পরিবর্তিত হয়েছে; খিলাফত ব্যবস্থা নিজে নয়। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে যেমন: ‘তারপর তারেক রেগে গেল’ (ثم يصير طارق غاضبا) এখানে তারেকের অবস্থান বা গুণগত অবস্থার পরিবর্তন বুঝিয়েছে। অর্থাৎ তারেক রেগে গিয়ে আলী বা উমরে পরিণত হতে পারে না। একইভাবে হাদিসটিতে যখন বলা হয়েছে “ছুম্মা তাসিরু মুলকান” এর অর্থ হল এবং ‘এরপর আসবে বংশীয় শাসন’ এ বাক্যাংশ দিয়ে কখনো বোঝা যায় না যে খিলাফত ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেল। বরং ঐ ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন আসাকে বোঝায়।
৯০৩ হিজরিতে খলীফা মুতাওয়াক্কিল আবুল-’ইজ মৃত্যুবরণ করেন। তার স্থানে তার ছেলে আল মুসতামসিক বিল্লাহ খলীফা নিযুক্ত হন। এ সময়ে বিখ্যাত ইসলামী পণ্ডিত ইমাম জালাল আল-দিন সুয়ুতি তারীখ আল খুলাফা (খলীফাদের ইতিহাস) বইয়ে তখন পর্যন্ত খলীফা হসেবে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি এ বইয়ের সূচনায় বলেন, “আবু বকর (রা) এর মৃত্যুর পর থেকে এ পর্যন্ত যত খলীফা শাসন করেছেন এখানে সংক্ষেপে সে সব খলীফাদের জীবনী তুলে ধরলাম। যারা ছিলেন বিশ্বাসীদের নেতা (আমীর উল মু’মিনিন) যারা উম্মাহর সকল বিষয় নিয়ে দেখাশুনা করতেন”। তার এই বই লেখার সময়টা ছিল হিজরতের ৯০০ বছর পর। সমস্ত খিলাফতের সময়কাল জুড়েই তৎকালীন খলীফাদের সাথে ইসলামী পণ্ডিতদের যোগাযোগ ছিল। কেউ কেউ খলীফাদের বিভিন্ন কাজের কৈফিয়ত বা ইসলামী ব্যাখ্যা চাইতেন। আবার কেউ কেউ তাদের শাসন কাজে সরাসরি সহযোগিতা করতেন। উদাহরণ দিয়ে বলা যায় - ইমাম আবু হানিফা খলীফা আল মানসুরের এক সিদ্ধান্তের কৈফিয়ত চেয়েছিলেন। কাজি আবু ইউসুফ খলীফা হারুন অর রশিদের শাসন আমলে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মুসতানসির বিল্লাহ তাতারদের পরাজিত করার পর আল-’ইজ বিন আব্দুস সালাম তার নিকট বায়’আত গ্রহণ করেছিলেন।
উসমানীয় খিলাফতের শেষের দিকে পশ্চিমা পুঁজিবাদী শক্তিগুলো যখন মুসলিমদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিল দেয়ার ষড়যন্ত্রে মগ্ন ছিল তখন মাওলানা কাশিম নানুতবি (র) এর সরাসরি ছাত্র ও দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান মাওলানা মুহাম্মদ হাসান (র) ১৯২০ সালে ইসলামের শত্রুদের সাম্রাজ্যবাদী ছোবল থেকে উসমানীয় খিলাফতকে রক্ষা করার জন্য মুসলিমদের উদ্দেশ্যে এক ফতোয়া জারি করেন। সম্মানিত মাওলানা হাসান বলেন ‘ইসলামের শত্রুরা ইসলামের সম্মান ও প্রতিপত্তি ধ্বংস করতে চেষ্টার ত্রুটি করছে। ইরাক, ফিলিস্তিন, সিরিয়ার উপর তাদের লোভাতুর দৃষ্টি পড়ছে। মুসলমানদের খলীফা – যিনি সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করেন, পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি, ইসলামের সার্বজনীন আইন বাস্তবায়নকারী; যিনি মুসলিমদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করেন এবং সৃষ্টিকর্তার সম্মানিত বাণী পৃথিবীর বুকে রক্ষা ও বাস্তবায়নকারী, সেই খলীফারা আজ শত্রু বেষ্টিত ……… [মাওলানা সাইদ মুহাম্মদ মিয়ার “দ্যা প্রিজনার অফ মাল্টা” বইয়ে ২৯ অক্টোবর ১৯২০ সালে জারিকৃত ফতোয়াটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন, পৃষ্ঠা ৭৮]
খিলাফত আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা মাওলানা মুহাম্মদ আলি যোহার খিলাফত সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “তুরস্কের খলীফারা হল রাসূল (সা) এর উত্তরাধিকারী। মুমিনদের নেতা বা বিশ্বাসীদের প্রধান। যার অস্তিত্বের কথা কুরআন ও রাসূলের সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। (মোহাম্মদ আলী যোহার, মাই লাইফ এ ফ্র্যাগমেন্ট)। এ প্রসঙ্গে উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলান আবুল কালাম আজাদের ১৯২০ সালে খিলাফত নিয়ে লেখা “দ্যা ইস্যু অব খিলাফত” বইয়ের শুরুতেই লিখেন, খিলাফত ছাড়া ইসলামের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। ইন্ডিয়ার মুসলমানদের উচিত তাদের সর্বোশক্তি ও সামর্থ্য দিয়ে খিলাফত রক্ষা করার জন্য কাজ করা”। বইটির মধ্যে আবু বকর (রা) থেকে শুরু করে ১৯২০ সাল পর্যন্ত সকল খলীফার একটি তালিকাও তিনি সংযোজন করেন। খিলাফতের শেষ পর্যায়ে এসেও তাই আমরা দেখতে পাই খিলাফত টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে উলামারা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ছিলেন। খুলাফায়ে রাশেদিনের পর খিলাফতের ধারাবাহিকতা থাকাটা আহলুস সুন্নাতের বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ প্রসঙ্গে শাফি মাযহাবের ইমাম আত-তাফতাজানী হানাফী মাযহাবের ইমাম আন নাসাফির চিন্তার সঙ্গে সম্পুর্ণ একমত পোষণ করেন। এ বিষয়ে আত-তাফতাজানী বলেন, উম্মাহর জন্য একজন ইমাম নিয়োগ করা যে বাধ্যতামূলক সে বিষয়ে সকল ইমামের মধ্যে মতৈক্য আছে। কারণ রাসূল (সা) বলেছেন, “যে ব্যাক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে তার কাঁধে কোন খলীফার বায়’আত (আনুগত্যের শপথ) নেই তবে তার মৃত্যু হচ্ছে জাহেলিয়াতের মৃত্যু” (মুসলিম)। আত-তাফতাজানী আরও বলেন, “মুসলিমদের একজন ইমাম থাকা বাধ্যতামূলক যিনি মুসলমানদের প্রশাসন পরিচালনা করবেন। যিনি মুসলিমদের জন্য নির্দেশিত ডিক্রিগুলো রক্ষা করবেন, মুসলিমদের ভৌগলিক সীমানা সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করবেন, মুসলিম সেনাবাহিনীকে যথাযথ সামরিক সরঞ্জামে সুসজ্জিত রাখবেন, জনগণের দানের অর্থ গচ্ছিত রাখবেন, জুম্মাহর নামাজ ও প্রধান প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিবেন, সৃষ্টিজগতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবেন, বৈধ অধিকার রক্ষার পক্ষে তিনি প্রমাণাদি গ্রহণ করবেন। অভিভাবকহীন যুবক যুবতীদের নিজ অভিভাবকত্বে বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। [আকিদাত অ্যান নাসাফিয়া পৃঃ ১৪৭]
ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও দলীলের নিরীখে ইমাম তাফতাজানী বক্তব্য যে ঠিক তা বোঝা যায়। একজন খলীফা নিয়োগ করা মুসলিমদের জন্য বাধ্যতামূলক যা রাসূল (সা) এর সুন্নাহেরই প্রতিফলন। তাই উল্লেখিত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বলা যায় আমাদের সমাজে খিলাফতের কাল “ত্রিশ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ” ছিল তা নিতান্তই অবাস্তবিক, অযৌক্তিক ও অলীক অনুমান ছাড়া আর কিছুই নয়। খিলাফত ব্যবস্থা উম্মাহকে দেখাশুনার ব্যবস্থা হিসেবে রাসূল (সা) এর ওফাতের পর উসমানীয় খিলাফতের আমল পর্যন্ত টিকেছিল।](https://fbcdn-sphotos-f-a.akamaihd.net/hphotos-ak-prn2/960078_675407659170167_714720433_n.jpg)


![সম্প্রতি পিউ রিসার্চ অনুযায়ী বাংলাদেশের ৮২% মানুষ রাষ্ট্রীয় সংবিধান হিসেবে 'শরিয়া'কে বাস্তবায়িত হিসেবে চায়। [১] শরিয়ার প্রতি এতো সমর্থন থাকার পরেও আমরা কেন শরিয়া প্রতিষ্ঠা করতে পারছিনা। এর কিছু কারণ তুলে দেয়া হলঃ
• যে কটি মুসলিম দেশে এখন নামকাওয়াস্তে তথাকথিত গণতন্ত্র আছে সেগুলোর কোনোটিতেই গণতন্ত্র জনগণের মতামত নিয়ে আরোপ করা হয়নি। জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তা না হলে তারা জনগণের কাছে অপশন দিত যে, জনগণ কি ‘ইসলামি শাসন ব্যবস্থা’ চায়, নাকি ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা’ চায়। অর্থাত্ ইলেকশন আর গণতন্ত্র এক নয়। নির্বাচন হলো পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বোচ্চ সংগঠন রাষ্ট্রের নেতা খুঁজে বের করার একটি উপায়। যা একটি পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও ইসলামি ব্যবস্থা তথা সব ব্যবস্থার মধ্যেই গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচনের একটি উপকরণ মাত্র। ইলেকশন কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ পরিচালনরার আদর্শ নয়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিসর, ইরাক, ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানের মানুষ দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক অত্যাচার ও স্বৈরাচারী শাসকদের কারণে যথার্থভাবে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ না পাওয়ায় নির্বাচনে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। গণতন্ত্র আর ইলেকশন এক নয় বলেই পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এমন অপশন জনগণকে দেয়া হয়নি যে জনগণ পুঁজিবাদী গণতন্ত্র চায়, নাকি সমাজতন্ত্র চায়। [২]
• মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক ছিল উসমানিয়া খিলাফত। ১৯২৪ সাল নাগাদ মুসলিমদের রাজনৈতিক উদাসীনতা ও দীর্ঘমেয়াদি পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের কারণে ভেঙে পড়ে খিলাফত ব্যবস্থা। যে ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক ছিল সামরিক বাহিনীর সদস্য কামাল আতাতুর্ক। খিলাফতকে ভেঙ্গে তুরস্ককে সেকুলারাইজ করারও মূল নায়ক। ষড়যন্ত্র সফল হওয়া ১৯২৪ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব লর্ড কার্জন পার্লামেন্টে সদম্ভে ঘোষণা করেছিলেন,‘বাস্তবতা এমন যে, তুরস্ক আজ মৃত, আর কখনো সে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। কারণ, আমরা তার নৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করে দিয়েছি, আর তার নৈতিক শক্তি ছিল খিলাফত ব্যবস্থা ও ইসলাম।’ (“The situation now is that Turkey is dead and will never rise again, because we have destroyed its moral strength, the Caliphate and Islam”.) লর্ড কার্জন সতর্ক করে বলেন, আমাদের সে সব বিষয়গুলোও ধ্বংস করতে হবে যা মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। কার্জনের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি ৬ অক্টোবর, ২০০৫ আমরা ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রসচিব চার্লস ক্লার্কের হেরিটেজ ফাউন্ডেশন (British Home Secretary Charles Clarke) বক্তব্যের মাঝেও পাই। তিনি বলেন, খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শরিয়া আইন বাস্তবায়নের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হতে পারে না ঐ পথে হাঁটার ব্যাপারে মুসলিমদের হুশিয়ারি করা হয়েছে।” অর্থাত্ উপরোক্ত বক্তব্য থেকে বোঝা যায় খিলাফতের পতন ছিল মুসলিম বিশ্বেও মানুষের জন্য একটা টার্নিং পয়েন্ট। মূলত এরপর থেকে শুরু হয় পশ্চিমা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর মুসলিম ভূ-খণ্ড দখল ও সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা। সশস্ত্র আগ্রাসন ও অসমযুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয় এ রাষ্ট্রগুলোর উপর। নির্বিচারে শুরু হয় আবাল-বৃদ্ধা-বণিতা-যুবকদের নিষ্পেষণ, ধর্ষণ ও গণহত্যার উত্সব। আফগানিস্তান ও উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং সর্বশেষে ৯/১১ পর তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এ অঞ্চলের ঘটনা প্রবাহে নতুনমাত্রা সৃষ্টি করেছে। যাই হোক, খিলাফতের পতনের পর মুসলিম বিশ্বে সৃষ্টি হয় ‘ভ্যাকুম অব পলিটিক্যাল সিস্টেম অ্যান্ড পলিটিক্যাল লিডারশিপ’ (vacuum of political system and political leadership). ফলে শুরু হয় সামরিক শাসন, রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র ও সর্বশেষে পুতুল সরকার ব্যবস্থা। তবে, এসব ব্যবস্থার অনুকূলে পশ্চিমা পুঁজিবাদী শাসক গোষ্ঠীর প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় ও ইন্ধন ছিল, এখনও আছে, যারা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের সাম্য ও স্বাধীনতার এক অলীক ধারণা বিকিয়ে যাচ্ছে মুখরোচক আলোচনার টেবিলে। [২]
[১] Pew Research Center
সুত্রঃ http://www.pewforum.org/2013/04/30/the-worlds-muslims-religion-politics-society-beliefs-about-sharia/
[২] মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্রায়নের সঙ্কট ও সম্ভাবনা; খান শরীফুজ্জামা্ন
লেখক ও মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিবিষয়ক এমফিল গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; shoheldu412@gmail.com
সুত্রঃ https://www.facebook.com/notes/peoples-demand-to-the-sincere-military-officers/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%9F-%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8/486221801499196?id=465171920270851](https://fbcdn-sphotos-e-a.akamaihd.net/hphotos-ak-prn2/s526x395/1512607_486184428169600_105160915_n.png)