শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

জামাত/শিবিরকে অপছন্দ করি কেন?





 

*আমরা কেন জামাত/শিবিরকে অপছন্দ করি অথবা আমাদের কেন জামাত/শিবিরকে অপছন্দ করা উচিত?
‪#‎এর‬ উত্তর বুঝতে হলে, আগে কয়েকটা বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে।
প্রথমত, ইসলাম কেন এসেছে?
এই প্রসঙ্গে সূরা তওবার ৩৩ নাম্বার আয়াতটা দেখতি পারি।

"তিনিই প্রেরন করেছেন আপন রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।"(9:33)
সুতরাং এটা স্পষ্ট যে ইসলাম এসেছে অন্য সকল দ্বীনের উপর জয়ী হতে,শাসন করতে। আমরা রাসূল সাঃ এর সিরাত/জীবনি থেকে দেখতে পাই যে, তিনি পৃথিবীর একটা বড় অংশ জুরে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করেছেন তথা বিজয় করেছেন।
দ্বীতিয়ত, রাসূল সাঃ কিভাবে ইসলামকে অন্যান্য দ্বীনের উপর জয়ী করেছেন?
তার জীবন থেকে আমরা দেখতে পাই যে ইসলামকে বিজয়ী করতে রাসূল সাঃ দাওয়াত এবং জিহাদ ব্যাতিত অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করেন নি।
সুতরাং এটাও স্পষ্ট যে, দ্বীন কায়েমের সঠিক পথ হল দাওয়াত এবং জিহাদ। কারন রাসূল সাঃ এভাবে দ্বীন কায়েম করেছেন। অন্য কোন পন্থা অবলম্বন কললে তা বিদাআত (নব্য আবিষ্কৃত ইবাদাতই বিদাআত) হবে। এবং এই বিদাআতের মাধ্যমে ভংঙ্কর কোন কুফরিতে জরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এখন আসি জামাত প্রসঙ্গে। তারা ইসলাম কায়েম করতে চায় শয়তানের (আব্রাহাম লিংকনের তরিকায়/পন্থায়। অর্থাত্‍ প্রচলিত গনতন্ত্রের মাধ্যমে) তরিকায়। অথচ রাসূল সাঃ এ ধরনের কোন পন্থা অবলম্বন করেন নি দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করতে। 'গনতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েম সম্ভব কি সম্ভব না?' এই প্রশ্নে যাওয়ার আগেই আমাদের বুঝতে হবে যে, ইসলাম অনুসারে এই পন্থা ডিসকোয়ালিফাইড।
প্রসঙ্গক্রমে একটা উদাহরন দেওয়া যায়। আপনি একটি 'ইঞ্জিন চালিত' গাড়ির রেসে অংশগ্রহন করেছেন। কিন্তু সবাই অবাক হয়ে দেখলো যে, আপনি ইঞ্জিন চালিত কোন গাড়ির বদলে একটি ঠেলাগাড়ি নিয়ে রেসে নামলেন। এখন কথা হল, আপনি রেসে জয়ী হওয়া তো দূরের কথা, অংশগ্রহনই করতে পারবেন না। রেস কতৃপক্ষ আপনাকে ডিসকোয়ালিফাইড ঘোষনা করবে। কারন, তাদের রেসে অংশ নিতে যেসব নিয়ম মানতে হবে আপনি তা মানছেন না। জামাতও একই ধরনের কাজ করছে। দ্বীনকে বিজয়ের রেসে তারা এমন একটা পন্থা বেছে নিয়েছে যা কতৃপক্ষ (ইসলামি শরিয়াহ) কতৃক ডিসকোয়ালিফাইড হিসেবে গন্য হবে।
আরো একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়। ধরি, নির্বাচনে জামাত জয়লাভ করলো। এখন তারা কিভাবে ইসলামি আইনগুলো চালু করবে? সংসদে তাদের একজন নেতা দাড়িয়ে একটা আইন উত্থাপন করবেন এবং অন্যান্য সকলে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে সেই আইনটিকে জয়যুক্ত করবেন (সাধারনত যেভাবে হয়ে থাকে সংসদে)। এখানে তাহলে বিধান দিল কে? অবশ্যই জামাতের নেতারা।
কিন্তু সূরা ইউসুফের ১২ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবা. স্পষ্ট করে বলেছেন, "বিধান দেওয়ার মালিক একমাত্র তিনিই"।
তাহলে এটা কি শির্ক হবেনা?

এছাড়া ইসলামে নারী নেতৃত্ব হরাম। অথচ তারা তা মেনে নিয়েছে।[সে জাতি সফলকাম হয় না, যাদের প্রধান হল নারী।তিরমিযী(হাদীস নং-2262), বুখারী(হাদীস নং-6686),নাসায়ীকুবরা(হাদীস নং-5937),বায়হাকী কুবরা(হাদীস নং-4907)]
এছাড়াও তাদের ভিতর কিছু মুনাফিকের লক্ষন দেখা যায়। শাইখ জাওয়াহিরীর বক্তব্যের আগে তাদের মুখে আল কায়েদার প্রসংশা শোনা গেলেও বক্তব্যের পরে তা পুরো পাল্টে যায়। এগুলো অবশ্যই মুনাফিকের লক্ষন।
এসব কারনেই আমরা জামাত/শিবিরকে অপছন্দ করি।

 আমাদের মানদন্ড হচ্ছে ইসলামি শরিয়াহ যা অপরিবর্তনীয়। আমাদের কাজ হল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা। সেভাবে কাজটা করতে হবে যেভাবে আল্লাহ বিধান দিয়েছেন এবং রাসূল সাঃ কাজ করেছেন। আমরা আল্লাহর বিধানে 'প্রচলিত গনতন্ত্রের' মত কোন বিধান পাই না।

আমাদের একটা জিনিস বুঝতে হবে
যে, 'গনতন্ত্র হচ্ছে একটি দ্বীন বা জীবন ব্যাবস্থা'। ইসলাম যেমন একটি দ্বীন, গনতন্ত্রও তেমন একটি দ্বীন। আমাদের দেশের সংবিধান ২৫০ টির চেয়েও বেশি আইন আছে যা ইসলামি শরিয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক। যেমন চোরের হাত কাটার বিধান, ধর্ষকের মৃত্যুদন্ডের বিধান ইত্যাদি ইত্যাদি। এরা (গনতান্ত্রীক সরকার) নিজেদেরকে আল্লাহর স্থানে বসিয়ে আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে নিজেদের মত কর আইন করে নিয়েছে।

হিন্দু ধর্ম পালন করে যেমন ইসলামের বিজয় সম্ভব না তেমনি গনতন্ত্র ধর্ম পালন করেও ইসলামের বিজয় সম্ভব না।



১. এক হাফেজী হুজুরের বট গাছের ডালপালা থেকে কত আন্দোলণের জন্ম হলো তার কোন ইয়াত্তা নেই। একই আকীদা বিশ্বাসের ধারক বাহকরা কেবল সামান্য কিছু বিষয় নিয়ে মতবিরোধ তৈরি করেন, অতঃপর তার রেশ ধরে দলবল নিয়ে অন্য আরেকটি দলে যোগদান করেন, অথবা নতুন কোন দল তৈরি কেন।

জবাবঃ এভাবেই তারা শতধাবিভক্ত হয়ে মহাসত্যের এই আহ্বানকে সর্বস্তরের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে জামাতী ভাইগণ কল্যাণের পথ থেকে সঙ্কুচিত হতে হতে বর্তমানে 'গোলাপী বেগম'এর আঁচলতলায় মুখ লুকিয়ে কোন রকম বেঁচে থাকার ব্যর্থ প্রয়াসটুকু করে যাচ্ছে। কিন্তু রেহাই নেই। সত্য যখন চলে আসে তখন যুগের গোলাপীদেরকেও ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

২. এতে করে তারা কিছু আমীর ওমরাহর পদ দখল ছাড়া তেমন কোন ভূমিকা নিতে পারেন না। তখন স্পষ্ট মনে হয় যে, এসব হযরতগণ সত্যিকার অর্থে ইসলামী আন্দোলণের মেরিট বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

জবাবঃ কথাটি সত্য। তারা ছলনার রাজনীতিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। কিন্তু এদিক দিয়ে পুরোপুরি স্বার্থক একটি রাজনৈতিক দল আছে। যারা মুখে ইসলামের কথা বললেও অন্তরে ইহুদী-খৃষ্টান-পৌত্তলিকতা লালন করে। অথচ, পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে "(হে নবী!) কখনো আপনার উপর ইহুদী ও খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীরা সন্তুষ্ট হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের 'মিল্লাত' এর অনুসারী না হবেন" (সূরা বাক্বারাহ, আয়াতঃ ১২০)

আরো বিস্তারিত দেখুন, "ইসলাম বনাম জামাতে ইসলাম" শিরোনামে আমার আমার সদ্যপোস্টটিতে।

৩. আমরা মনে করি অমুকে বিশাল বড় মাওলানা, বুজুর্গ তাকেই দলের প্রধাণ করা উচিত। কিন্তু এগুলো হচেছ একে বারে সাদামাটা আবেগ বৈ কিছুই নয়।

জবাবঃ আমিও সহমত বিষয়টির সাথে। এই জায়গায় এসে জামাত পুরো সফলতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বুযুর্গদের পরিবর্তে বেঁছে নিয়েছে খোদার দুশমন ও কুরআনে বর্ণিত মুসলমানদের আজন্ম শত্রু সেই ইহুদি-খৃষ্টানকে।

আরো বিস্তারিত দেখুন, "ইসলাম বনাম জামাতে ইসলাম" শিরোনামে আমার আমার সদ্যপোস্টটিতে।

৪. সাহাবাদের মধ্যেও অনেক বড় বড় ফকিহ, বুজুর্গ ছিলেন কিন্তু তাদেরকে কোন খলিফাই প্রশাসনিক কোন কাজে ব্যবহার করননি। কারণ তাদের দ্বারা যে সব কাজ হবে না এটা তারা উপলদ্ধি করতেন। এ কারণ দারস আর ফিকহী পরামর্শ ছাড়া তেমন কোন দায়িত্ব্য তাদের কে দেওয়া হতো না।

জবাবঃ নাউযু বিল্লাহ। চার খলীফা কি "ফকিহ, বুজুর্গ" ছিলেন না? ইয়ামেনের গভর্ণর 'মুআয ইবনে জাবাল' কি "ফকিহ, বুজুর্গ" ছিলেন না? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ
حدثنا عبد الله بن جعفر ، ثنا يونس بن حبيب ، ثنا أبو داود ، ثنا وهيب ، عن خالد ، عن أبي قلابة ، عن أنس رضي الله تعالى عنه . وحدثنا محمد بن جعفر بن الهيثم ، حدثنا جعفر بن محمد الصائغ ، ثنا قبيصة ، ثنا سفيان ، عن خالد وعاصم ، عن أبي قلابة ، عن أنس ، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أعلم أمتي بالحلال والحرام معاذ بن جبل" أحمد والترمذي وابن ماجه ـ

অনুবাদঃ (সুবিস্তারিত নসবের পর) হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে সবচে' হালাল-হারাম সম্বন্ধে জানে 'মুআয বিন জাবাল' রাযিয়াল্লাহু আনহু। (আহমদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ থেকে বর্ণিত)

আরেক জায়গায় হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ
فقال عمر: عجزت النساء أن يلدن مثل معاذ ، لولا معاذ لهلك عمر . الكنز (37499)
অর্থঃ মুআয যদি না থাকতো তাহলে উমর ধ্বংস হয়ে যেত। (কানযঃ ৩৭৪৯৯)

মাত্র একজন সাহাবীর ব্যপারে বললাম। যাকে ইয়ামেনের গভর্ণর হিসেবে বিদায় দেওয়ার সময় এক হৃদয় বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিলো।

পোস্টদাতার কাছে অনুরোধ, জামাতী সংবিধান পড়া বাদ দিয়ে কুরআন-হাদীস পড়ুন। তাহলে কিছু হলেও কবরে নিয়ে যেতে পারবেন। নতুবা 'মওদূদী' সাহেবর সাহাবাবিদ্বেষের সেই বিষ আপনার মাধ্যমেও ছড়িয়ে যেতে পারে।





* * * "ইসলাম" বনাম "জামাতে ইসলাম" * * *

19 April 2014 at 06:00

প্রশ্নঃ
'জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ' নামক রাজনৈতিক দলটি মূলত কী চায়?

জবাব নং ১ঃ 'জামাতে ইসলামী' নামক দলটি বিশ্বাস করে, একজন মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সর্বোচ্চ সফলতা নির্ণীত হয় তার পরিবেষ্টিত গণ্ডির কর্তৃত্ব লাভের মাধ্যমে। আরেকটু পরিস্কার করে এভাবে বলা যায়, কর্তৃত্ব তথা ক্ষমতা দখল ছাড়া কখনো সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই 'মসনদ অধিষ্টান' করা প্রতিটি মুসলিমের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান জযবা বা চেতনা হওয়া উচিৎ। এমনকি নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাতের মত ইসলামের স্তম্ভগুলোও এই জযবার সামনে মূল্যহীন। অনেক শিবিরকর্মীর মুখে এভাবে বলতেও শোনা যায়, "যে দেশে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব কায়েম হয় নাই সেই দেশে আবার নামাজ-রোজা কইরা কী হইবো?" (নাঊযু বিল্লাহ) ফলে যারা ক্ষমতার মোহ থেকে নিজেদের জাতি-স্বত্তা ও চিন্তা-চেতনাকে পবিত্র রাখতে চান তারা এই জামাতী ভাইদের রোষানলে পতিত হোন। এমনকি তাদেরকে 'ইহুদী খৃষ্টানদের দালাল/নাস্তিকদের সহচর/মুনাফিক' ইত্যাদী গালাগালিও শুনতে হয় হরদম। সবচে' হাস্যকর ও মজার ব্যপার হলো, আপদমস্তক পশ্চিমানুসারী, সুন্নত বিদ্বেষী, ক্ষমতালোভী ও ধর্মীয় জ্ঞানবঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীটি কেবলমাত্র নিজেদেরকেই একমাত্র হক্বের ডিলারশিপ মনে করে থাকে।

এতকিছুর পরও প্রশ্ন থাকে যে, "ধরে নিলাম, তাদের কর্মপদ্ধতি কিংবা চিন্তা-চেতনার মাঝে কিছু বাতিল ধারণা ও তাগুতী বিশ্বাসের সংমিশ্রণ রয়েছে। তারপরও কি তারা 'ইসলামী হুকুমাত' কায়েমের ব্যপারে আন্তরিক নয়? পদ্ধতি ভুল হলেও নিয়ত কি নির্ভুল নয়?

এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেড়িয়ে এলো ভয়ঙ্কর কিছু চিত্র। যেমনটি মনে করেন 'জামাতে ইসলামী' বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আসামি পক্ষের অন্যতম প্রধান কৌঁসুলি জনাব ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সাহেব। তিনি তার অমরকীর্তি "আরব বসন্ত এবং দেশে দেশে ইসলামী আন্দোলন" নামক প্রবন্ধে প্রস্তাবনা করতে গিয়ে বলেনঃ

"তুরস্কের একে পার্টি এবং মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিনের পথ ধরে ৬০ বছরেরও অধিক সময় ধরে কার্যরত ভারতের জামায়াতে ইসলামী গত বছরের এপ্রিল মাসে ‘ওয়েলফেয়ার পার্টি অব ইন্ডিয়া’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। তাদের শ্নোগান হচ্ছেঃ ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং সমতা (Justice, freedom and equality)। পাশাপাশি জামায়াত তার আদর্শিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ১৬ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেসিডেণ্ট এবং সেক্রেটারী জামায়াতের দায়িত্বশীল হলেও তাতে পাঁচজন অমুসলমান রয়েছেন যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন কেরালা রাজ্যের ক্যাথলিক খ্রীষ্টান ফাদার আব্রাহাম জোসেফ এবং কর্নাটকের সাবেক মন্ত্র্রী (অমুসলিম) ললিতা নায়ার। এরা দুজনই সহ-সভাপতি। অনুরূপভাবে মালয়েশীয়ার ইসলামী আন্দোলন PAS (এক সময় যারা দুটি রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল এখন শুধু একটিতে, কিন্তু ফেডারেল পার্লামেণ্টেও তাদের সদস্য রয়েছে) ইসলামী রাষ্ট্রের কথা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ন্যায়বিচারের কথাই বলছে। তুরস্ক, তিউনিশিয়া, মালয়েশীয়া, মিশর এবং ভারতে ইসলামী আন্দোলনের এই কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের আসল লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীনের বাস্তবায়ন (সূরা সফ ৬১ ঃ ৯ )। কৌশলগত সঠিক সিদ্ধান্ত (correct strategic decision) ছাড়া দ্বীনের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।"

বিজ্ঞ পাঠক! একটু লক্ষ্য করলেই 'জামাতে ইসলামী' ভাইদের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যটি আমাদের সামনে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে দলের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী ও সহ-সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫জন দায়িত্বশীলই অমুসলিম সেই দলের নামে 'ইসলাম' থাকলেই কি তা 'ইসলামী দল' হতে পারে? পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেনঃ
"(হে নবী!) কখনো আপনার উপর ইহুদী ও খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীরা সন্তুষ্ট হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের 'মিল্লাত' এর অনুসারী না হবেন" (সূরা বাক্বারাহ, আয়াতঃ ১২০)

জামাতী ভাইদের নিকট সরল প্রশ্নঃ প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী ও সহ-সভাপতিরা নিজ দলের উপর শুধু সন্তুষ্টই থাকে না বরং সর্বত্যাগী থাকে। ফলে কেরালা রাজ্যের ক্যাথলিক খ্রীষ্টান ফাদার আব্রাহাম জোসেফ এবং কর্নাটকের সাবেক মন্ত্র্রী (অমুসলিম) ললিতা নায়ার সহ ৫জন প্রধান 'গনেশে জামাত'ও তাদের দলের প্রতি পরম সন্তুষ্ট ও কল্যাণকামী। তাহলে পবিত্র আয়াতে আল্লাহর চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় জামাতের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? (আবারো আয়াতটির অনুবাদ পড়ুন) নাকি 'হিকমাতে 'আমালিয়া'র অংশস্বরূপ খৃষ্টানদের 'মিল্লাত'কে 'জামাতে ইসলামী' গ্রহণ করে নিয়েছে?

সকলের বুঝার সুবিদার্থে বলে রাখি, উপরোক্ত ৫জন অমুসলিমের বিষয়টি কিন্তু ভারতের কেরালা রাজ্যের ঘটনা। কিন্তু যদি কেউ এই নিকৃষ্টতম অপকৌশলের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশেও একই পদ্ধতি চালু করার প্রস্তাবনা পেশ করে তাহলে কি এভাবে বলা যায় "সকল মওদূদী জামাতী একই সূত্রে গাঁথা"। যেভাবে শুধুমাত্র ক্ষমতা কাঁমড়ে বেঁচে থাকার জন্য আবু জেহেল, আবু লাহাব ও অন্যান্য কুরাইশী কাফেররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের বিরোধিতা করেছে। ঠিক তেমনি একই কারণে আজ 'জামাতে ইসলামী' গোটা বিশ্বব্যপী হক্বানী উলামায়ে কেরামের বিরোধিতায় লিপ্ত থেকে নিজেদের আখের খোয়াচ্ছে।

বাংলায় কথা আছেঃ নতুন বোতলে পুরাতন মদ।
একই ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে কি তাহলে বলা যাবে "নতুন বোতলে পুরাতন মদ; আবু জেহেলের বোতলে আবুল 'আলার মত"। (মত = মতবাদ বা মিশন)
পরিণামটা দেখুনঃ  জামাতে ইসলামী যে ইসলামের ঘোরতর দুশমন তা বুঝার সবচে' বড় প্রমাণ হলো, দিন যত যাচ্ছে তারা তত কোণঠাসাই হচ্ছে। স্বর্ণালী যুগ থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামের পরিণতি কখনো এমন সূচনীয় হয় নাই। তারা ৬৫ বছরে যতটা এগিয়েছে তার চেয়ে শতগুণ পিছিয়েছে। 'ইসলাম'এর অগ্রযাত্রা তাদের কারণে যতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, জামাতপূর্ব ৬৫X৩ = ১৯৫ বছরেও এতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয় নি। কুরআনের অপব্যক্ষা থেকে শুরু করে 'জিহাদ' শব্দের অবমাননা ও 'শাহাদাত' শব্দের অপব্যবহার তাদের নিকৃষ্টতার উজ্জল প্রমাণ বহন করে। অবস্থাদৃষ্টে বুঝা যাচ্ছে, ইহুদী-খৃষ্টানদের পা থেকে শুরু করে সর্বাঙ্গ লেহনেও তাদের মুখে বাঁধবে না। নতুবা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে এভাবে খৃষ্টানদের হাতে নিজেদের দলের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারীর পদ কেউ তুলে দিতে পারে না।

সকলের সমীপে একটি প্রশ্নঃ যারা নিজেদের দলকে একজন খৃষ্টানের হাতে তুলে দিতে পেরেছে তারা ক্ষমতায় গেলে যে, আমার সোনার বাংলাদেশটিও খৃষ্টানদের হাতে তুলে দিবে না তার কী নিশ্চয়তা আছে?

অতএব যদি হয়ে থাকুন একজন মুসলিম, নবীজির সুন্নতের প্রতি ন্যুনতম ভালোবাসা যদি আপনার অন্তরে থাকে, যদি ইসলামের অনুসারী হয়ে জান্নাতে যেতে চান তাহলে প্রতিজ্ঞা করুন, নাস্তিক-মুরতাদ, ভণ্ডপীর, মাজারপূজারী, কবরপূজারী, শিয়া, সালাফী, রেজভী, কাদিয়ানী ইত্যাদি দুশমনের মোকাবেলা যেভাবে নিরলসভাবে করে যেতে হবে ঠিক সেভাবেই আজীবন-আমৃত্য লড়তে হবে 'জামাতী ইসলাম' নামক বিষবৃক্ষটির বিরুদ্ধে।

আল্লাহ তা'আলা জামাতী ভাইদেরকে হেদায়েতের পথে দ্রুত ফিরিয়ে আনুন। আমীন।

তথ্যসূত্রঃ http://www.abdurrazzaq.com/index.php?option=com_content&view=article&id=118:2012-07-29-12-46-09

'সোনার বাংলাদেশ ব্লগ'এ পাঠকের প্রতিক্রিয়াসহ লেখাটির প্রথম সংস্করণ দেখতেঃ https://www.dropbox.com/s/mafl7m855mqd8l8/Jamat.zip

বি.দ্র. যারা লেখাটি পড়ে আমাকে আওয়ামীপন্থী বলে অপবাদ দিবেন তাদের জন্য এই অসমাপ্ত নোটটি দিলামঃ https://www.facebook.com/notes/আল-মুহাজির-শাইখ/অপকর্মের-হোতারে-তুই-সকল-নাটের-গুরু-ভঙ্গবল্টু-শেখ-মসিবত/483169818449520

*******************************************************************************
"জবাব নং ১" সমাপ্ত হলো। আগামী ১৫/০৫/২০১৪ ইং তারিখ প্রকাশিত হবে "জবাব নং ২", ইনশা আল্লাহ।

(অনিবার্য কারণে গুরুত্বপূর্ণ একটি আকষ্মিক সফরে বের হতে হচ্ছে। সফরকালীন ব্যস্ততায় 'জামাতী বন্ধু'দের এই ক্ষুদ্র উপকারটুকু করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবে দেশে ফিরে এসে নিয়মিত নেমে পড়বো ময়দানে, ইনশা আল্লাহ। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমি দুঃখিত।)

পর্যায়ক্রমে পরবর্তী প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করা হবে, ইনশা আল্লাহ।

প্রশ্নঃ এত এত রাজনৈতিক দলের ভীড়ে এই দলটির অস্তিত্ব কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?
প্রশ্নঃ প্রচলিত অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এই দলটির কি মৌলিক কোন পার্থক্য আছে?
প্রশ্নঃ ইত্যদি..............।

আল মুহাজির শাইখ





তাবলীগ বনাম ইসলামী আন্দোলণ

নবী-রাসুলদের (আ) দাওয়াত ও বর্তমান তাবলীগ
 
প্রশ্ন- নবী-রাসুলদের (আ) দাওয়াত ও বর্তমান তাবলীগ জামায়াতের দাওয়াতের মধ্যে মৌলিক পাথ্যর্ক কি কি ?

   উত্তর-: নবী ও রাসুলদের দাওয়াত ও তাবলীগের সাথে বর্তমান সময়ের তাবলীগের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। নবী রাসূলগণ যে ভাষায় দাওয়াত দিতেন তার বিবরণ কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে রয়েছে। কোরআন বলছে কোন অঞ্চলের নবীগণ কোন ধরণের কাটছাট না করে ইসলামকে উপস্থাপণ করতেন এবং সকল প্রকার তাগুতের সাথে বিদ্রোহ করে এক আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করতেন। যে যে ক্ষেত্রে লোকজন আল্লাহকে ছেড়ে দিয়ে সমসাময়িক তাগুতের বা তাগুতের প্রতিষ্টিত ব্যবস্থার আনুগত্য করতো, তারা সেসবের বিরুদ্ধে জোড় আওয়াজ তুলতেন, এ কাজে কোন পরোয়া করতেন না বা হেকমত খাটানোর প্রয়োজণ বোধ করতেন না। কোরআনের নিমোক্ত বর্ণনাগুলো আমাদের কথার দলিল।

আল্লাহ পাক বলেন-
“আল্লাহর গোলামী করো, তাগুতের আনুগত্য পরিত্যাগ করো- এই শিক্ষা দিয়ে প্রতিটি জাতির কাছে আমি একজন রাসুল প্রেরণ করেছি-সূরা আন নাহল-৩৬।

এ কারণে আমাদের কে বলা হলো- “অতঃপর যারা তাগুতের সাথে কুফরি করলো, এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলো তারা এমন এক মজবুত রশি ধারণ করলো যা ছিড়ে যাবার নয়।- সুরা বাকারা-২৫৬।”

অন্য আয়াতে সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে তাদের জন্য যারা তাগুতে আনুগত্য ত্যাগ করে আল্লাহ হুকুমের গোলাম হয়ে যায়।
ইরশাদ হচ্ছে-“ যারা তাগুতের ইবাদত ত্যাগ করে আল্লাহ দিকে প্রত্যাবর্তন করবে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ-সূরা আয-যুমার-১৭।

এসব আয়াত থেকে নবীদের দাওয়াতী কাজের একটি স্পষ্ট পদ্ধতি খুজে পাওয়া যায় তাহলো এই যে, তারা আল্লাহর ওপর ঈমান আনা বা আল্লার গোলামীর দাওয়াত দেওয়ার সাথ সাথে তাগুতের পরিচয় তুলে ধরে তাদের থেকে লোকদের কে সতর্ক করতেন। যেসব ক্ষেত্রে লোকেরা তাগুতের আনুগত্য করতো, সেগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট করে লোকদের কে নসিহাত করতেন। অন্যকথায় বলতে গেলে আম্বীয়াগণ শুরুতেই তাগুতের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে আল্লাহর দিকে আহ্বান করতেন। এ কারনেই কলেমার প্রথম শব্দটি হলো “নেই কোন ইলাহ”। সমস্ত ইলাহগুলোকে পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত আল্লাহ পাকের উলুহিয়াত কবুল করার ভিতর কোন ফায়দা নেই।তাবলীগের দাওয়াতের ভাষায় বা উসূলে তাগুতের সুস্পষ্ট কোন পরিচয় নেই। তারা তাগুত সম্পর্কে লোকজনের সামনে কোণ ধারণাই পেশ করে না। বরং খোজ নিলে যানা যাবে বহু তাগুত এই আন্দোলণকে নিজেদের সামথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।

আল্লাহর পরিচয় পাওয়ার জন্য যে পরিমান ইলম অর্জন করা জরুরী,ঠিক তদ্রুপ ইলমও তাগুতের বিষয়ে অর্জন করা জরুরী। নতুবা লোকজন সকাল বেলা আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও শান মানের বয়ান করবে, রাতের বেলা তাগুতের বন্দেগীর বেড়ি গলায় জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। এই অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য নবীওয়ালা ভংগিতে দাওয়াতের কাজ করতে হবে।

অথচ এই জরুরী বিষয় সম্পর্কে আমাদের দেশের দাওয়াত ও মেহনতের সাথে যুক্ত হযরতগণ জ্ঞাতসারে অথবা অজ্ঞাতসারে সম্পুর্ণ বেখবর থাকার চেষ্টা করছেন। বলা হয়, এদের দাওয়াতের মধ্যে এক আল্লাহর কথা তো পাওয়া যায় কিন্তু তাগুতের বিরুদ্ধে কোন আওয়াজ পাওয়া যায় না। ফলে লোকজন ঈমান ভংগের আসল এবং একমাত্র কারণ সম্পর্কে বেখবর থেকে যায়। এই অজ্ঞতার কারণে তারা এক আল্লাহর সাথে সাথে বহু তাগুতের আনুগত্য করতে থাকে। ফলে তাদের জীবনে এক ধরণের দ্বৈত ব্যবস্থা এসে ভর করে। যে কারণে এদের সাথে শরিক হওয়া বিভিন্ন পেশার লোকেরা অজ্ঞতার কারণে এক আল্লাহর সাথে সাথে বহু খোদার খোদায়ী স্বিকার করে নিয়ে জীবন যাপণ করে।


প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত বনাম ইসলামী আন্দোলণ।।

প্রশ্ন- ছয় চিল্লা দিয়ে দেশ বিদেশ সফর করে, সাথে আরও বিশ ত্রিশ বছর ধরে মারকাজে সময় কাটানোর পরেও তাবলীগের কোন কোন সাথী কি কারণে সেকুল্যার কুফরি মতবাদের সমর্থক থাকতে পারে ? সুযোগ পেলেই কেনইবা নাস্তিক্যদের সহযোগী হয়ে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে শরীক হয়? উদাহারণ চাইলে শত শত লোকের ফিরিস্তি দেওয়া যেতে পারে। এর কারণ কি ?

উত্তর- তাবলীগ জামায়াত মুলত আম জনতার জন্য ইসলাহী সংগঠণ। এতে সকল মত ও পথের লোকেরা শরিক হতে পারে। চিন্তা, কর্মে বিভ্রান্ত আকীদা বিশ্বাসের লোকেরা এখানে আসে এবং কিছু সময়ের জন্য হেদায়েতের বয়ান শুনে চলে যায়। যারা বেশি দিন সময় দেন তারা কিছুটা হলেও আমল আখলাকে ‍উন্নতি করার সুযোগ পান। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সংখ্যা কিন্তু অগনিত। এর কারণ হলো, সেখানে যাওয়ার পরে তাদের কে নবী রাসুলদের প্রদত্ত তরিকায় দাওয়াত ও তরবিয়াত দিয়ে আকীদা বিশ্বাসের ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধণ না করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কতিপয় আমল আখলাকের দিকে নজর দেওয়া হয়। বলা হয় আমরা নবীর তরিকায় দাওয়াত দেই। বিষয়টি সত্য কিন্তু নবীর ভাষায় দাওয়াত দেওয়া হয়না। নবীর (স) দেখানো সুন্নাত মোতাবেক দিক নির্দেশণা দেওয়া হয় না। বিশেষ করে একটি কথা না বললেই নয়, প্রত্যেক দেশের জন্য একই উসূল নির্ধারণ করা অবশ্যই সুন্নাহর খেলাফ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রের দাওয়াত ও তাবলীগের ভাষার সাথে অমুসিলম রাষ্ট্রে কর্মসূচীতে আকাশ পাতাল ফারাক থাকার কথা থাকলে এখানে সেটা নেই। ফলে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে তাবলীগের প্রচলিত কর্মসূচী এক ধরণের ফেতনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বিষয়টি সামনের আলোচণায় পরিস্কার হয়ে যাবে।

মুলত ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিবর্তে কতিপয় আমল আর উসুলের বয়ানের মধ্যে নিজেদের আহ্বান সিমাবদ্ধ রাখার কারণে তাবলীগ জামায়াতের সাথে অনেক দিন সময় লাগানোর পরেও অধিকাংশ লোকজন সম-সাময়িক ফেতনা সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান পায় না। ঈমান ধ্বংসকারী কাজ ও চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার শিক্ষা পায় না। ঈমান আনার প্রাথমিক শর্তগুলো নিয়ে সরাসরি কোন আলোচণা হয় না বলে বর্তমান প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় ঈমানের মৌলিক দাবিগুলো নিয়ে বাস্তবতার আলোকে অধ্যায়ণ করারও সুযোগ হয় না। ফলে লোকজনের অন্তরে পোষণ করা পুর্বের আকীদা বিশ্বাসের গোমরাহীর কোন পরিবতণ না হলেও আমল আখলাকে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এটাকেই বিশাল সফলতা বলে প্রচার করা হয়। অথচ বহু বিধমী আছে যাদের আমল আখলাক অত্যান্ত উচু মানের কিন্তু তারা জাহান্নামী হবেন। কেণনা এই ব্যক্তি আমলের দিক দিয়ে উচ্চতায় আসতে পারলেও সত্যিকারের ঈমানের দৌলত হাত ছাড়া করেছে। এ কারণে প্রত্যেক নবী রাসুলগণ তাদের উম্মাতকে ঈমান আনার সাথে সাথে ঈমান ধ্বংসকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে অত্যান্ত পরিস্কার ভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে সে সম্পর্কে সচেতণ করতেন।

অথচ তাবলীগের বিরুদ্ধে ঘোতর অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ওজু ভংগের কারণ শিখালেও ঈমান ভংগের কারণ শিখাতে পারছেন না কোন এক অজ্ঞাত কারণে। ফলে এই জামায়াতে আগত লোকেরা নিজেদের মধ্যে আলোচিত খুটিনাটি বিষয়কেই ইসলাম ভেবে এর পেছনে গোটা জীবনের মুল্যবান সময় অতিবাহতি করে দেয়, ঈমানের অন্যান্য আনুসাঙ্গীক ফরজীয়াতগুলো সম্পর্কে বেখবর থেকে যায়। যার কারণে অধিকাংশ লোকেরা তাবলীগের সময় দেওয়ার পরেও সমকালিন শিরক আর কুফরি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সম্বলিত শিক্ষা না পাওয়ার কারণে অজ্ঞাতসারে নিজেদের অন্তরে রক্ষিত বাতিলের প্রতি পুর্বের আকীদা বিশ্বাস বহন করে পথ চলেন আর ভাবেন এসব কিছু ঈমান আর আমলের তরক্কির প্রতিবন্ধক নয়। কেননা তাদের উসুলে বা বাতিলের সংজ্ঞায় সম-সাময়িক গোমরাহীর কোন আলোচণা হয় না বলেই চলে। ফলে তাগুতের অনুশারীরাও সাময়িক ফায়দার জন্য তাদের দারস্থ হয়ে থাকেন। নিজেদের হাজারো অপকর্মগুলো ঢাকার স্বার্থে নিজেদের জীবনে ধার্মীকতা কিছু রং মাখতে তারা তাবলীগ জামায়াতকে ব্যবহার করতে পারেন অনাশায়ে।

এই সমস্যা মুল কারণ হলো, প্রায় একই ধরণের বয়ান আর বিবৃতি প্রত্যেক দেশের জন্য বরাদ্ধ করে দেওয়া। অথচ আল্লাহ পাক তার রাসুল প্রেরণের নীতিমালায় স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন যে, তিনি প্রত্যেক জনপদের লোকদের কে ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সমকালিন সব থেকে বড় বড় গোমরাহী সম্পর্কে সচেতণ করার জন্য আলাদা আলাদা করে নবী প্রেরন করেছেন। একেক অঞ্চলের উপযোগী দাওয়াতী বক্তব্য আর কর্মসূচী দিয়ে আম্বিয়াদেরকে প্রেরণ করেছেন। উদাহারণ হিসেব ধরুন- নুহ আ কে পাঠানো হলে তার যুগের সব থেকে বড় গোমরাহী মৃত বুজুর্গলোকদের নামে মুর্তি তৈরি করে তার পুজার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য। পাশাপাশি গোমরাহ নেতাদের আনুগত্য না করে তার আনুগত্য করতেও আহ্বান জানালেন দ্যার্থহীন্ ভাবে। সুরা মুমিনুনে এই বিষয়ে বিস্তারিত রয়েছে।

লূত আ কে প্রেরণ করা হলে কলেমার দাওয়াতের পাশাপাশি তিনি তার সময় কার প্রচলিত প্রধান গোমরাহী সমকামিতার বিরুদ্ধে চরম আওয়াজ তোলেন। শোয়াইব আ কে প্রেরণ করা হলে তিনি ওজনে কম দেওয়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেন। এ জন্য তাকে বিরাট ফেতনার মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার সমাজে ডাকাতীর ঘটনা ছিলো নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। অবাধে খুন রাহাজানীও চলছিলো। তিনি এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।

ফেরাউনের বিরুদ্ধে মূসা আ কে প্রেরণ করা হয় বনী ইসরাঈলকে মুক্ত করার অগ্রাধিকার দিয়ে। মূসা আ ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি তাকে স্পষ্ট বলে দেন বনী ইসরাঈল কে আমার সাথে দিয়ে দাও। ফেরাউন এ কাজে স্বৈরাচারের ‍ভূমিকায় অবর্তিণ হয়। মূসা আ এর দাওয়াতের ভিতর সে তার সাম্রাজ্যের পতণ দেখতে পেয়ে তার ওমরাহদের কে বলেছিলো-আমি আশংকা করছি সে আমাদের জীবন ব্যবস্থা বদলে দেবে অথবা দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে দেবে- সূরা আল মুমিন-২৬।

এসব ঘটনাবলী কিন্তু কোরআনেই রয়েছে। এসব থেকে এই সবক পাওয়া যায় যে, দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ হলো নবীওয়ালা জিম্মাদারী। অতএবর সকল ভয়ভীতির ‍ উদ্ধে উঠে নবীদের মতো দায়িত্ব্য পালণ করতে হবে। সমকালিন কুফরী আর গোমরাহীর বিরুদ্ধে আওয়াজ ‍উত্থিত করে তার বিরুদ্ধে লোক সকল কে হুশিয়ার করাই নবীওয়ালা কাজ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, তাবলীগ জামায়াতের অনেক সাথীও বলতে পারেন না সমকালিন জগতে সব থেকে সর্বনাশা ফেতনা কোনটি যা সাধারণ মানুষকে ঈমানের বিপরিত পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থার কারনেই প্রশ্নে উল্লিখত উদাহারণের সম্মুক্ষিন হতে হচ্ছে। এ অবস্থা এক প্রকার ফেতনার মতোই। লোকজন ভাবে সে শরীয়াত প্রদত্ত দায়িত্ব্য পালণ করছে কিন্তু সে সত্যিই পথ হাড়ার মতো আচরণ করছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা বলেন, নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া সত্বেও অনেক লোক সত্য পর্যন্ত পৌছতে পারে না।

পরবর্তি প্রশ্ন হলো-
প্রচলিত ইলিয়াস (রহ) এর দেখানো তাবলীগের সাথে সমসামিয়ক ইসলামী রাজনীতির মৌলিক পার্থক্য কি ? ইসলামী রাজনীতি বলতে জামায়াত ইসলামীই নয়, সকল হক্কানী দলের বৈশিষ্টের কথাই বলা হচ্ছে। (সাথেই থাকুন, পারলে শেয়ার করুন। যুক্তি সংগত ভূলগুলো শুধরে নিতে সহায়তা করুন।)




বন্ধু >আমরা আওয়ামী লীগের সংবিধান পড়েছি।তাদের কার্যক্রম আমরা দেখেছি,দেখতেছি।তাদের কথা-বার্তা আমরা শুনতেছি।এখন স্পষ্ট ভাষায় বলুন তো,কোন মুসলমান কি তাদেরকে সমর্থন করতে পারে? করলে ঐ ব্যক্তির অবস্থান কোন পর্যায়ে যাবে।আমি দেখছি তাদের সমস্ত কাজ শিরকে পরিপুর্ন। আমি সন্দেহ ছাড়া বলছি এরা মুশরিক।আমি হেফাজতে ইসলামের অবস্থা দেখে অবাক হচ্ছি,তাদের কথা শুনে হতাশ হয়েছি, তারা বলে "আওয়ামী লীগ,ছাত্র লীগ আমাদের বন্ধু"।দেখুন,মহান আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ,সুরা তাওবা ২৩,২৪-"হে ইমানদারগন! তোমরা নিজেদের পিতা ও ভাইদেরকে অভিভাবক /বন্ধু রুপে গ্রহন করো না,যদি তারা ইমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে।আর তোমাদের যারা তাদেরকে অভিভাবক রুপে গ্রহন করে তারা সীমালংগনকারী।(২৪) বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা,তোমাদের সন্তান,তোমাদের ভাই,তোমাদের পত্নী তোমাদের গোত্র,তোমাদের অর্জিত সম্পদ,তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর (যে ভয় হেফাজত করতেছে),আর বাসস্হান যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তার রাসুল ও তার রাহে জেহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়,তবে অপেক্ষা কর আমার বিধান আসা পর্যন্ত।আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে পথ দেখান না। (সুরা নিসা ২৮)-মু'মিনগন যেন মু'মিন ব্যতিত। কাফেরকে বন্ধু রুপে গ্রহন না করে..............।(সুরা মুমতাহিনাহ ১)-হে মু'মিনগন,তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেকে বন্ধু রুপে গ্রহন করো না,..............................। "হে আল্লাহ! আপনি আমার বন্ধু,পৃথিবীর সমস্ত মু'মিন আমার বন্ধু, আমার বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নামক এ দলটি কুফরী /শিরিকি দল এরা আমার বন্ধু হতেই পারে না।হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাজত করলে আমি এদেরকে বন্ধু রুপে গ্রহন করবো না, এদের সাথে কোন আত্থীয়তার সম্পর্ক করবো না।এদের বাসায় কোন খাবার ও খাব না,এদের কোন সাহায্য গ্রহন করবো না (কাওমি আলেমেরা এদের ঘরে খাবার খায়, এদের অন্যায় ভাবে উপার্জিত অর্থ গ্রহন করে)।আমীন।কাউকে আঘাত দেওয়ার জন্য লিখিনি,আসলে আমাদের সবার মধ্যে ভুল রয়েছে, সংশোধন হওয়া জরুরী।কথাগুলো বেঠিক হলে জানাবেন।

Q.  ভাই আপনার প্রতি পূর্ন শ্রদ্ধা রেখেই আপনার কিছু কথার জবাব পেশ করছি।

ভাই আপনার অভিযোগ গুলা না কেমন জানি উদ্দেশ্য প্রনোদিত এবং রাগান্বিত একটা ভাব। আর অভিযোগ গুলার অধিকাংশই বানোয়াট।
--ভাই আপনি বললেন একজন তাবলীগ ওয়ালা অজু ভঙ্গের কারন জানলেও ঈমান ভঙ্গের কারন জানেনা। দেখুন তাবলীগের হাজারো রকমের মানুষের সমাগম ঘটে। ধনী গরীব, মুর্খ শিক্ষিত, মাওলানা, জেনারেল, সালাফী, হাম্বলী, শাফেয়ী, হানাফী, মালেকি, জামাতীসহ আরো বেশ কয়েক মতের লোকের মিলন মেলা হলো তাবলীগ। এত লোকের মিলনমেলা যেখানে সেখানে দু এক জন বা তারো বেশী গন্ডমূর্খ থাকতেই পারে। আর তাবলীগ তো কোন দেশীয় রাজনৈতিক দল কিংবা সংগঠন নয়, বিশ্বের এমন কোন মুসলিম এবং কিছু বিশেষ দেশ ব্যাতীত সকল অমুসলিম দেশে তাবলীগ বিদ্যমান। তাই অজু ভঙ্গের কারন জানলেও ঈমান ভঙ্গের কারন জানেনা এটা আপনার রাগের বহিঃপ্রকাশ। বরং আপনি যদি একজন তাবলীগ ওয়ালার সাথে মাসলা মাসায়েল এবং ইলমি আলোচনা করেন আপনিই তার ইলমের কাছে মাথা নত করবেন। মারকাজ থেকে স্ট্রেইট বলে দেয়া আছে যে যারা পারে তারা যেন অবশ্যই কুরআন থেকে দাওয়াত দেয়, যারা একান্তই না পারে তারা যেন কুরআন হাদিসের আলোকে একটা ফরমেট করা বয়ানই বলে, এতে তার ভুল বলার সম্ভাবনা কম থাকে।


A.  আমলের দাওয়াত তার জন্য প্রযোজ্য যে ঈমানের দাবিতে সত্য ও সঠিক চিন্তার অনুশারী। বিষয়টি কিন্তু ইয়ার্কি আর আবেগেরে বিষয় নয়। সামান্য ঈমান বিরোধী একটি কাজ করার কারণে দুইজন সম্মানিত সাহাবাকে বয়কট করার হুমকি দেওয়া হয়। তারা জামায়াতে নামাজও পড়তে পারেনি। বিষয়টি ভেবে দেখুন। আমলের দাওয়াত তো প্রত্যেক ব্যক্তিই দিচ্ছেন। এটাকে আবার নবী ওয়ালা কাজ বলা চলে নাকি ? নবী ওয়ালা জিম্মা কোনটা সেটা উপলদ্ধি করতে পারবেন পরবর্তি পোষ্টে।


নবীরা কিন্তু বলেননি তোমরা তোমাদের যুগের ফেতনা থেকে নিজেরা বাচো, আহাল কে বাচাও। এটুকো বললে তো নবীর কোন সমস্যা হতো না। কিন্তু যখন ফেতনার স্বরুপ সহ দাওয়াত দিলেন তখন আবু জেহেলরা শত্রু হয়ে গেলো। এখানেই সা’দ সাহেবদের কেরামতি। তারা ফেতনাকে আম করে বর্ণনা করেন কিন্তু নবীরা প্রকাশ্যে পরিচয় দিয়ে বর্ণনা করেন। মৌলিক পার্থক্যতো এটাই।

আর সা’দ সাহেব কে যদি প্রশ্ন করতেন যে, ফেতনা বলতে কি বুঝাতে চাইলেন ? টিভির ফেতনা নাকি সিনেমার ফেতনা দেখতেন তিনি কোন সংজ্ঞায় যেতেন না। কারন তার ‍উসুল তাকে বাধাগ্রস্ত করতো। আমি বলছি না আপনি কাউকে জোড় করে ঈমান আনান। কিন্তু ঈমান হেফাজতের পর্যায় গুলো তে বলতে হবে, ঈমান ধ্বংসের কারণগুলো তো শিক্ষা দিতে হবে। এর পরে যার ইচ্ছে মানবে যার ইচ্ছে কুফরির দিকে ধাবিত হবে। একটি স্টান্ডার্ড না ধরে নিলে আপনি মাপবেন কিভাবে ?




উত্তর দিন প্লিজ
ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্টা কি নবীর তরীকা নয় ?
আপনারা প্রচার করেন যে, " নবীর তরীকাই আমাদের তরীকা । "
তাই যদি হয় তবে প্রশ্ন করছি, নবী কি ইসলামী হুকুম প্রতিষ্ঠা করে ইসলামী শরিয়ত প্রবর্তন করেন নি ?
তিনি কি রাষ্ট্রপতি ছিলেন না ?
তিনিই কি মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করে সর্বপ্রথম ও সর্বোত্তম শাসন সংবিধান উপহার দেননি ?
তিনিই কি দোষী ব্যক্তিদেরকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাস্তির ব্যাবস্তা করেন নি ?
তিনিই কি প্রধান বিচারপতি ও সেনাপতির দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করেন নি ?
জবাব হবে, নিশ্চয়ই করেছিলেন। তবে আপনারা এই ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ পালন করেন না কেনো ?
রাসূলের প্রদর্শীত এই পথে অগ্রসর হন না কেনো ?


ইহুদী খ্রিষ্টানদের এজেন্ডা বাস্তবায়নঃ
ইহুদী খ্রিষ্টানরা চাচ্ছে মুসলমানরা মসজিদে মসজীদে তাদের ধর্ম কর্ম করবে তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবেনা যাতে করে তারা তাদের আকাম কুকাম করতে পারে, আর তাবলীগ ঠিক তাদের সেই মিশন কে বাস্তবায়িত করতেই তাদের তথাকতিথ ৬ উসুলের মধ্যে ইকামতে দ্বীনকে রাখে নাই...

 

মাওলানা মওদুদী কিয়াস হচ্ছে

জামাআত শিবিরের ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণঃ

মাওলানা মওদুদী (রঃ) বলেছিলেন-

“আপনি নিজেই চিন্তা করে দেখুন, এই তাওহীদি আক্বীদা বিশ্বাস নিয়ে আমরা কিভাবে এ নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারি?
……একদিকে আমরা আল্লাহর বিধান হতে মুক্ত হয়ে আইন প্রণয়ন করাকে শিরক বলে ঘোষণা করছি, অপরদিকে আমাদের নিজেদের ভোটেই ঐ সমস্ত লোকদের আইন সভার সদস্য নির্বাচিত করবো যারা আল্লাহর ক্ষমতা ও ইখতিয়ারকে খেয়ানত ও পদদলিত করার জন্য পার্লামেন্টে যেতে চায়।
এমনটি করা কি আমাদের জন্য বৈধ হতে পারে?

আমরা যদি আমাদের ঈমান-আক্বীদার ব্যাপারে সত্যবাদি হই তাহলে এ ব্যাপারে আমাদের জন্য কেবল একটি পথই খোলা আছে। আর তা হচ্ছে, আমাদের সমস্ত শক্তি সামর্থ কেবল মাত্র এ মূলনীতির স্বীকৃতি লাভের
জন্যই ব্যয় করবো যে, সার্বভৌমত্ব কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট এবং আইন প্রণিত হবে কেবলমাত্র আল্লাহর কিতাবের ভিত্তিতে”।
(তরজুমাতুল কোরান, রমজান-শাওয়াল, ১৩৬৪ হিঃ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৪৫)

[উপমহদেশের স্বধীনতা আন্দোলন ও মুসলমান, পৃঃ ২২৫-২২৬, আধুনিক
প্রকাশনী]

খুবই সুষ্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান আলাদা হবার আগ পর্যন্ত মওলানা মওদুদী (রঃ) কুফরী মানবরচিত মতবাদের
অনুসারী দলগুলোর কোন সদস্যকে ভোট দেয়ার ব্যাপারে উপরুক্ত মতামত পোষণ করতেন। এই ব্যাপারে এটাই ছিলো উনার ফতোয়া।

এখন প্রশ্ন হচ্ছেঃ

ক) মাওলানা মওদূদী কোন কোন দলীলের ভিত্তিতে ‘যারা আল্লাহর ক্ষমতা ও ইখতিয়ারকে খেয়ানত ও পদদলিত করার জন্য পার্লামেন্টে যেতে চায়’ (যেমনঃ বিএনপি) তাদেরকে ভোট দেয়াকে অবৈধ বা হারাম মনে করতেন?

খ) ১৯৪৭ সালের পর কি উনার উপরুক্ত অবস্থান পরিবর্তন হয়েছিলো? হয়ে থাকলে, কোন কোন দলীলের ভিত্তিতে সেটা পরিবর্তন হয়েছিলো?

গ) বর্তমানে জামাতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের ভাইরা যে, বিএনপি তথা ‘ধানের শীষকে’ শুধু ভোটই দিচ্ছেন না, বরং অর্ধেকের
বেশী আসনে বিএনপি এর জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন -মওলানা মওদূদীর ১৯৪৭ সালের আগের ফতোয়া অনুযায়ী এই কাজটা কি হারাম
হচ্ছে না?

বর্তমান জামাতে ইসলামীর আলেম ও
থিংক-ট্যাংকগণ ‘কোন কোন দলীলের’ ভিত্তিতে “যারা (যেমনঃ বিএনপি,
আওয়ামী লীগ) আল্লাহর ক্ষমতা ও ইখতিয়ারকে খেয়ানত ও পদদলিত করার জন্য পার্লামেন্টে যেতে চায়” – তাদেরকে ভোট দেয়া বৈধ বলে সাব্যস্থ করছেন?

- তাদের জন্য মানুষের
দুয়ারে দুয়ারে ভোট চাওয়া বৈধ বলে সাব্যস্থ করছেন?

জামাতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের ভাইদের জানা থাকলে, দয়া করে জানাবেন।

উল্লেখ্যঃ ইসলামি শরীয়াতে দলীল অর্থ
হলোঃ কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।

এবং কিয়াস হচ্ছে-

The majority of ulema have defined qiyas as the application to a new case (far'), on which the law is silent, of the ruling (hukm) of an original case (asl)
because of the effective cause (illah) which is in common to both. [Al Amidi,
Al Ihkam, III, 186]

যার সারমর্ম হচ্ছেঃ

কিয়াস হলোঃ আসল
শরয়ী হুকুম, ইল্লত (কার্যকরণ) ও (যে ব্যাপারে শরীয়াতের সুস্পষ্ট হুকুম নেই সেই) নতুন বিষয়ে শরয়ী হুকুম এর সমষ্টি।

তাই কেউ
মওলানা মওদুদী অথবা জামাতে ইসলামীর শূরা সদস্যগণ কিয়াস করেছেন
দাবী করলে, দয়া করে ‘আসল শরয়ী হুকুম’, ‘ইল্লত’ ও ‘নতুন বিষয়ে শরয়ী হুকুম’ সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন।

যারা এই প্রশ্নের উত্তরে সুষ্পষ্টভাবে শরীয়াতের দলীল উল্লেখ করতে পারবেন, শুধু তারাই উত্তর দিবেন। এখানে ‘আমার মনে হয়’, ‘হয়তো তারা এই এই কারণে’ – ইত্যাদি ধরনের কোন কথা না বলার জন্য অনুরোধ করা হলো।

উল্লেখ্যঃ এই পোষ্টে উল্লেখিত প্রশ্নের বাইরে অন্য কোন ব্যাপারে জামাতে ইসলামী ও
ইসলামী ছাত্র শিবিরের ভাইদের প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকার জন্য
সবাইকে অনুরোধ করছি,
যাতে আলোচনা ভিন্ন দিকে মোড় না নেয়।

জামায়াতে ইসলামী ও
ইসলামী ছাত্রশিবিরের
ভাইদেরকে অনুরোধ করছি, আপনারা এই আলোচনায় শরীক হোন। হয়তো এই আলোচনাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন মানহাজের অনুসারী মুসলমান ভাইদের মধ্যে ভুল-বুঝাবুঝি কিছুটা দূর হবে।
এবং আল্লাহ হয়তো আমাদের সবাইকে তাঁর দ্বীনের জন্যে একত্রে কাজ করার সুযোগ দান করবেন। অন্ততঃ আমরা একে অন্যকে অন্যায়ভাবে বিরোধিতা করা থেকে, অন্যের উপর জুলুম করা থেকে মুক্ত থাকতে পারবো। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হক্বের উপর ঐক্যবদ্ধ হবার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেনো এই বিপদগ্রস্থ মুসলিম উম্মাহকে সাহায্য করেন। সবাইকে পরিপূর্ণ ইসলামের উপর চলার তৌফিক দান করেন।

= = = = = = =

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

আমাদের (তথা JI BICS ভাইদের) উদ্দেশ্যে এ প্রশ্নগুলো করেছেন শ্রদ্ধেয়




আমরা সবাই ব্যবসায়ী, টাকার পেছনে দৌড়াচ্ছি। ইসলামীক সাংস্কৃতির বিকাশে টাকা ঢেলেতো লাভ নেই, তার চাইতে বৈশাখী কোনো অনুষ্ঠানের স্পন্সর হলে ভালো প্রচারণা পাওয়া যাবে। সেখানে নৃত্য হবে, গান হবে, মৌলবাদ বিরোধী নাটক হবে, হাত তালি হবে, ব্যবসায়ের প্রসার হবে। অনেক অনেক টাকা হবে, সেই টাকা দিয়ে স্বপরিবারের মক্কায় গিয়ে হজ্ব করা যাবে।
সবচাইতে বেশি যে লাভ হবে সেটা হচ্ছে, নামের পূর্বে আলহাজ্ব লাগানো যাবে।

# রাম-বামরা যেভাবে ফাকা মাঠে গোল দিচ্ছে এর জন্য আমরাই দায়ী। 




হানীন ইলদারম
ক্রমান্বয়ে সংকীর্ণ
হয়ে আসছে জামাত-
শিবিরের
চলার পথ
জনাব কাদের
মোল্লা সাহেবের
ফাসি হল।
আমিসহ প্রায় সব
কওমী প্রতিবাদ-
সমবেদন
া-
মাগফিরাত
কামনা করে স্ট্যাটাস
দিলাম। তখন
দেখলাম অনেক
কওমী এক্টিভিষ্ট
আবেগাপ্লুত
হয়ে কেদে দিয়েছেন,
অনেকে বলেছেন,
যারা কাদের
মোল্লার
ফাসি নিয়ে উল্লাস
করবে তাদেরকে বিনা নোটিশে আনফ্রেন্ড
করা হবে।
কিন্তু কিছুদিন
পরেই জামাত-
শিবিরের
ভায়েরা আমাদের
এই
সমবেদনার যথার্থ
মুল্যায়ন করলেন!!
যখন ২৫
শে ডিসেম্বর
হেফাজত
ঢাকায়
মহাসমাবেশ
করতে ব্যর্থ
হলো তখন
তারা টিটকারী করে আমাদেরকে মুল্যায়ন
করলেন।
সর্বশেষ
তারা আমাদেরকে মুল্যায়ন
করলেন
গতদিনের
হেফাজতের
মহাসমাবেশকে উপহাস
করে। এখন
তাদের
ভাষা হচ্ছে হেফাজতে নাস্তিক,
হেফাজতে লীগ
ইত্যাদি।
যা উল্লেখ
করতেই
ইচ্ছে করছে না।
কিন্তু জামাত-
শিবিরের
ভায়েরা হয়তো বুঝতে ভুল
করছেন
এসব
টাট্টা তামাশা করে নিজেদের
চলার পথ
আরো সংকীর্ণ
করছেন।
এম্নিতেই দেশের
সবচেয়ে সংকীর্ণমনা এবং সংকীর্ণ
পরিবেশের দল
হচ্ছে এই জামাত।
তাহলে কী হবে আগামীতে?
আসুন এবার
দেখি কীভাবে জামাত-
শিবির
সংকীর্ণ-
* একাত্তরের
কারণে দেশের
রাম-
বামের
কোনোভাবেই সহ্য
করে না এই
জামাতকে।
*দেশের বিরাট
জনগোষ্ঠি আওয়ামীলীগের
সাথে তাদের
বাহ্যিক
স্থায়ী শত্রুতা।
* জাপার একাংশ
কাছে পাওয়ার
পর বিএনপির
কাছে জামাত
টিস্যু
পেপারের
মতো হয়ে গেছে।
তাছাড়া তাগুত
রফিকুল হকসহ
বেশ
কজন
বিএনপিপন্থী বুদ্ধিব্যবসায়ী বিএনপিকে জামাত
তালাকের নসিহত
করছেন।
*
ইসলামী আন্দোলন
এবং চরমোনাই
পীর সাহেবের
সাথে তাদের
রাজনৈতিক-
আদর্শি ক
দুরত্ব।
* শায়খ
জাওয়াহিরির
বার্তাপ্রকাশের
পর তারা শায়খ
উসামা বিন লাদেন
রাহ.এর
ছবিকে বিকৃত
করার কারণের
সবধরনের
জিহাদীদের
সাথে তাদের
দুরত্ব
তৈরি হয়েছে।
তাছাড়া জিহাদী-
খিলাফতপন
্থীদেরকে তারা কোনোভাবেই
সহ্য
করতে পারে না।
* সর্বশেষ
হেফাজতের
সাথে তাদের
দুরত্ব।
বাংলাদেশের আর
কোনো দল
এতো সংকীর্ণ হয়
নি যতটুকু
সংকীর্ণ
হয়েছে এই
জামাত-শিবির।
তাগুতবাহিনী তো তাদেরকে এম্নিতেই
দুরে টেলে দিয়েছে আর
ইসলামী দলকে তারাই
দুরে টেলে দিয়েছে।
কোনো ইসলামিদলের
প্রতি তারা কোনোদিনই
সত
ধারণা পোষণ
করেনি। একান্ত
নিভৃতে যদি তাদের
কোনো নেতার
পাশে বসেন
তাহলে দেখবেন
অন্যদলের
প্রতি তাদের
মনোভাব।
স্বার্থের
খাতিরে যদিও
কখনো সখনো এক
হয়েছে কিন্তু
যখুনি তাদের
স্বার্থের
উল্টো হয়েছে সাথে সাথে তারা ওইদলের
প্রতি বিভিন্ন
অপবাদ দিয়েছে।
দেশের
প্রতিটি দল
তাদেরকে মুনাফিকই
মনে করে।
কেউ
তাদেরকে বিশ্বাস
করে না।
কারণ স্বার্থের
জন্যে তারা কখনো এরশাদের
লাঙ্গল হবে,
কখনো বিএনপির
সিড়ি হবে,
কখনো আওয়ামীলীগের
মই হবে।
কখনো শাহবাগে চাদা দিবে,
কখনো প্যারেড
ময়দানে দান
করবে।
স্বার্থের
কারণে তারা সৌদীআরবে টাকা খাইবে,
শীয়ারাষ্ট্র
ইরানের
টাকা নেবে,
তুরস্কের
কাছে হাত
পাতবে, আবার
আমেরিকার
কাছে বিচার
চাইবে ইত্যাদি।
আর তাদের
স্বার্থ
হচ্ছে ব্যবসা-
বাণিজ্য,
হাসপাতাল-
ব্যাংক
ইত্যাদি।
তাদের
মুনাফেকী যে শুধু
বাংলাদেশে তা নয়।
বরং বিশ্বের
যেথায় জামাত
সেথায় মুনাফিক।
জামায়াতে ইসলামী আফগানিস্তানের
প্রধান
হচ্ছে বুরহানুদ্দিন
রব্বানি।
আমেরিকার
আপত্তি না থাকায়
সে রাশিয়াবিরোধী জিহাদে অংশগ্রহণ
করে। কিন্তু
যেইমাত্র
আমেরিকা আফগানিস্তানে হামলা চালায়
তখন
সে আমেরিকার
সাথে যোগ
দেয়।
এবং আমেরিকাকে আহবান
করে তালেবানের
বিরুদ্ধে কঠোর
হতে।
পরে তালেবান
তাকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়।
জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের
প্রধান ছিল মৃত
কাযী হোসাইন
আহমদ।
সে একবার
সৌদীআরবে গিয়ে তেহরীকে তালেবান
পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী সংগঠন
বলে। পরে যখন
তালেবান
শক্তিশালী হয়ে যায়
তখন তাদের
বর্তমানপ্রধান
মুনাওয়ার হাসান
তালেবানের
হয়ে কথা বলা শুরু
করেন। তাই
তালেবান তাদের
একজনকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ
করে।
তারা যদি মনে তাদের
ব্যাংক,
হাসপাতাল,
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
মিডিয়া আছে তাই
অনেক
শক্তিশালী।
তাহলে তাদের
জেনে রাখা উচিত,
এগুলো ইখওয়ানেরও
ছিল কিন্তু
বিপদের সময়
কিছুই
কাজে আসেনি।
মুরসি যাদেরকে বন্ধু
বানিয়েছিলেন
আজ
তারা কোথায়?
ইরান-আমেরিকা-
সৌদীআরব
তো তাদের
জন্যে কিছু
করে নি।
উল্টো তারা ফেরআউন
সিসিকে সাহায্য
দিয়েছে।
কিন্তু
তিনি যাদেরকে দমন
করতে সিনাইতে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন
আজ সিনাইয়ের
সেই
জঙ্গিগোষ্ঠি আন্সারুল
বায়তিল
মাকদিস রাবেয়া-
নাহদা স্কয়ারের
গণহত্যার
প্রতিশোধ
নিচ্ছে।
আলহামদুলিল্লাহ
দুই
সপ্তাহপুর্বে আল
জাজিরার
রিপোর্ট
অনুযায়ী তারা এযাবত
২৫২ জন
ফেরআউনসেনাকে হত্যা করেছে আর
আহত
করেছে ১৮৭
সেনাকে।
জামাত-শিবিরের
ভায়েরা,
এখনো সময়
আছে শত্রুমিত্র
চিনতে শিখুন।
নতুবা দেখবেন
আপনাদের
শিবিরকর্মী গণতন্ত্রের
জন্যে পেট্রোলবোমা হাতে রাস্তায়
পড়ে আছে কেউ
তাকে হাসপাতালে যাচ্ছে না।
আপনাদের
নেতাদেরকে তিনতলার
ছাদ
থেকে গুলি করে নিক্ষেপ
করা হয়েছে কেউ
টু শব্দ করছে না।
ক্রেকডাউনের
নামের জামাত
শিবিরের
বিভিন্ন এলাকায়
তান্ডব
চলছে কেউ উহ
শব্দ করছে না।
একেরপর এক
নেতা ফাসির
দড়িতে ঝুলছেন
বাকীরা তামাশা দেখছে।
কারণ
আপনারা যে শান্তিবাদী তাই
তালেবান-
আলকায়দা
র পথ
ধরবেন
না।
আপনারা যেই
আমেরিকা-ইরান-
তু
রস্ক-সৌদী-
বিএনপ িকে বন্ধু
মনে করেন
এরা কেউই
আপনাদের
টিস্যুপেপার
ছাড়া অন্যকিছু
মনে করে না।
আর
যারা এগিয়ে আসার
সম্ভাবনা রাখে তাদেরকে আপনার
দুরে টেলে দিয়েছেন।
আপনারা দেখেছেন
৫ই মে'র পর
আপনাদের উপর
কত নির্যাতন
বয়ে গেছে কিন্তু
কারা এর
বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে?
মনে আছে আল্লামা বাবুনগরি কি বলেছেন?
আপনারা বলেন
জামাত
না থাকলে এদেশে কওমী থাকবে না।
তাহলে শুনুন,
জামাতের
প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী সাহেব
প্রথমে কওমীদের
পত্রিকা সাপ্তাহিক
জমিয়তে চাকুরি করতেন।
পরে ১৯৪১
সালে জামাতের
জন্ম দেন। আর
কওমীর জন্ম
হয়েছে ১৮৬৬
সালে দারুল উলুম
দেওবন্দ
প্রতিষ্ঠার
মাধ্যমে।
দেওবন্দের
প্রতিষ্ঠাতা হুজ্জাতুল
ইসলাম
কাসিম
নানুতবি রাহ
১৮৫৭
সালে শামেলীর
ময়দানে মুজাহিদদের
নেতৃত্ব
দিয়েছিলেন।
সুতরাং যখন
জামাত ছিল
না তখনো কওমী ছিল।
যখন জামাত
থাকবে না তখনো কওমী থাকবে ইনশা আল্লাহ।
আমরা দুনিয়াবী যুক্তি-
বস্তুর উপর ভর
করি না। এক
আল্লাহর উপর
ভরসা করি।
তো আপনারা শত্রুমিত্রকে কুরআন-
সুন্নাহের
আলোকে যাচাই
করুন।
গণতন্ত্রের
আলোকে নয়।
সত্যকে নিরপেক্ষ
দৃষ্টিতে দেখুন
সন্দেহের
তীরে নয়।


 

প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত বনাম ইসলামী আন্দোলণ।।

প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত বনাম ইসলামী আন্দোলণ।।

প্রশ্ন- ছয় চিল্লা দিয়ে দেশ বিদেশ সফর করে, সাথে আরও বিশ ত্রিশ বছর ধরে মারকাজে সময় কাটানোর পরেও তাবলীগের কোন কোন সাথী কি কারণে সেকুল্যার কুফরি মতবাদের সমর্থক থাকতে পারে ? সুযোগ পেলেই কেনইবা নাস্তিক্যদের সহযোগী হয়ে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে শরীক হয়? উদাহারণ চাইলে শত শত লোকের ফিরিস্তি দেওয়া যেতে পারে। এর কারণ কি ?
উত্তর- তাবলীগ জামায়াত মুলত আম জনতার জন্য ইসলাহী সংগঠণ। এতে সকল মত ও পথের লোকেরা শরিক হতে পারে। চিন্তা, কর্মে বিভ্রান্ত আকীদা বিশ্বাসের লোকেরা এখানে আসে এবং কিছু সময়ের জন্য হেদায়েতের বয়ান শুনে চলে যায়। যারা বেশি দিন সময় দেন তারা কিছুটা হলেও আমল আখলাকে ‍উন্নতি করার সুযোগ পান। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সংখ্যা কিন্তু অগনিত। এর কারণ হলো, সেখানে যাওয়ার পরে তাদের কে নবী রাসুলদের প্রদত্ত তরিকায় দাওয়াত ও তরবিয়াত দিয়ে আকীদা বিশ্বাসের ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধণ না করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কতিপয় আমল আখলাকের দিকে নজর দেওয়া হয়। বলা হয় আমরা নবীর তরিকায় দাওয়াত দেই। বিষয়টি সত্য কিন্তু নবীর ভাষায় দাওয়াত দেওয়া হয়না। নবীর (স) দেখানো সুন্নাত মোতাবেক দিক নির্দেশণা দেওয়া হয় না। বিশেষ করে একটি কথা না বললেই নয়, প্রত্যেক দেশের জন্য একই উসূল নির্ধারণ করা অবশ্যই সুন্নাহর খেলাফ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রের দাওয়াত ও তাবলীগের ভাষার সাথে অমুসিলম রাষ্ট্রে কর্মসূচীতে আকাশ পাতাল ফারাক থাকার কথা থাকলে এখানে সেটা নেই। ফলে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে তাবলীগের প্রচলিত কর্মসূচী এক ধরণের ফেতনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বিষয়টি সামনের আলোচণায় পরিস্কার হয়ে যাবে।
মুলত ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিবর্তে কতিপয় আমল আর উসুলের বয়ানের মধ্যে নিজেদের আহ্বান সিমাবদ্ধ রাখার কারণে তাবলীগ জামায়াতের সাথে অনেক দিন সময় লাগানোর পরেও অধিকাংশ লোকজন সম-সাময়িক ফেতনা সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান পায় না। ঈমান ধ্বংসকারী কাজ ও চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার শিক্ষা পায় না। ঈমান আনার প্রাথমিক শর্তগুলো নিয়ে সরাসরি কোন আলোচণা হয় না বলে বর্তমান প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় ঈমানের মৌলিক দাবিগুলো নিয়ে বাস্তবতার আলোকে অধ্যায়ণ করারও সুযোগ হয় না। ফলে লোকজনের অন্তরে পোষণ করা পুর্বের আকীদা বিশ্বাসের গোমরাহীর কোন পরিবতণ না হলেও আমল আখলাকে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এটাকেই বিশাল সফলতা বলে প্রচার করা হয়। অথচ বহু বিধমী আছে যাদের আমল আখলাক অত্যান্ত উচু মানের কিন্তু তারা জাহান্নামী হবেন। কেণনা এই ব্যক্তি আমলের দিক দিয়ে উচ্চতায় আসতে পারলেও সত্যিকারের ঈমানের দৌলত হাত ছাড়া করেছে। এ কারণে প্রত্যেক নবী রাসুলগণ তাদের উম্মাতকে ঈমান আনার সাথে সাথে ঈমান ধ্বংসকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে অত্যান্ত পরিস্কার ভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে সে সম্পর্কে সচেতণ করতেন।
অথচ তাবলীগের বিরুদ্ধে ঘোতর অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ওজু ভংগের কারণ শিখালেও ঈমান ভংগের কারণ শিখাতে পারছেন না কোন এক অজ্ঞাত কারণে। ফলে এই জামায়াতে আগত লোকেরা নিজেদের মধ্যে আলোচিত খুটিনাটি বিষয়কেই ইসলাম ভেবে এর পেছনে গোটা জীবনের মুল্যবান সময় অতিবাহতি করে দেয়, ঈমানের অন্যান্য আনুসাঙ্গীক ফরজীয়াতগুলো সম্পর্কে বেখবর থেকে যায়। যার কারণে অধিকাংশ লোকেরা তাবলীগের সময় দেওয়ার পরেও সমকালিন শিরক আর কুফরি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সম্বলিত শিক্ষা না পাওয়ার কারণে অজ্ঞাতসারে নিজেদের অন্তরে রক্ষিত বাতিলের প্রতি পুর্বের আকীদা বিশ্বাস বহন করে পথ চলেন আর ভাবেন এসব কিছু ঈমান আর আমলের তরক্কির প্রতিবন্ধক নয়। কেননা তাদের উসুলে বা বাতিলের সংজ্ঞায় সম-সাময়িক গোমরাহীর কোন আলোচণা হয় না বলেই চলে। ফলে তাগুতের অনুশারীরাও সাময়িক ফায়দার জন্য তাদের দারস্থ হয়ে থাকেন। নিজেদের হাজারো অপকর্মগুলো ঢাকার স্বার্থে নিজেদের জীবনে ধার্মীকতা কিছু রং মাখতে তারা তাবলীগ জামায়াতকে ব্যবহার করতে পারেন অনাশায়ে।
এই সমস্যা মুল কারণ হলো, প্রায় একই ধরণের বয়ান আর বিবৃতি প্রত্যেক দেশের জন্য বরাদ্ধ করে দেওয়া। অথচ আল্লাহ পাক তার রাসুল প্রেরণের নীতিমালায় স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন যে, তিনি প্রত্যেক জনপদের লোকদের কে ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সমকালিন সব থেকে বড় বড় গোমরাহী সম্পর্কে সচেতণ করার জন্য আলাদা আলাদা করে নবী প্রেরন করেছেন। একেক অঞ্চলের উপযোগী দাওয়াতী বক্তব্য আর কর্মসূচী দিয়ে আম্বিয়াদেরকে প্রেরণ করেছেন। উদাহারণ হিসেব ধরুন- নুহ আ কে পাঠানো হলে তার যুগের সব থেকে বড় গোমরাহী মৃত বুজুর্গলোকদের নামে মুর্তি তৈরি করে তার পুজার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য। পাশাপাশি গোমরাহ নেতাদের আনুগত্য না করে তার আনুগত্য করতেও আহ্বান জানালেন দ্যার্থহীন্ ভাবে। সুরা মুমিনুনে এই বিষয়ে বিস্তারিত রয়েছে।
লূত আ কে প্রেরণ করা হলে কলেমার দাওয়াতের পাশাপাশি তিনি তার সময় কার প্রচলিত প্রধান গোমরাহী সমকামিতার বিরুদ্ধে চরম আওয়াজ তোলেন। শোয়াইব আ কে প্রেরণ করা হলে তিনি ওজনে কম দেওয়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেন। এ জন্য তাকে বিরাট ফেতনার মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার সমাজে ডাকাতীর ঘটনা ছিলো নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। অবাধে খুন রাহাজানীও চলছিলো। তিনি এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।
ফেরাউনের বিরুদ্ধে মূসা আ কে প্রেরণ করা হয় বনী ইসরাঈলকে মুক্ত করার অগ্রাধিকার দিয়ে। মূসা আ ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি তাকে স্পষ্ট বলে দেন বনী ইসরাঈল কে আমার সাথে দিয়ে দাও। ফেরাউন এ কাজে স্বৈরাচারের ‍ভূমিকায় অবর্তিণ হয়। মূসা আ এর দাওয়াতের ভিতর সে তার সাম্রাজ্যের পতণ দেখতে পেয়ে তার ওমরাহদের কে বলেছিলো-আমি আশংকা করছি সে আমাদের জীবন ব্যবস্থা বদলে দেবে অথবা দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে দেবে- সূরা আল মুমিন-২৬।
এসব ঘটনাবলী কিন্তু কোরআনেই রয়েছে। এসব থেকে এই সবক পাওয়া যায় যে, দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ হলো নবীওয়ালা জিম্মাদারী। অতএবর সকল ভয়ভীতির ‍ উদ্ধে উঠে নবীদের মতো দায়িত্ব্য পালণ করতে হবে। সমকালিন কুফরী আর গোমরাহীর বিরুদ্ধে আওয়াজ ‍উত্থিত করে তার বিরুদ্ধে লোক সকল কে হুশিয়ার করাই নবীওয়ালা কাজ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, তাবলীগ জামায়াতের অনেক সাথীও বলতে পারেন না সমকালিন জগতে সব থেকে সর্বনাশা ফেতনা কোনটি যা সাধারণ মানুষকে ঈমানের বিপরিত পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থার কারনেই প্রশ্নে উল্লিখত উদাহারণের সম্মুক্ষিন হতে হচ্ছে। এ অবস্থা এক প্রকার ফেতনার মতোই। লোকজন ভাবে সে শরীয়াত প্রদত্ত দায়িত্ব্য পালণ করছে কিন্তু সে সত্যিই পথ হাড়ার মতো আচরণ করছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা বলেন, নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া সত্বেও অনেক লোক সত্য পর্যন্ত পৌছতে পারে না।
পরবর্তি প্রশ্ন হলো-
প্রচলিত ইলিয়াস (রহ) এর দেখানো তাবলীগের সাথে সমসামিয়ক ইসলামী রাজনীতির মৌলিক পার্থক্য কি ? ইসলামী রাজনীতি বলতে জামায়াত ইসলামীই নয়, সকল হক্কানী দলের বৈশিষ্টের কথাই বলা হচ্ছে। (সাথেই থাকুন, পারলে শেয়ার করুন। যুক্তি সংগত ভূলগুলো শুধরে নিতে সহায়তা করুন।)