শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

তাবলীগ বনাম ইসলামী আন্দোলণ

নবী-রাসুলদের (আ) দাওয়াত ও বর্তমান তাবলীগ
 
প্রশ্ন- নবী-রাসুলদের (আ) দাওয়াত ও বর্তমান তাবলীগ জামায়াতের দাওয়াতের মধ্যে মৌলিক পাথ্যর্ক কি কি ?

   উত্তর-: নবী ও রাসুলদের দাওয়াত ও তাবলীগের সাথে বর্তমান সময়ের তাবলীগের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। নবী রাসূলগণ যে ভাষায় দাওয়াত দিতেন তার বিবরণ কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে রয়েছে। কোরআন বলছে কোন অঞ্চলের নবীগণ কোন ধরণের কাটছাট না করে ইসলামকে উপস্থাপণ করতেন এবং সকল প্রকার তাগুতের সাথে বিদ্রোহ করে এক আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করতেন। যে যে ক্ষেত্রে লোকজন আল্লাহকে ছেড়ে দিয়ে সমসাময়িক তাগুতের বা তাগুতের প্রতিষ্টিত ব্যবস্থার আনুগত্য করতো, তারা সেসবের বিরুদ্ধে জোড় আওয়াজ তুলতেন, এ কাজে কোন পরোয়া করতেন না বা হেকমত খাটানোর প্রয়োজণ বোধ করতেন না। কোরআনের নিমোক্ত বর্ণনাগুলো আমাদের কথার দলিল।

আল্লাহ পাক বলেন-
“আল্লাহর গোলামী করো, তাগুতের আনুগত্য পরিত্যাগ করো- এই শিক্ষা দিয়ে প্রতিটি জাতির কাছে আমি একজন রাসুল প্রেরণ করেছি-সূরা আন নাহল-৩৬।

এ কারণে আমাদের কে বলা হলো- “অতঃপর যারা তাগুতের সাথে কুফরি করলো, এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলো তারা এমন এক মজবুত রশি ধারণ করলো যা ছিড়ে যাবার নয়।- সুরা বাকারা-২৫৬।”

অন্য আয়াতে সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে তাদের জন্য যারা তাগুতে আনুগত্য ত্যাগ করে আল্লাহ হুকুমের গোলাম হয়ে যায়।
ইরশাদ হচ্ছে-“ যারা তাগুতের ইবাদত ত্যাগ করে আল্লাহ দিকে প্রত্যাবর্তন করবে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ-সূরা আয-যুমার-১৭।

এসব আয়াত থেকে নবীদের দাওয়াতী কাজের একটি স্পষ্ট পদ্ধতি খুজে পাওয়া যায় তাহলো এই যে, তারা আল্লাহর ওপর ঈমান আনা বা আল্লার গোলামীর দাওয়াত দেওয়ার সাথ সাথে তাগুতের পরিচয় তুলে ধরে তাদের থেকে লোকদের কে সতর্ক করতেন। যেসব ক্ষেত্রে লোকেরা তাগুতের আনুগত্য করতো, সেগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট করে লোকদের কে নসিহাত করতেন। অন্যকথায় বলতে গেলে আম্বীয়াগণ শুরুতেই তাগুতের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে আল্লাহর দিকে আহ্বান করতেন। এ কারনেই কলেমার প্রথম শব্দটি হলো “নেই কোন ইলাহ”। সমস্ত ইলাহগুলোকে পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত আল্লাহ পাকের উলুহিয়াত কবুল করার ভিতর কোন ফায়দা নেই।তাবলীগের দাওয়াতের ভাষায় বা উসূলে তাগুতের সুস্পষ্ট কোন পরিচয় নেই। তারা তাগুত সম্পর্কে লোকজনের সামনে কোণ ধারণাই পেশ করে না। বরং খোজ নিলে যানা যাবে বহু তাগুত এই আন্দোলণকে নিজেদের সামথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।

আল্লাহর পরিচয় পাওয়ার জন্য যে পরিমান ইলম অর্জন করা জরুরী,ঠিক তদ্রুপ ইলমও তাগুতের বিষয়ে অর্জন করা জরুরী। নতুবা লোকজন সকাল বেলা আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও শান মানের বয়ান করবে, রাতের বেলা তাগুতের বন্দেগীর বেড়ি গলায় জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। এই অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য নবীওয়ালা ভংগিতে দাওয়াতের কাজ করতে হবে।

অথচ এই জরুরী বিষয় সম্পর্কে আমাদের দেশের দাওয়াত ও মেহনতের সাথে যুক্ত হযরতগণ জ্ঞাতসারে অথবা অজ্ঞাতসারে সম্পুর্ণ বেখবর থাকার চেষ্টা করছেন। বলা হয়, এদের দাওয়াতের মধ্যে এক আল্লাহর কথা তো পাওয়া যায় কিন্তু তাগুতের বিরুদ্ধে কোন আওয়াজ পাওয়া যায় না। ফলে লোকজন ঈমান ভংগের আসল এবং একমাত্র কারণ সম্পর্কে বেখবর থেকে যায়। এই অজ্ঞতার কারণে তারা এক আল্লাহর সাথে সাথে বহু তাগুতের আনুগত্য করতে থাকে। ফলে তাদের জীবনে এক ধরণের দ্বৈত ব্যবস্থা এসে ভর করে। যে কারণে এদের সাথে শরিক হওয়া বিভিন্ন পেশার লোকেরা অজ্ঞতার কারণে এক আল্লাহর সাথে সাথে বহু খোদার খোদায়ী স্বিকার করে নিয়ে জীবন যাপণ করে।


প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত বনাম ইসলামী আন্দোলণ।।

প্রশ্ন- ছয় চিল্লা দিয়ে দেশ বিদেশ সফর করে, সাথে আরও বিশ ত্রিশ বছর ধরে মারকাজে সময় কাটানোর পরেও তাবলীগের কোন কোন সাথী কি কারণে সেকুল্যার কুফরি মতবাদের সমর্থক থাকতে পারে ? সুযোগ পেলেই কেনইবা নাস্তিক্যদের সহযোগী হয়ে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে শরীক হয়? উদাহারণ চাইলে শত শত লোকের ফিরিস্তি দেওয়া যেতে পারে। এর কারণ কি ?

উত্তর- তাবলীগ জামায়াত মুলত আম জনতার জন্য ইসলাহী সংগঠণ। এতে সকল মত ও পথের লোকেরা শরিক হতে পারে। চিন্তা, কর্মে বিভ্রান্ত আকীদা বিশ্বাসের লোকেরা এখানে আসে এবং কিছু সময়ের জন্য হেদায়েতের বয়ান শুনে চলে যায়। যারা বেশি দিন সময় দেন তারা কিছুটা হলেও আমল আখলাকে ‍উন্নতি করার সুযোগ পান। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সংখ্যা কিন্তু অগনিত। এর কারণ হলো, সেখানে যাওয়ার পরে তাদের কে নবী রাসুলদের প্রদত্ত তরিকায় দাওয়াত ও তরবিয়াত দিয়ে আকীদা বিশ্বাসের ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধণ না করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কতিপয় আমল আখলাকের দিকে নজর দেওয়া হয়। বলা হয় আমরা নবীর তরিকায় দাওয়াত দেই। বিষয়টি সত্য কিন্তু নবীর ভাষায় দাওয়াত দেওয়া হয়না। নবীর (স) দেখানো সুন্নাত মোতাবেক দিক নির্দেশণা দেওয়া হয় না। বিশেষ করে একটি কথা না বললেই নয়, প্রত্যেক দেশের জন্য একই উসূল নির্ধারণ করা অবশ্যই সুন্নাহর খেলাফ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রের দাওয়াত ও তাবলীগের ভাষার সাথে অমুসিলম রাষ্ট্রে কর্মসূচীতে আকাশ পাতাল ফারাক থাকার কথা থাকলে এখানে সেটা নেই। ফলে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে তাবলীগের প্রচলিত কর্মসূচী এক ধরণের ফেতনার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বিষয়টি সামনের আলোচণায় পরিস্কার হয়ে যাবে।

মুলত ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিবর্তে কতিপয় আমল আর উসুলের বয়ানের মধ্যে নিজেদের আহ্বান সিমাবদ্ধ রাখার কারণে তাবলীগ জামায়াতের সাথে অনেক দিন সময় লাগানোর পরেও অধিকাংশ লোকজন সম-সাময়িক ফেতনা সম্পর্কে নুন্যতম জ্ঞান পায় না। ঈমান ধ্বংসকারী কাজ ও চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার শিক্ষা পায় না। ঈমান আনার প্রাথমিক শর্তগুলো নিয়ে সরাসরি কোন আলোচণা হয় না বলে বর্তমান প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় ঈমানের মৌলিক দাবিগুলো নিয়ে বাস্তবতার আলোকে অধ্যায়ণ করারও সুযোগ হয় না। ফলে লোকজনের অন্তরে পোষণ করা পুর্বের আকীদা বিশ্বাসের গোমরাহীর কোন পরিবতণ না হলেও আমল আখলাকে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এটাকেই বিশাল সফলতা বলে প্রচার করা হয়। অথচ বহু বিধমী আছে যাদের আমল আখলাক অত্যান্ত উচু মানের কিন্তু তারা জাহান্নামী হবেন। কেণনা এই ব্যক্তি আমলের দিক দিয়ে উচ্চতায় আসতে পারলেও সত্যিকারের ঈমানের দৌলত হাত ছাড়া করেছে। এ কারণে প্রত্যেক নবী রাসুলগণ তাদের উম্মাতকে ঈমান আনার সাথে সাথে ঈমান ধ্বংসকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে অত্যান্ত পরিস্কার ভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে সে সম্পর্কে সচেতণ করতেন।

অথচ তাবলীগের বিরুদ্ধে ঘোতর অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ওজু ভংগের কারণ শিখালেও ঈমান ভংগের কারণ শিখাতে পারছেন না কোন এক অজ্ঞাত কারণে। ফলে এই জামায়াতে আগত লোকেরা নিজেদের মধ্যে আলোচিত খুটিনাটি বিষয়কেই ইসলাম ভেবে এর পেছনে গোটা জীবনের মুল্যবান সময় অতিবাহতি করে দেয়, ঈমানের অন্যান্য আনুসাঙ্গীক ফরজীয়াতগুলো সম্পর্কে বেখবর থেকে যায়। যার কারণে অধিকাংশ লোকেরা তাবলীগের সময় দেওয়ার পরেও সমকালিন শিরক আর কুফরি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সম্বলিত শিক্ষা না পাওয়ার কারণে অজ্ঞাতসারে নিজেদের অন্তরে রক্ষিত বাতিলের প্রতি পুর্বের আকীদা বিশ্বাস বহন করে পথ চলেন আর ভাবেন এসব কিছু ঈমান আর আমলের তরক্কির প্রতিবন্ধক নয়। কেননা তাদের উসুলে বা বাতিলের সংজ্ঞায় সম-সাময়িক গোমরাহীর কোন আলোচণা হয় না বলেই চলে। ফলে তাগুতের অনুশারীরাও সাময়িক ফায়দার জন্য তাদের দারস্থ হয়ে থাকেন। নিজেদের হাজারো অপকর্মগুলো ঢাকার স্বার্থে নিজেদের জীবনে ধার্মীকতা কিছু রং মাখতে তারা তাবলীগ জামায়াতকে ব্যবহার করতে পারেন অনাশায়ে।

এই সমস্যা মুল কারণ হলো, প্রায় একই ধরণের বয়ান আর বিবৃতি প্রত্যেক দেশের জন্য বরাদ্ধ করে দেওয়া। অথচ আল্লাহ পাক তার রাসুল প্রেরণের নীতিমালায় স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন যে, তিনি প্রত্যেক জনপদের লোকদের কে ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সমকালিন সব থেকে বড় বড় গোমরাহী সম্পর্কে সচেতণ করার জন্য আলাদা আলাদা করে নবী প্রেরন করেছেন। একেক অঞ্চলের উপযোগী দাওয়াতী বক্তব্য আর কর্মসূচী দিয়ে আম্বিয়াদেরকে প্রেরণ করেছেন। উদাহারণ হিসেব ধরুন- নুহ আ কে পাঠানো হলে তার যুগের সব থেকে বড় গোমরাহী মৃত বুজুর্গলোকদের নামে মুর্তি তৈরি করে তার পুজার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য। পাশাপাশি গোমরাহ নেতাদের আনুগত্য না করে তার আনুগত্য করতেও আহ্বান জানালেন দ্যার্থহীন্ ভাবে। সুরা মুমিনুনে এই বিষয়ে বিস্তারিত রয়েছে।

লূত আ কে প্রেরণ করা হলে কলেমার দাওয়াতের পাশাপাশি তিনি তার সময় কার প্রচলিত প্রধান গোমরাহী সমকামিতার বিরুদ্ধে চরম আওয়াজ তোলেন। শোয়াইব আ কে প্রেরণ করা হলে তিনি ওজনে কম দেওয়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেন। এ জন্য তাকে বিরাট ফেতনার মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার সমাজে ডাকাতীর ঘটনা ছিলো নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। অবাধে খুন রাহাজানীও চলছিলো। তিনি এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।

ফেরাউনের বিরুদ্ধে মূসা আ কে প্রেরণ করা হয় বনী ইসরাঈলকে মুক্ত করার অগ্রাধিকার দিয়ে। মূসা আ ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি তাকে স্পষ্ট বলে দেন বনী ইসরাঈল কে আমার সাথে দিয়ে দাও। ফেরাউন এ কাজে স্বৈরাচারের ‍ভূমিকায় অবর্তিণ হয়। মূসা আ এর দাওয়াতের ভিতর সে তার সাম্রাজ্যের পতণ দেখতে পেয়ে তার ওমরাহদের কে বলেছিলো-আমি আশংকা করছি সে আমাদের জীবন ব্যবস্থা বদলে দেবে অথবা দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে দেবে- সূরা আল মুমিন-২৬।

এসব ঘটনাবলী কিন্তু কোরআনেই রয়েছে। এসব থেকে এই সবক পাওয়া যায় যে, দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ হলো নবীওয়ালা জিম্মাদারী। অতএবর সকল ভয়ভীতির ‍ উদ্ধে উঠে নবীদের মতো দায়িত্ব্য পালণ করতে হবে। সমকালিন কুফরী আর গোমরাহীর বিরুদ্ধে আওয়াজ ‍উত্থিত করে তার বিরুদ্ধে লোক সকল কে হুশিয়ার করাই নবীওয়ালা কাজ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, তাবলীগ জামায়াতের অনেক সাথীও বলতে পারেন না সমকালিন জগতে সব থেকে সর্বনাশা ফেতনা কোনটি যা সাধারণ মানুষকে ঈমানের বিপরিত পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থার কারনেই প্রশ্নে উল্লিখত উদাহারণের সম্মুক্ষিন হতে হচ্ছে। এ অবস্থা এক প্রকার ফেতনার মতোই। লোকজন ভাবে সে শরীয়াত প্রদত্ত দায়িত্ব্য পালণ করছে কিন্তু সে সত্যিই পথ হাড়ার মতো আচরণ করছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা বলেন, নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া সত্বেও অনেক লোক সত্য পর্যন্ত পৌছতে পারে না।

পরবর্তি প্রশ্ন হলো-
প্রচলিত ইলিয়াস (রহ) এর দেখানো তাবলীগের সাথে সমসামিয়ক ইসলামী রাজনীতির মৌলিক পার্থক্য কি ? ইসলামী রাজনীতি বলতে জামায়াত ইসলামীই নয়, সকল হক্কানী দলের বৈশিষ্টের কথাই বলা হচ্ছে। (সাথেই থাকুন, পারলে শেয়ার করুন। যুক্তি সংগত ভূলগুলো শুধরে নিতে সহায়তা করুন।)




বন্ধু >আমরা আওয়ামী লীগের সংবিধান পড়েছি।তাদের কার্যক্রম আমরা দেখেছি,দেখতেছি।তাদের কথা-বার্তা আমরা শুনতেছি।এখন স্পষ্ট ভাষায় বলুন তো,কোন মুসলমান কি তাদেরকে সমর্থন করতে পারে? করলে ঐ ব্যক্তির অবস্থান কোন পর্যায়ে যাবে।আমি দেখছি তাদের সমস্ত কাজ শিরকে পরিপুর্ন। আমি সন্দেহ ছাড়া বলছি এরা মুশরিক।আমি হেফাজতে ইসলামের অবস্থা দেখে অবাক হচ্ছি,তাদের কথা শুনে হতাশ হয়েছি, তারা বলে "আওয়ামী লীগ,ছাত্র লীগ আমাদের বন্ধু"।দেখুন,মহান আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ,সুরা তাওবা ২৩,২৪-"হে ইমানদারগন! তোমরা নিজেদের পিতা ও ভাইদেরকে অভিভাবক /বন্ধু রুপে গ্রহন করো না,যদি তারা ইমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে।আর তোমাদের যারা তাদেরকে অভিভাবক রুপে গ্রহন করে তারা সীমালংগনকারী।(২৪) বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা,তোমাদের সন্তান,তোমাদের ভাই,তোমাদের পত্নী তোমাদের গোত্র,তোমাদের অর্জিত সম্পদ,তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর (যে ভয় হেফাজত করতেছে),আর বাসস্হান যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তার রাসুল ও তার রাহে জেহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়,তবে অপেক্ষা কর আমার বিধান আসা পর্যন্ত।আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে পথ দেখান না। (সুরা নিসা ২৮)-মু'মিনগন যেন মু'মিন ব্যতিত। কাফেরকে বন্ধু রুপে গ্রহন না করে..............।(সুরা মুমতাহিনাহ ১)-হে মু'মিনগন,তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেকে বন্ধু রুপে গ্রহন করো না,..............................। "হে আল্লাহ! আপনি আমার বন্ধু,পৃথিবীর সমস্ত মু'মিন আমার বন্ধু, আমার বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নামক এ দলটি কুফরী /শিরিকি দল এরা আমার বন্ধু হতেই পারে না।হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাজত করলে আমি এদেরকে বন্ধু রুপে গ্রহন করবো না, এদের সাথে কোন আত্থীয়তার সম্পর্ক করবো না।এদের বাসায় কোন খাবার ও খাব না,এদের কোন সাহায্য গ্রহন করবো না (কাওমি আলেমেরা এদের ঘরে খাবার খায়, এদের অন্যায় ভাবে উপার্জিত অর্থ গ্রহন করে)।আমীন।কাউকে আঘাত দেওয়ার জন্য লিখিনি,আসলে আমাদের সবার মধ্যে ভুল রয়েছে, সংশোধন হওয়া জরুরী।কথাগুলো বেঠিক হলে জানাবেন।

Q.  ভাই আপনার প্রতি পূর্ন শ্রদ্ধা রেখেই আপনার কিছু কথার জবাব পেশ করছি।

ভাই আপনার অভিযোগ গুলা না কেমন জানি উদ্দেশ্য প্রনোদিত এবং রাগান্বিত একটা ভাব। আর অভিযোগ গুলার অধিকাংশই বানোয়াট।
--ভাই আপনি বললেন একজন তাবলীগ ওয়ালা অজু ভঙ্গের কারন জানলেও ঈমান ভঙ্গের কারন জানেনা। দেখুন তাবলীগের হাজারো রকমের মানুষের সমাগম ঘটে। ধনী গরীব, মুর্খ শিক্ষিত, মাওলানা, জেনারেল, সালাফী, হাম্বলী, শাফেয়ী, হানাফী, মালেকি, জামাতীসহ আরো বেশ কয়েক মতের লোকের মিলন মেলা হলো তাবলীগ। এত লোকের মিলনমেলা যেখানে সেখানে দু এক জন বা তারো বেশী গন্ডমূর্খ থাকতেই পারে। আর তাবলীগ তো কোন দেশীয় রাজনৈতিক দল কিংবা সংগঠন নয়, বিশ্বের এমন কোন মুসলিম এবং কিছু বিশেষ দেশ ব্যাতীত সকল অমুসলিম দেশে তাবলীগ বিদ্যমান। তাই অজু ভঙ্গের কারন জানলেও ঈমান ভঙ্গের কারন জানেনা এটা আপনার রাগের বহিঃপ্রকাশ। বরং আপনি যদি একজন তাবলীগ ওয়ালার সাথে মাসলা মাসায়েল এবং ইলমি আলোচনা করেন আপনিই তার ইলমের কাছে মাথা নত করবেন। মারকাজ থেকে স্ট্রেইট বলে দেয়া আছে যে যারা পারে তারা যেন অবশ্যই কুরআন থেকে দাওয়াত দেয়, যারা একান্তই না পারে তারা যেন কুরআন হাদিসের আলোকে একটা ফরমেট করা বয়ানই বলে, এতে তার ভুল বলার সম্ভাবনা কম থাকে।


A.  আমলের দাওয়াত তার জন্য প্রযোজ্য যে ঈমানের দাবিতে সত্য ও সঠিক চিন্তার অনুশারী। বিষয়টি কিন্তু ইয়ার্কি আর আবেগেরে বিষয় নয়। সামান্য ঈমান বিরোধী একটি কাজ করার কারণে দুইজন সম্মানিত সাহাবাকে বয়কট করার হুমকি দেওয়া হয়। তারা জামায়াতে নামাজও পড়তে পারেনি। বিষয়টি ভেবে দেখুন। আমলের দাওয়াত তো প্রত্যেক ব্যক্তিই দিচ্ছেন। এটাকে আবার নবী ওয়ালা কাজ বলা চলে নাকি ? নবী ওয়ালা জিম্মা কোনটা সেটা উপলদ্ধি করতে পারবেন পরবর্তি পোষ্টে।


নবীরা কিন্তু বলেননি তোমরা তোমাদের যুগের ফেতনা থেকে নিজেরা বাচো, আহাল কে বাচাও। এটুকো বললে তো নবীর কোন সমস্যা হতো না। কিন্তু যখন ফেতনার স্বরুপ সহ দাওয়াত দিলেন তখন আবু জেহেলরা শত্রু হয়ে গেলো। এখানেই সা’দ সাহেবদের কেরামতি। তারা ফেতনাকে আম করে বর্ণনা করেন কিন্তু নবীরা প্রকাশ্যে পরিচয় দিয়ে বর্ণনা করেন। মৌলিক পার্থক্যতো এটাই।

আর সা’দ সাহেব কে যদি প্রশ্ন করতেন যে, ফেতনা বলতে কি বুঝাতে চাইলেন ? টিভির ফেতনা নাকি সিনেমার ফেতনা দেখতেন তিনি কোন সংজ্ঞায় যেতেন না। কারন তার ‍উসুল তাকে বাধাগ্রস্ত করতো। আমি বলছি না আপনি কাউকে জোড় করে ঈমান আনান। কিন্তু ঈমান হেফাজতের পর্যায় গুলো তে বলতে হবে, ঈমান ধ্বংসের কারণগুলো তো শিক্ষা দিতে হবে। এর পরে যার ইচ্ছে মানবে যার ইচ্ছে কুফরির দিকে ধাবিত হবে। একটি স্টান্ডার্ড না ধরে নিলে আপনি মাপবেন কিভাবে ?




উত্তর দিন প্লিজ
ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্টা কি নবীর তরীকা নয় ?
আপনারা প্রচার করেন যে, " নবীর তরীকাই আমাদের তরীকা । "
তাই যদি হয় তবে প্রশ্ন করছি, নবী কি ইসলামী হুকুম প্রতিষ্ঠা করে ইসলামী শরিয়ত প্রবর্তন করেন নি ?
তিনি কি রাষ্ট্রপতি ছিলেন না ?
তিনিই কি মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করে সর্বপ্রথম ও সর্বোত্তম শাসন সংবিধান উপহার দেননি ?
তিনিই কি দোষী ব্যক্তিদেরকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাস্তির ব্যাবস্তা করেন নি ?
তিনিই কি প্রধান বিচারপতি ও সেনাপতির দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করেন নি ?
জবাব হবে, নিশ্চয়ই করেছিলেন। তবে আপনারা এই ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ পালন করেন না কেনো ?
রাসূলের প্রদর্শীত এই পথে অগ্রসর হন না কেনো ?


ইহুদী খ্রিষ্টানদের এজেন্ডা বাস্তবায়নঃ
ইহুদী খ্রিষ্টানরা চাচ্ছে মুসলমানরা মসজিদে মসজীদে তাদের ধর্ম কর্ম করবে তারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবেনা যাতে করে তারা তাদের আকাম কুকাম করতে পারে, আর তাবলীগ ঠিক তাদের সেই মিশন কে বাস্তবায়িত করতেই তাদের তথাকতিথ ৬ উসুলের মধ্যে ইকামতে দ্বীনকে রাখে নাই...

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন