শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

জামাত/শিবিরকে অপছন্দ করি কেন?





 

*আমরা কেন জামাত/শিবিরকে অপছন্দ করি অথবা আমাদের কেন জামাত/শিবিরকে অপছন্দ করা উচিত?
‪#‎এর‬ উত্তর বুঝতে হলে, আগে কয়েকটা বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে।
প্রথমত, ইসলাম কেন এসেছে?
এই প্রসঙ্গে সূরা তওবার ৩৩ নাম্বার আয়াতটা দেখতি পারি।

"তিনিই প্রেরন করেছেন আপন রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।"(9:33)
সুতরাং এটা স্পষ্ট যে ইসলাম এসেছে অন্য সকল দ্বীনের উপর জয়ী হতে,শাসন করতে। আমরা রাসূল সাঃ এর সিরাত/জীবনি থেকে দেখতে পাই যে, তিনি পৃথিবীর একটা বড় অংশ জুরে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করেছেন তথা বিজয় করেছেন।
দ্বীতিয়ত, রাসূল সাঃ কিভাবে ইসলামকে অন্যান্য দ্বীনের উপর জয়ী করেছেন?
তার জীবন থেকে আমরা দেখতে পাই যে ইসলামকে বিজয়ী করতে রাসূল সাঃ দাওয়াত এবং জিহাদ ব্যাতিত অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করেন নি।
সুতরাং এটাও স্পষ্ট যে, দ্বীন কায়েমের সঠিক পথ হল দাওয়াত এবং জিহাদ। কারন রাসূল সাঃ এভাবে দ্বীন কায়েম করেছেন। অন্য কোন পন্থা অবলম্বন কললে তা বিদাআত (নব্য আবিষ্কৃত ইবাদাতই বিদাআত) হবে। এবং এই বিদাআতের মাধ্যমে ভংঙ্কর কোন কুফরিতে জরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এখন আসি জামাত প্রসঙ্গে। তারা ইসলাম কায়েম করতে চায় শয়তানের (আব্রাহাম লিংকনের তরিকায়/পন্থায়। অর্থাত্‍ প্রচলিত গনতন্ত্রের মাধ্যমে) তরিকায়। অথচ রাসূল সাঃ এ ধরনের কোন পন্থা অবলম্বন করেন নি দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করতে। 'গনতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েম সম্ভব কি সম্ভব না?' এই প্রশ্নে যাওয়ার আগেই আমাদের বুঝতে হবে যে, ইসলাম অনুসারে এই পন্থা ডিসকোয়ালিফাইড।
প্রসঙ্গক্রমে একটা উদাহরন দেওয়া যায়। আপনি একটি 'ইঞ্জিন চালিত' গাড়ির রেসে অংশগ্রহন করেছেন। কিন্তু সবাই অবাক হয়ে দেখলো যে, আপনি ইঞ্জিন চালিত কোন গাড়ির বদলে একটি ঠেলাগাড়ি নিয়ে রেসে নামলেন। এখন কথা হল, আপনি রেসে জয়ী হওয়া তো দূরের কথা, অংশগ্রহনই করতে পারবেন না। রেস কতৃপক্ষ আপনাকে ডিসকোয়ালিফাইড ঘোষনা করবে। কারন, তাদের রেসে অংশ নিতে যেসব নিয়ম মানতে হবে আপনি তা মানছেন না। জামাতও একই ধরনের কাজ করছে। দ্বীনকে বিজয়ের রেসে তারা এমন একটা পন্থা বেছে নিয়েছে যা কতৃপক্ষ (ইসলামি শরিয়াহ) কতৃক ডিসকোয়ালিফাইড হিসেবে গন্য হবে।
আরো একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়। ধরি, নির্বাচনে জামাত জয়লাভ করলো। এখন তারা কিভাবে ইসলামি আইনগুলো চালু করবে? সংসদে তাদের একজন নেতা দাড়িয়ে একটা আইন উত্থাপন করবেন এবং অন্যান্য সকলে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে সেই আইনটিকে জয়যুক্ত করবেন (সাধারনত যেভাবে হয়ে থাকে সংসদে)। এখানে তাহলে বিধান দিল কে? অবশ্যই জামাতের নেতারা।
কিন্তু সূরা ইউসুফের ১২ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ সুবা. স্পষ্ট করে বলেছেন, "বিধান দেওয়ার মালিক একমাত্র তিনিই"।
তাহলে এটা কি শির্ক হবেনা?

এছাড়া ইসলামে নারী নেতৃত্ব হরাম। অথচ তারা তা মেনে নিয়েছে।[সে জাতি সফলকাম হয় না, যাদের প্রধান হল নারী।তিরমিযী(হাদীস নং-2262), বুখারী(হাদীস নং-6686),নাসায়ীকুবরা(হাদীস নং-5937),বায়হাকী কুবরা(হাদীস নং-4907)]
এছাড়াও তাদের ভিতর কিছু মুনাফিকের লক্ষন দেখা যায়। শাইখ জাওয়াহিরীর বক্তব্যের আগে তাদের মুখে আল কায়েদার প্রসংশা শোনা গেলেও বক্তব্যের পরে তা পুরো পাল্টে যায়। এগুলো অবশ্যই মুনাফিকের লক্ষন।
এসব কারনেই আমরা জামাত/শিবিরকে অপছন্দ করি।

 আমাদের মানদন্ড হচ্ছে ইসলামি শরিয়াহ যা অপরিবর্তনীয়। আমাদের কাজ হল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা। সেভাবে কাজটা করতে হবে যেভাবে আল্লাহ বিধান দিয়েছেন এবং রাসূল সাঃ কাজ করেছেন। আমরা আল্লাহর বিধানে 'প্রচলিত গনতন্ত্রের' মত কোন বিধান পাই না।

আমাদের একটা জিনিস বুঝতে হবে
যে, 'গনতন্ত্র হচ্ছে একটি দ্বীন বা জীবন ব্যাবস্থা'। ইসলাম যেমন একটি দ্বীন, গনতন্ত্রও তেমন একটি দ্বীন। আমাদের দেশের সংবিধান ২৫০ টির চেয়েও বেশি আইন আছে যা ইসলামি শরিয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক। যেমন চোরের হাত কাটার বিধান, ধর্ষকের মৃত্যুদন্ডের বিধান ইত্যাদি ইত্যাদি। এরা (গনতান্ত্রীক সরকার) নিজেদেরকে আল্লাহর স্থানে বসিয়ে আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে নিজেদের মত কর আইন করে নিয়েছে।

হিন্দু ধর্ম পালন করে যেমন ইসলামের বিজয় সম্ভব না তেমনি গনতন্ত্র ধর্ম পালন করেও ইসলামের বিজয় সম্ভব না।



১. এক হাফেজী হুজুরের বট গাছের ডালপালা থেকে কত আন্দোলণের জন্ম হলো তার কোন ইয়াত্তা নেই। একই আকীদা বিশ্বাসের ধারক বাহকরা কেবল সামান্য কিছু বিষয় নিয়ে মতবিরোধ তৈরি করেন, অতঃপর তার রেশ ধরে দলবল নিয়ে অন্য আরেকটি দলে যোগদান করেন, অথবা নতুন কোন দল তৈরি কেন।

জবাবঃ এভাবেই তারা শতধাবিভক্ত হয়ে মহাসত্যের এই আহ্বানকে সর্বস্তরের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে জামাতী ভাইগণ কল্যাণের পথ থেকে সঙ্কুচিত হতে হতে বর্তমানে 'গোলাপী বেগম'এর আঁচলতলায় মুখ লুকিয়ে কোন রকম বেঁচে থাকার ব্যর্থ প্রয়াসটুকু করে যাচ্ছে। কিন্তু রেহাই নেই। সত্য যখন চলে আসে তখন যুগের গোলাপীদেরকেও ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

২. এতে করে তারা কিছু আমীর ওমরাহর পদ দখল ছাড়া তেমন কোন ভূমিকা নিতে পারেন না। তখন স্পষ্ট মনে হয় যে, এসব হযরতগণ সত্যিকার অর্থে ইসলামী আন্দোলণের মেরিট বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

জবাবঃ কথাটি সত্য। তারা ছলনার রাজনীতিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। কিন্তু এদিক দিয়ে পুরোপুরি স্বার্থক একটি রাজনৈতিক দল আছে। যারা মুখে ইসলামের কথা বললেও অন্তরে ইহুদী-খৃষ্টান-পৌত্তলিকতা লালন করে। অথচ, পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে "(হে নবী!) কখনো আপনার উপর ইহুদী ও খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীরা সন্তুষ্ট হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের 'মিল্লাত' এর অনুসারী না হবেন" (সূরা বাক্বারাহ, আয়াতঃ ১২০)

আরো বিস্তারিত দেখুন, "ইসলাম বনাম জামাতে ইসলাম" শিরোনামে আমার আমার সদ্যপোস্টটিতে।

৩. আমরা মনে করি অমুকে বিশাল বড় মাওলানা, বুজুর্গ তাকেই দলের প্রধাণ করা উচিত। কিন্তু এগুলো হচেছ একে বারে সাদামাটা আবেগ বৈ কিছুই নয়।

জবাবঃ আমিও সহমত বিষয়টির সাথে। এই জায়গায় এসে জামাত পুরো সফলতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বুযুর্গদের পরিবর্তে বেঁছে নিয়েছে খোদার দুশমন ও কুরআনে বর্ণিত মুসলমানদের আজন্ম শত্রু সেই ইহুদি-খৃষ্টানকে।

আরো বিস্তারিত দেখুন, "ইসলাম বনাম জামাতে ইসলাম" শিরোনামে আমার আমার সদ্যপোস্টটিতে।

৪. সাহাবাদের মধ্যেও অনেক বড় বড় ফকিহ, বুজুর্গ ছিলেন কিন্তু তাদেরকে কোন খলিফাই প্রশাসনিক কোন কাজে ব্যবহার করননি। কারণ তাদের দ্বারা যে সব কাজ হবে না এটা তারা উপলদ্ধি করতেন। এ কারণ দারস আর ফিকহী পরামর্শ ছাড়া তেমন কোন দায়িত্ব্য তাদের কে দেওয়া হতো না।

জবাবঃ নাউযু বিল্লাহ। চার খলীফা কি "ফকিহ, বুজুর্গ" ছিলেন না? ইয়ামেনের গভর্ণর 'মুআয ইবনে জাবাল' কি "ফকিহ, বুজুর্গ" ছিলেন না? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ
حدثنا عبد الله بن جعفر ، ثنا يونس بن حبيب ، ثنا أبو داود ، ثنا وهيب ، عن خالد ، عن أبي قلابة ، عن أنس رضي الله تعالى عنه . وحدثنا محمد بن جعفر بن الهيثم ، حدثنا جعفر بن محمد الصائغ ، ثنا قبيصة ، ثنا سفيان ، عن خالد وعاصم ، عن أبي قلابة ، عن أنس ، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أعلم أمتي بالحلال والحرام معاذ بن جبل" أحمد والترمذي وابن ماجه ـ

অনুবাদঃ (সুবিস্তারিত নসবের পর) হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে সবচে' হালাল-হারাম সম্বন্ধে জানে 'মুআয বিন জাবাল' রাযিয়াল্লাহু আনহু। (আহমদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ থেকে বর্ণিত)

আরেক জায়গায় হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ
فقال عمر: عجزت النساء أن يلدن مثل معاذ ، لولا معاذ لهلك عمر . الكنز (37499)
অর্থঃ মুআয যদি না থাকতো তাহলে উমর ধ্বংস হয়ে যেত। (কানযঃ ৩৭৪৯৯)

মাত্র একজন সাহাবীর ব্যপারে বললাম। যাকে ইয়ামেনের গভর্ণর হিসেবে বিদায় দেওয়ার সময় এক হৃদয় বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিলো।

পোস্টদাতার কাছে অনুরোধ, জামাতী সংবিধান পড়া বাদ দিয়ে কুরআন-হাদীস পড়ুন। তাহলে কিছু হলেও কবরে নিয়ে যেতে পারবেন। নতুবা 'মওদূদী' সাহেবর সাহাবাবিদ্বেষের সেই বিষ আপনার মাধ্যমেও ছড়িয়ে যেতে পারে।





* * * "ইসলাম" বনাম "জামাতে ইসলাম" * * *

19 April 2014 at 06:00

প্রশ্নঃ
'জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ' নামক রাজনৈতিক দলটি মূলত কী চায়?

জবাব নং ১ঃ 'জামাতে ইসলামী' নামক দলটি বিশ্বাস করে, একজন মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সর্বোচ্চ সফলতা নির্ণীত হয় তার পরিবেষ্টিত গণ্ডির কর্তৃত্ব লাভের মাধ্যমে। আরেকটু পরিস্কার করে এভাবে বলা যায়, কর্তৃত্ব তথা ক্ষমতা দখল ছাড়া কখনো সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই 'মসনদ অধিষ্টান' করা প্রতিটি মুসলিমের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান জযবা বা চেতনা হওয়া উচিৎ। এমনকি নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাতের মত ইসলামের স্তম্ভগুলোও এই জযবার সামনে মূল্যহীন। অনেক শিবিরকর্মীর মুখে এভাবে বলতেও শোনা যায়, "যে দেশে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব কায়েম হয় নাই সেই দেশে আবার নামাজ-রোজা কইরা কী হইবো?" (নাঊযু বিল্লাহ) ফলে যারা ক্ষমতার মোহ থেকে নিজেদের জাতি-স্বত্তা ও চিন্তা-চেতনাকে পবিত্র রাখতে চান তারা এই জামাতী ভাইদের রোষানলে পতিত হোন। এমনকি তাদেরকে 'ইহুদী খৃষ্টানদের দালাল/নাস্তিকদের সহচর/মুনাফিক' ইত্যাদী গালাগালিও শুনতে হয় হরদম। সবচে' হাস্যকর ও মজার ব্যপার হলো, আপদমস্তক পশ্চিমানুসারী, সুন্নত বিদ্বেষী, ক্ষমতালোভী ও ধর্মীয় জ্ঞানবঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীটি কেবলমাত্র নিজেদেরকেই একমাত্র হক্বের ডিলারশিপ মনে করে থাকে।

এতকিছুর পরও প্রশ্ন থাকে যে, "ধরে নিলাম, তাদের কর্মপদ্ধতি কিংবা চিন্তা-চেতনার মাঝে কিছু বাতিল ধারণা ও তাগুতী বিশ্বাসের সংমিশ্রণ রয়েছে। তারপরও কি তারা 'ইসলামী হুকুমাত' কায়েমের ব্যপারে আন্তরিক নয়? পদ্ধতি ভুল হলেও নিয়ত কি নির্ভুল নয়?

এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেড়িয়ে এলো ভয়ঙ্কর কিছু চিত্র। যেমনটি মনে করেন 'জামাতে ইসলামী' বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আসামি পক্ষের অন্যতম প্রধান কৌঁসুলি জনাব ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সাহেব। তিনি তার অমরকীর্তি "আরব বসন্ত এবং দেশে দেশে ইসলামী আন্দোলন" নামক প্রবন্ধে প্রস্তাবনা করতে গিয়ে বলেনঃ

"তুরস্কের একে পার্টি এবং মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিনের পথ ধরে ৬০ বছরেরও অধিক সময় ধরে কার্যরত ভারতের জামায়াতে ইসলামী গত বছরের এপ্রিল মাসে ‘ওয়েলফেয়ার পার্টি অব ইন্ডিয়া’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। তাদের শ্নোগান হচ্ছেঃ ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং সমতা (Justice, freedom and equality)। পাশাপাশি জামায়াত তার আদর্শিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ১৬ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেসিডেণ্ট এবং সেক্রেটারী জামায়াতের দায়িত্বশীল হলেও তাতে পাঁচজন অমুসলমান রয়েছেন যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন কেরালা রাজ্যের ক্যাথলিক খ্রীষ্টান ফাদার আব্রাহাম জোসেফ এবং কর্নাটকের সাবেক মন্ত্র্রী (অমুসলিম) ললিতা নায়ার। এরা দুজনই সহ-সভাপতি। অনুরূপভাবে মালয়েশীয়ার ইসলামী আন্দোলন PAS (এক সময় যারা দুটি রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল এখন শুধু একটিতে, কিন্তু ফেডারেল পার্লামেণ্টেও তাদের সদস্য রয়েছে) ইসলামী রাষ্ট্রের কথা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ন্যায়বিচারের কথাই বলছে। তুরস্ক, তিউনিশিয়া, মালয়েশীয়া, মিশর এবং ভারতে ইসলামী আন্দোলনের এই কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের আসল লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীনের বাস্তবায়ন (সূরা সফ ৬১ ঃ ৯ )। কৌশলগত সঠিক সিদ্ধান্ত (correct strategic decision) ছাড়া দ্বীনের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।"

বিজ্ঞ পাঠক! একটু লক্ষ্য করলেই 'জামাতে ইসলামী' ভাইদের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যটি আমাদের সামনে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। যে দলের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী ও সহ-সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫জন দায়িত্বশীলই অমুসলিম সেই দলের নামে 'ইসলাম' থাকলেই কি তা 'ইসলামী দল' হতে পারে? পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেনঃ
"(হে নবী!) কখনো আপনার উপর ইহুদী ও খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীরা সন্তুষ্ট হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের 'মিল্লাত' এর অনুসারী না হবেন" (সূরা বাক্বারাহ, আয়াতঃ ১২০)

জামাতী ভাইদের নিকট সরল প্রশ্নঃ প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী ও সহ-সভাপতিরা নিজ দলের উপর শুধু সন্তুষ্টই থাকে না বরং সর্বত্যাগী থাকে। ফলে কেরালা রাজ্যের ক্যাথলিক খ্রীষ্টান ফাদার আব্রাহাম জোসেফ এবং কর্নাটকের সাবেক মন্ত্র্রী (অমুসলিম) ললিতা নায়ার সহ ৫জন প্রধান 'গনেশে জামাত'ও তাদের দলের প্রতি পরম সন্তুষ্ট ও কল্যাণকামী। তাহলে পবিত্র আয়াতে আল্লাহর চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় জামাতের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? (আবারো আয়াতটির অনুবাদ পড়ুন) নাকি 'হিকমাতে 'আমালিয়া'র অংশস্বরূপ খৃষ্টানদের 'মিল্লাত'কে 'জামাতে ইসলামী' গ্রহণ করে নিয়েছে?

সকলের বুঝার সুবিদার্থে বলে রাখি, উপরোক্ত ৫জন অমুসলিমের বিষয়টি কিন্তু ভারতের কেরালা রাজ্যের ঘটনা। কিন্তু যদি কেউ এই নিকৃষ্টতম অপকৌশলের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশেও একই পদ্ধতি চালু করার প্রস্তাবনা পেশ করে তাহলে কি এভাবে বলা যায় "সকল মওদূদী জামাতী একই সূত্রে গাঁথা"। যেভাবে শুধুমাত্র ক্ষমতা কাঁমড়ে বেঁচে থাকার জন্য আবু জেহেল, আবু লাহাব ও অন্যান্য কুরাইশী কাফেররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের বিরোধিতা করেছে। ঠিক তেমনি একই কারণে আজ 'জামাতে ইসলামী' গোটা বিশ্বব্যপী হক্বানী উলামায়ে কেরামের বিরোধিতায় লিপ্ত থেকে নিজেদের আখের খোয়াচ্ছে।

বাংলায় কথা আছেঃ নতুন বোতলে পুরাতন মদ।
একই ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে কি তাহলে বলা যাবে "নতুন বোতলে পুরাতন মদ; আবু জেহেলের বোতলে আবুল 'আলার মত"। (মত = মতবাদ বা মিশন)
পরিণামটা দেখুনঃ  জামাতে ইসলামী যে ইসলামের ঘোরতর দুশমন তা বুঝার সবচে' বড় প্রমাণ হলো, দিন যত যাচ্ছে তারা তত কোণঠাসাই হচ্ছে। স্বর্ণালী যুগ থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামের পরিণতি কখনো এমন সূচনীয় হয় নাই। তারা ৬৫ বছরে যতটা এগিয়েছে তার চেয়ে শতগুণ পিছিয়েছে। 'ইসলাম'এর অগ্রযাত্রা তাদের কারণে যতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, জামাতপূর্ব ৬৫X৩ = ১৯৫ বছরেও এতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয় নি। কুরআনের অপব্যক্ষা থেকে শুরু করে 'জিহাদ' শব্দের অবমাননা ও 'শাহাদাত' শব্দের অপব্যবহার তাদের নিকৃষ্টতার উজ্জল প্রমাণ বহন করে। অবস্থাদৃষ্টে বুঝা যাচ্ছে, ইহুদী-খৃষ্টানদের পা থেকে শুরু করে সর্বাঙ্গ লেহনেও তাদের মুখে বাঁধবে না। নতুবা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে এভাবে খৃষ্টানদের হাতে নিজেদের দলের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারীর পদ কেউ তুলে দিতে পারে না।

সকলের সমীপে একটি প্রশ্নঃ যারা নিজেদের দলকে একজন খৃষ্টানের হাতে তুলে দিতে পেরেছে তারা ক্ষমতায় গেলে যে, আমার সোনার বাংলাদেশটিও খৃষ্টানদের হাতে তুলে দিবে না তার কী নিশ্চয়তা আছে?

অতএব যদি হয়ে থাকুন একজন মুসলিম, নবীজির সুন্নতের প্রতি ন্যুনতম ভালোবাসা যদি আপনার অন্তরে থাকে, যদি ইসলামের অনুসারী হয়ে জান্নাতে যেতে চান তাহলে প্রতিজ্ঞা করুন, নাস্তিক-মুরতাদ, ভণ্ডপীর, মাজারপূজারী, কবরপূজারী, শিয়া, সালাফী, রেজভী, কাদিয়ানী ইত্যাদি দুশমনের মোকাবেলা যেভাবে নিরলসভাবে করে যেতে হবে ঠিক সেভাবেই আজীবন-আমৃত্য লড়তে হবে 'জামাতী ইসলাম' নামক বিষবৃক্ষটির বিরুদ্ধে।

আল্লাহ তা'আলা জামাতী ভাইদেরকে হেদায়েতের পথে দ্রুত ফিরিয়ে আনুন। আমীন।

তথ্যসূত্রঃ http://www.abdurrazzaq.com/index.php?option=com_content&view=article&id=118:2012-07-29-12-46-09

'সোনার বাংলাদেশ ব্লগ'এ পাঠকের প্রতিক্রিয়াসহ লেখাটির প্রথম সংস্করণ দেখতেঃ https://www.dropbox.com/s/mafl7m855mqd8l8/Jamat.zip

বি.দ্র. যারা লেখাটি পড়ে আমাকে আওয়ামীপন্থী বলে অপবাদ দিবেন তাদের জন্য এই অসমাপ্ত নোটটি দিলামঃ https://www.facebook.com/notes/আল-মুহাজির-শাইখ/অপকর্মের-হোতারে-তুই-সকল-নাটের-গুরু-ভঙ্গবল্টু-শেখ-মসিবত/483169818449520

*******************************************************************************
"জবাব নং ১" সমাপ্ত হলো। আগামী ১৫/০৫/২০১৪ ইং তারিখ প্রকাশিত হবে "জবাব নং ২", ইনশা আল্লাহ।

(অনিবার্য কারণে গুরুত্বপূর্ণ একটি আকষ্মিক সফরে বের হতে হচ্ছে। সফরকালীন ব্যস্ততায় 'জামাতী বন্ধু'দের এই ক্ষুদ্র উপকারটুকু করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবে দেশে ফিরে এসে নিয়মিত নেমে পড়বো ময়দানে, ইনশা আল্লাহ। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমি দুঃখিত।)

পর্যায়ক্রমে পরবর্তী প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করা হবে, ইনশা আল্লাহ।

প্রশ্নঃ এত এত রাজনৈতিক দলের ভীড়ে এই দলটির অস্তিত্ব কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?
প্রশ্নঃ প্রচলিত অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এই দলটির কি মৌলিক কোন পার্থক্য আছে?
প্রশ্নঃ ইত্যদি..............।

আল মুহাজির শাইখ





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন