"নারী নেতৃত্ব/নারী শাসক এবং রাসুলুল্লাহ(সাঃ)-এর বিরক্তি" এই লেখাতে দুইটি বিষয় আলোচনা করা হল। ১) মুহাম্মদ(সাঃ)-এর চিঠি অবমাননা এবং "নারী শাসক" সম্পর্কে হাদিস এবং ২) পারস্যের বাদশাহ কিসরা এবং তার ছেলে শিরোয়াইন-এর ধ্বংস হওয়া এবং উভয়ের লুচ্চামীর কাহিনী। মুহাম্মদ (সাঃ) দূত(সাহাবী) মারফত তৎকালীন পারস্যের(ইরান) বাদশাহ কিসরা এবং রোমান বাদশাহ কায়সার'কে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। রোমান বাদশাহ কায়সার চিঠি পাওয়ার পর অহংকার করেছিল না, বেয়াদবী করেছিল না, চিঠিকে অবমাননা করেছিল না এবং প্রেরিত দুতের সাথে ভাল ব্যবহার করেছিল। কিন্তু বাদশাহীর গদির লোভে ইসলামের দাওয়াত কবুল করেছিল না। অপরদিকে, কিসরা মুহাম্মদ(সাঃ)-এর চিঠিটিকে অবমাননা করে ছিড়ে টুকরা টুকরা ফেলে দিয়েছিল, অহংকার করেছিল, বেয়াদবী করেছিল এবং প্রেরিত দুতের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছিল এবং দূতকে বলেছিল যে, "যাও বল গিয়ে আমি তোমাদেরকে দেখতে আসছি।" কিসরার কাছে প্রেরিত দুত অপমানিত হয়ে রাসুল(সাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে সব ঘটনা যখন খুলে বলছিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ(সাঃ) সব শোনার পর ভবিষ্যতবানী করে করে বলেছিলেন যেঃ "ইযা হালাকা কিসরা হা'লা কিসরা বা'ত"। অর্থঃ পারস্য দেশের বা ইরানের কিসরা ধ্বংস হয়ে গেলে আর কোন কিসরা জন্মলাভ করবে না। কিসরা ও তার ছেলের ধ্বংসের ঘটনাঃ কিসরার এক ছেলে ছিল তার নাম ছিল 'শিরোয়াইন'; বড় বদমাশ ও লুচ্চা/যেনাকার ছিল। কিসরা তার ছেলের কুচরিত্রের কারনে ছেলের উপর এতই অতিস্ট হয়েছিল যে, সে তার ছেলেকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে এবং কিসরা তার ছেলেকে/পুত্রকে মেরে ফেলার জন্য কৌশলে তার রাজদরবারের ঔষধের ঘরে বা দাওয়াখানায় একটি বোতলে বিষ রেখে দিয়েছিল এবং বোতলের গায়ে লিখে রেখেছিল "যৌনশক্তি" বৃর্দ্ধির ঔষধ। ইত্যবসরে, কিসরার ছেলে (শিরোয়াইন) কিসরাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল এই কারনে যে, সে যদি তার পিতাকে(কিসরা) হত্যা না করে তাহলে সে পারস্যের রাজা/বাদশাহ হতে পারবে না এবং গদিতেও বসতে পারবে না। উল্লেখ্য যে, পিতা-পুত্র উভয়েই ছিল লুচ্চা/যেনাকার। অতঃপর সুযোগ বুঝে কিসরাকে তার ছেলে হত্যা করে এবং রাজদরবারের দাওয়াখানায় ঢুকে তার পিতার রক্ষীত "যৌনশক্তি" বৃর্দ্ধির ঔষধের বোতলের বিষ 'যৌনশক্তি' বৃর্দ্ধির ঔষধ ভাবিয়া মনের খুশীতে (কারন, বোতলের ঔষধ খেলে যৌনশক্তি বাড়বে এবং বেশী নারীকে সহবাস করতে পারবে) ঢক ঢক করে খেয়ে ফেলেছিল এবং মারা গিয়েছিল। অতঃপর কিসরার আর কোন ছেলে না থাকায় পারস্যের(ইরান) জনগন কিসরার মেয়েকে/কন্যাকে তাদের স্বীয় শাসনভার কিসরার কন্যাকে অর্পন করেছিল। তারপর, এই সংবাদ যখন রাসুল(সাঃ)-এর নিকট আসলো, তখন তিনি বলেছিলেনঃ "সে জাতি কখনোই কল্যান/সফলতা লাভ করতে পারবে না, যদি তাদের স্বীয় শাসনভার কোন নারীর হাতে/উপর অর্পন করে"। ***বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ। রাসুল(সাঃ) অন্যত্র আরও বলেছিলেনঃ “সেই ক্বওম কখনোই কল্যাণ লাভ করবে না, যে ক্বওমের প্রধান হবে মহিলা"। ***বুখারী। “যখন তোমাদের শাসনভার মহিলাদের উপর ন্যস্ত হয় তখন যমীনের উপরিভাগ থেকে যমীনের তলভাগ তোমাদের জন্য উত্তম। অর্থাৎ বেঁচে থাকার চেয়ে মারা যাওয়াই ভাল"। ***তিরমিযী। নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে বিরক্তি প্রকাশ করে রাসূল(সাঃ) বলেছিলেনঃ “যখন তোমাদের শাসক হবে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দুষ্ট ও শয়তান প্রকৃতির, তোমাদের ধনীরা যখন হবে তোমাদের মধ্যে বেশী কৃপণ আর তোমাদের (জাতীয়) কাজ-কর্মের দায়িত্ব যখন ন্যস্ত হবে তোমাদের স্ত্রী লোকদের হাতে তখন মৃত্যু হবে জীবন অপেক্ষা উত্তম"।***তিরমিযী। উল্লেখ্য যে, যদি কোন নারী জোড়-জবরদস্তি করে ক্ষমতা দখল করে; তাহলে, সেটা ভিন্ন ব্যাপার এবং সে অবস্থায় আল্লাহ'তাআলা ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু, কোন জাতি যদি স্বেচ্ছায় তাদের শাসনভার কোন নারীকে দিয়ে দেয় বা শাসক নির্বাচিত করে; তাহলে, সে জাতি কখনোই সফলতা লাভ করতে পারবে না। যেমনটি ঘটেছিল পারস্যের কিসরার কন্যার ক্ষেত্রে। কারন, পারস্যের জনগন স্বেচ্ছায় কিসরার কন্যাকে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিল। "শেষ কথা" আমরাও চাইনা কিসরার কন্যার মত কাউকে স্বেচ্ছায় শাসনভার অর্পন করতে। কারন, আল্লাহ'তাআলা বলেছেনঃ "পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল।" ***সুরা নিসাঃ আয়াত- ৩৪। মন্তব্যঃ রোমান বাদশাহ অহংকার ও বেয়াদবী না করার কারনে তার মসনদ/গদি হারিয়েছিল না এবং দুনিয়ার সুখ পেয়েছিল- পরকাল হারিয়েছিল। কিন্তু কিসরার অহংকার, বেয়াদবী এবং চরম চরম দুর্ব্যবহারের কারনে তার মসনদ হারিয়েছিল এবং ধ্বংস হয়েছিল। তার ঔরশের একমাত্র ছেলে শিরোয়াইন-ও ধ্বংস হয়েছিল। কিসরার অন্য কোন ছেলে না থাকায় তার একমাত্র মেয়েকে পারস্যের জনগন স্বেচ্ছায় তাদের শাসনভার অর্পন করেছিল এবং রাসুল(সাঃ)-এর ভবিষ্যতবানী সত্যে পরিনত হয়েছিল।
শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৩
নারী নেতৃত্ব/নারী শাসক
"নারী নেতৃত্ব/নারী শাসক এবং রাসুলুল্লাহ(সাঃ)-এর বিরক্তি" এই লেখাতে দুইটি বিষয় আলোচনা করা হল। ১) মুহাম্মদ(সাঃ)-এর চিঠি অবমাননা এবং "নারী শাসক" সম্পর্কে হাদিস এবং ২) পারস্যের বাদশাহ কিসরা এবং তার ছেলে শিরোয়াইন-এর ধ্বংস হওয়া এবং উভয়ের লুচ্চামীর কাহিনী। মুহাম্মদ (সাঃ) দূত(সাহাবী) মারফত তৎকালীন পারস্যের(ইরান) বাদশাহ কিসরা এবং রোমান বাদশাহ কায়সার'কে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। রোমান বাদশাহ কায়সার চিঠি পাওয়ার পর অহংকার করেছিল না, বেয়াদবী করেছিল না, চিঠিকে অবমাননা করেছিল না এবং প্রেরিত দুতের সাথে ভাল ব্যবহার করেছিল। কিন্তু বাদশাহীর গদির লোভে ইসলামের দাওয়াত কবুল করেছিল না। অপরদিকে, কিসরা মুহাম্মদ(সাঃ)-এর চিঠিটিকে অবমাননা করে ছিড়ে টুকরা টুকরা ফেলে দিয়েছিল, অহংকার করেছিল, বেয়াদবী করেছিল এবং প্রেরিত দুতের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছিল এবং দূতকে বলেছিল যে, "যাও বল গিয়ে আমি তোমাদেরকে দেখতে আসছি।" কিসরার কাছে প্রেরিত দুত অপমানিত হয়ে রাসুল(সাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে সব ঘটনা যখন খুলে বলছিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ(সাঃ) সব শোনার পর ভবিষ্যতবানী করে করে বলেছিলেন যেঃ "ইযা হালাকা কিসরা হা'লা কিসরা বা'ত"। অর্থঃ পারস্য দেশের বা ইরানের কিসরা ধ্বংস হয়ে গেলে আর কোন কিসরা জন্মলাভ করবে না। কিসরা ও তার ছেলের ধ্বংসের ঘটনাঃ কিসরার এক ছেলে ছিল তার নাম ছিল 'শিরোয়াইন'; বড় বদমাশ ও লুচ্চা/যেনাকার ছিল। কিসরা তার ছেলের কুচরিত্রের কারনে ছেলের উপর এতই অতিস্ট হয়েছিল যে, সে তার ছেলেকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে এবং কিসরা তার ছেলেকে/পুত্রকে মেরে ফেলার জন্য কৌশলে তার রাজদরবারের ঔষধের ঘরে বা দাওয়াখানায় একটি বোতলে বিষ রেখে দিয়েছিল এবং বোতলের গায়ে লিখে রেখেছিল "যৌনশক্তি" বৃর্দ্ধির ঔষধ। ইত্যবসরে, কিসরার ছেলে (শিরোয়াইন) কিসরাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল এই কারনে যে, সে যদি তার পিতাকে(কিসরা) হত্যা না করে তাহলে সে পারস্যের রাজা/বাদশাহ হতে পারবে না এবং গদিতেও বসতে পারবে না। উল্লেখ্য যে, পিতা-পুত্র উভয়েই ছিল লুচ্চা/যেনাকার। অতঃপর সুযোগ বুঝে কিসরাকে তার ছেলে হত্যা করে এবং রাজদরবারের দাওয়াখানায় ঢুকে তার পিতার রক্ষীত "যৌনশক্তি" বৃর্দ্ধির ঔষধের বোতলের বিষ 'যৌনশক্তি' বৃর্দ্ধির ঔষধ ভাবিয়া মনের খুশীতে (কারন, বোতলের ঔষধ খেলে যৌনশক্তি বাড়বে এবং বেশী নারীকে সহবাস করতে পারবে) ঢক ঢক করে খেয়ে ফেলেছিল এবং মারা গিয়েছিল। অতঃপর কিসরার আর কোন ছেলে না থাকায় পারস্যের(ইরান) জনগন কিসরার মেয়েকে/কন্যাকে তাদের স্বীয় শাসনভার কিসরার কন্যাকে অর্পন করেছিল। তারপর, এই সংবাদ যখন রাসুল(সাঃ)-এর নিকট আসলো, তখন তিনি বলেছিলেনঃ "সে জাতি কখনোই কল্যান/সফলতা লাভ করতে পারবে না, যদি তাদের স্বীয় শাসনভার কোন নারীর হাতে/উপর অর্পন করে"। ***বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ। রাসুল(সাঃ) অন্যত্র আরও বলেছিলেনঃ “সেই ক্বওম কখনোই কল্যাণ লাভ করবে না, যে ক্বওমের প্রধান হবে মহিলা"। ***বুখারী। “যখন তোমাদের শাসনভার মহিলাদের উপর ন্যস্ত হয় তখন যমীনের উপরিভাগ থেকে যমীনের তলভাগ তোমাদের জন্য উত্তম। অর্থাৎ বেঁচে থাকার চেয়ে মারা যাওয়াই ভাল"। ***তিরমিযী। নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে বিরক্তি প্রকাশ করে রাসূল(সাঃ) বলেছিলেনঃ “যখন তোমাদের শাসক হবে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দুষ্ট ও শয়তান প্রকৃতির, তোমাদের ধনীরা যখন হবে তোমাদের মধ্যে বেশী কৃপণ আর তোমাদের (জাতীয়) কাজ-কর্মের দায়িত্ব যখন ন্যস্ত হবে তোমাদের স্ত্রী লোকদের হাতে তখন মৃত্যু হবে জীবন অপেক্ষা উত্তম"।***তিরমিযী। উল্লেখ্য যে, যদি কোন নারী জোড়-জবরদস্তি করে ক্ষমতা দখল করে; তাহলে, সেটা ভিন্ন ব্যাপার এবং সে অবস্থায় আল্লাহ'তাআলা ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু, কোন জাতি যদি স্বেচ্ছায় তাদের শাসনভার কোন নারীকে দিয়ে দেয় বা শাসক নির্বাচিত করে; তাহলে, সে জাতি কখনোই সফলতা লাভ করতে পারবে না। যেমনটি ঘটেছিল পারস্যের কিসরার কন্যার ক্ষেত্রে। কারন, পারস্যের জনগন স্বেচ্ছায় কিসরার কন্যাকে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিল। "শেষ কথা" আমরাও চাইনা কিসরার কন্যার মত কাউকে স্বেচ্ছায় শাসনভার অর্পন করতে। কারন, আল্লাহ'তাআলা বলেছেনঃ "পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল।" ***সুরা নিসাঃ আয়াত- ৩৪। মন্তব্যঃ রোমান বাদশাহ অহংকার ও বেয়াদবী না করার কারনে তার মসনদ/গদি হারিয়েছিল না এবং দুনিয়ার সুখ পেয়েছিল- পরকাল হারিয়েছিল। কিন্তু কিসরার অহংকার, বেয়াদবী এবং চরম চরম দুর্ব্যবহারের কারনে তার মসনদ হারিয়েছিল এবং ধ্বংস হয়েছিল। তার ঔরশের একমাত্র ছেলে শিরোয়াইন-ও ধ্বংস হয়েছিল। কিসরার অন্য কোন ছেলে না থাকায় তার একমাত্র মেয়েকে পারস্যের জনগন স্বেচ্ছায় তাদের শাসনভার অর্পন করেছিল এবং রাসুল(সাঃ)-এর ভবিষ্যতবানী সত্যে পরিনত হয়েছিল।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন