কোরান আর সুন্নাহর কষ্টি পাথরে বিশ্ব এস্তেমা বিদাত নাকি এবাদত সেটার বিচারের ভার আপনার। তাবলিগের ভাইয়েরও বলে এটা কোন এবাদত না। তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষ যে এবাদত মনে করে ভুলে ডুবে আছে সেই পাপের ভাগ কে নিবে? For sake of argument যদি আমরা এই এস্তেমা কয়েকটা ভয়ংকর দিক লক্ষ্য করি তাহলে যা দাঁড়ায়... (যদি এইভাবে চলতে থাকে…) 1. 50/100 বছর পর, আমাদের অঞ্চলের মানুষ বিশ্বে এস্তেমা কে হজ্ব এর সমান বলে ধারনা করতে থাকবে, (এখনই অনেক মূর্খ করে) 2. ভাববে এখানে গেলে সমস্ত গুনাহের নাজাত পাওয়া যায় আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে (এখনই তাই ভাবছে) 3. নেকীর উদ্দেশ্যে কেউ কেউ এখানে এসে মৃত্যু কামনা করবে (এমন ঘটেছে) 4. ঈদের পর সমান গুরুত্ব দিয়ে এই আখেরী মোনাজাতের দিনে বিশেষ খুশীর আয়োজন হবে, নতুন পোষাক কেনা হবে গুরুত্ব সহকারে (এমন হচ্ছে)। তিনি চললেন এজতেমায় 4 নাম্বার দিয়ে শুরু করিঃ আমরা যারা ঢাকার সন্তান আমরা জানি কোন কোন পরিবার এই দিনে স্পেশাল রান্না করে, ঈদের সাজে সাজেন অনেক পুরুষ। আগে সরকারী বন্ধ হত না, এখন দুই দিন বন্ধ থাকে। নুতন যে জেনারেশন আসবে তারা দেখবে এটা খুব গুরুত্ব সহকারে পালন হচ্ছে আর তাদের ভিতর বেদাতের বীজ ভয়ংকর ভাবে গেথে যাবে (যাচ্ছে)। আমার ছোটবেলার বন্ধু যারা সবাই উত্তরায় থাকেন, নামাজ আদায় করেন না (আমিও বিশ্বাস করতাম)। আমি দেখেছি কত গুরুত্ব সহকারে তারা আখেরী মোনাজাত এ মোনাজাত এ অংশ নিয়ে থাকে।এমন কমেন্ট করেন যে এই দিনে আল্লাহ স্পেশাল নাজাত দিতে নেমে আসেন (?)। আমার এমন বন্ধু আছেন যে গুনাহের সমস্ত পাহাড় এ ভ্রমন করেন কিন্তু এই দিনকে নাজাতের দিন মনে করেন (শিক্ষিত ছেলে)। এমনকি আমাদের মধ্যে একধরনের একটা আনন্দ কাজ করত, আখেরী মোনাজাতের আগের রাতে সারা রাত মজা করতাম, দিনের বেলা নামাজ না আদায় করে মোনাজাতের অ্যাডভেঞ্চার শুরু করতাম। (ভাবছেন এদের বুঝালে‘ই হয় বা এরা এমন ভাবে তাতে Itself Istema is not bad এটা তাদের দোষ, এস্তেমা মুরুব্বীরা তো আর তা করতে বলেন না। হা ভাই রাসুল (সঃ) এই কথাই বলেছেন “…কুল্লু বিদাতিন দলালা … দলালাতিন ফিন্নার”। আপনি পারমিশন ছারা খাল কেটে দিয়ে বলবেন আমার কি দোষ আমি কি জানি কুমির আসবে? একটা ভয়ংকর বেদাতের জন্ম দিয়ে এখন তাদের বুঝাও, নাহলে তাদের ইমান ঠিক নাই মুরুব্বিদের কি দোষ!?) 3 নাম্বারঃ আমার মনে আছে আমি জীবনে প্রথমবার যখন আখেরী মোনাজাত এ তখন কয়েকজন ঐ দিনে মারা গিয়েছিলেন, তাদের জানাজা হয়েছিল ঐখানে আর ধর্মের সুশিক্ষায় শিক্ষিত একজন বলেছিলেন “এমন দিনে মারা গেল কি কপাল !” (তাহলে এখন আমাদের কি হবে? আমাদের কপাল ভাল করার জন্য ঐ দিনের জন্য মৃত্যু কামনা করা উচিত। মানুষ এমন মোনাজাত করেন যে চোখের জল, নাকের পানি মিলেমিশে তার নেকী লাভের কষ্টকে পাপে পরিনত করে।) 2 নাম্বারঃ ঘড়ে খাবার থাকুক, না থাকুক, যুবতী মেয়ের জন্য ঘরে পুরুষ থাকা প্রয়োজন থাকুক চাই না থাকুক, সক্ষম স্ত্রী একা একা তার কষ্ট হউক বা না হউক, পকেটে যথেষ্ট টাকা থাকুক চাই না থাকুক (স্ত্রী, সংসার পালনের টাকা) তিনি চললেন এস্তেমা। এই উপলক্ষে একটা ঘটনা বলি “আমার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক, হঠাৎ দেখলাম দাড়ি, টুপি দারুন চেঞ্জ। খুবই ভাল কথা। কিন্তু শক খেলাম কিছুদিন পর, প্রথম শক খেলাম যে দিন উনার স্ত্রী শিফন জর্জেট এর শাড়ি পরে শপিং যায়। আর স্যার মাসের পর মাস চিল্লায়। উনার মেয়ে, তাদের রোডে উঠতি সুন্দরী হিসেবে তার খুব জনপ্রিয়তা। কিন্তু ঐ মেয়ের চারিত্রিক ইতিহাস ব্যথিত করার মত। আর তিনি নাজাতের জন্য যুবতী মেয়ে, স্ত্রী রেখে গেলেন ৬ মাসের চিল্লায়। (ভাবছেন, আল্লাহ তার সাথে তবলীগের কি রিলেশন? আর তিনি (স্যার) নিশ্চয়ই তাদের সাবধান হতে বলেছেন। হা ভাই সব বাবা‘ই বলেন। প্রচন্ড ক্ষুদায় কাতর একজনকে আপনি কাচ্চি বিরিয়ানির ঘ্রান নাকে দিয়ে আর কাচ্চি বিরিয়ানির পাতিল কিচেনে রেখে বললেন খবরদার ধরবি না। বেচারী… তার কি দোষ যদি কাচ্চি বিরিয়ানির নিজে পায়ে হেটে তার মুখে উঠে। এমন চিল্লার কথাই কি শরিয়তে বলা হয়েছে?) 1 নাম্বারঃ এটা হল সবচাইতে আপত্তিকর। আমি নিজের কানে শুনেছি মানুষদের বলতে “আমরা গরিব হজ্বে যেতে পানি না, তাই এখানে আসি যেন আল্লাহ আমাদের নাজাত দেন।” “এমন বলতে শুনেছি, মিয়া হজ্জ্বে যাও এর আগে একটা চিল্লা লাগাও; চিল্লা না লাগাইয়া কিসের হজ্জ্ব?” আহা… হ্জ্জ্ব (বা হজ্জ্ব সমান সওয়াব) বুঝি এখন বাংলাদেশে চলে এল। কত উপকারই না হল আমাদের। ভাবছেন এখানে মুরুব্বীরা কি করতে পারেন? তাদের কি দোষ? তাদের দোষ না খুজে বলা যেতে পারে এস্তেমার উদ্দেশ্য কি এটা? যদি না হয় সেই এস্তেমা কি ত্রুটি মুক্ত করা যায় না? এই বেদাতের জন্য তাহলে কি আমরা দায়ী? আপনি দায়ী? মুরুব্বী দায়ী? কে দায়ী? কে দিবে এর জবাব যে বেদাতের জন্ম হয়েছে তুরাগের পাড়ে? কে দিবে জবাব যে এস্তেমার কারনে লক্ষ লক্ষ মানুষ ফরজ নামাজ রেখে আখেরী মোনাজাতের জন্য দৌড়াদৌড়ি? কে জবাব দেবে যখন কোন মৃত প্রায় রোগী হাসপাতালে আসতে পারল না এই এস্তেমার জন্য? কোন সে দলিল আপনার বহন করে চলেছেন? যে দলিল আমরা জানি না, যে দলিল সাহাবায়ে কেরাম গণ জানতেন না? কি সেই ওহি দেখান। কে দেবে জবাব যখন স্বামী এস্তেমা আর যুবতী স্ত্রী, কন্যা জিনা/ব্যাভিচারের লিপ্ত হয়? কে বুঝাবে আখেরী মোনাজাত এখন কেন আমাদের ধর্মীয় জীবনে এমন ভাবে গেথে যাচ্ছে, যেন রাসুল (স্ঃ) করতে বলেছেন ? আরও অনেক জরুরী বেপার নিয়ে আলোচনা করা যাবে, কিন্তু আমি আলেম না, তাই ঐসব ব্যাপার এ আলোচনা করা আমার জন্য পারমিসেবল না।আমি এখনও একজন ছাত্র তাই সাধারণ কথা গুলির উত্তর আমি খুজছি। তবে হ্যা… তাবলিগি ভাইদের একটা জিনিস অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে; তারা নামাজী একদল মুসলমান আর তাদের উদ্দেশ্য‘ও মহৎ, এবং আমি এও বিশ্বাস করি খুব অল্প সময়ে তারা ক্রুটি মুক্ত একটা জামাত উপহার দেবেন। যেখানে সালাফে সালেহিনদের মানহাজই হবে আমাদের মানহাজ।
----
Minhaz Ahmad
আমরা সমাজে যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলি, তখন অনেকেই বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠা!! নামাজ পড়ছি, রোযা রাখছি ... ইসলাম তো প্রতিষ্ঠিত আছেই... আবার অনেকেই বলেন, সরকার সালাত আদায় বা সাওম তো নিষিদ্ধ করছে না!!
ইমাম আহমদ ও ইবনে হিব্বান কর্তৃক বর্ণিত, আবু উমামাহ(রা) বর্ণনা করেন, রাসূল(সা) বলেনঃ
"শীঘ্রই তোমরা একের পর এক ইসলামের সুরক্ষিত দূর্গ ভঙ্গ করবে। যখনই একটি দূর্গ ভেঙ্গে যাবে মানুষ নাছোড়বান্দার মত দ্বিতীয়টি ধরে ঝুলে থাকবে। প্রথম দূর্গটি হল ইসলামের শাসনব্যবস্থা এবং শেষটি হল সালাত।"
দ্বীন প্রতিষ্ঠার ফরয দায়িত্ব থেকে দূরে সরে থেকে ফাঁকিবাজিটা কার সাথে করছি??
ইমাম আহমদ ও ইবনে হিব্বান কর্তৃক বর্ণিত, আবু উমামাহ(রা) বর্ণনা করেন, রাসূল(সা) বলেনঃ
"শীঘ্রই তোমরা একের পর এক ইসলামের সুরক্ষিত দূর্গ ভঙ্গ করবে। যখনই একটি দূর্গ ভেঙ্গে যাবে মানুষ নাছোড়বান্দার মত দ্বিতীয়টি ধরে ঝুলে থাকবে। প্রথম দূর্গটি হল ইসলামের শাসনব্যবস্থা এবং শেষটি হল সালাত।"
দ্বীন প্রতিষ্ঠার ফরয দায়িত্ব থেকে দূরে সরে থেকে ফাঁকিবাজিটা কার সাথে করছি??

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন