বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৪

খিলাফতকে সমর্থন করুন অমুসলিম


আমার পরিচিত কিছু হিন্দু ধর্মের বিশ্বাসীরা পুরো বাংলাদেশী "মুসলিম জাতিকে" এই বলে আক্রমন করছে যে অন্যায়-অবিচার চলছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর তাঁর জন্য মুসলিমরা দায়ী কারন এই দেশ হোল মুসলিম প্রধান দেশ এবং শাসকশ্রেণী হোল মুসলিম এবং সাধারন মুসলিম জনগণও প্রতিবাদ মুখর হয়ে রাস্তায় নামছেনা।
তাই প্রথমেই বাঙ্গালী জাতিসত্তার "চেতনা" থেকে বলবোঃ "সবকিছুতে ধর্ম কে টেনে না আনলে হয় না?!"

যেকোনো সমস্যার "মূল" খোঁজার চেষ্টা করুন, সমস্যার "উপসর্গ" নিয়ে চিন্তিত হওয়া খারাপ লক্ষণ। যখন এই অত্যাচারী গনতান্ত্রিক শাসকশ্রেণীকে প্রতিবার ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসান, তখন কি এলাকার "এম পি" দের ইসলাম ধর্মীয় গুণাবলী কি কি আছে সেটা দেখে ভোট দেন, নাকি সিমপ্লি একজন "বি এন পি বা আওয়ামীলীগ রাজনীতিবিদ" দেখে দেন? শাসকশ্রেণীকে ক্ষমতায় বসাবেন তাঁর গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিবেচনা করে, আর এরাই যখন অত্যাচারের খড়গ নিয়ে চড়াও হবে তখন বলবেন "মুসলমান" খারাপ!!!???? তাই সমস্যার "গোড়া" হোল বর্তমান শাসকশ্রেণী যাদের আপনারা নিজেরাই ক্ষমতায় বসান, এবং এদের সাথে "ইসলাম" এর উত্তর মেরু-দক্ষিন মেরু সম্পর্ক।

আর যদি ইসলাম এর হুকুম নিয়ে জানতে চান, ইসলামিক রাষ্ট্র তথা খিলাফাত রাষ্ট্র (যা বর্তমান পৃথিবীতে কোথাও নেই, যেটিকে পশিমা সভ্যতা বর্তমান মুসলিম দেশের শাসকদের সাথে ষড়যন্ত্র করে ভেঙ্গে দিয়েছে ১৯২৪ সালে, এবং যেটিকে পুনরায় ফিরিএ আনার জন্য বিশ্বব্যাপী তীব্র গণআন্দোলন শুরু হয়েছে) ব্যবস্থায় ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের জন্য "সংখ্যালঘু" নামক কোন ধারণা নেই, বরং তাদের বলা হয় "আহল উয যিম্মা" (চুক্তিবদ্ধ জাতি); এরা খিলাফত রাষ্ট্রে সম্পূর্ণ নাগরিক অধিকার ভোগ করবে; তাদের রক্ত, সম্পদ, সম্মান ও ধর্ম সবকিছুরই নিরাপত্তা দেয়ার ফরয দায়িত্ব খলিফার হাতে। তারা "যিজয়া" নামক একটা ট্যাক্স দিবে কিন্তু তাদের কাছ থেকে যাকাত এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নেয়া হবে না। খিলাফতের শাসনামলে অমুসলিমদের নিজস্ব কোর্ট এবং বিচারপতি ছিল যারা নিজেদের ধর্মীয় বিধান অনুসারে বিচার ফায়সালা করতো।

আমাদের রাসুলুল্লাহ (সা) বলে গিয়েছিলেনঃ " যে মুসলিম কোন যিন্মির (অমুসলিম নাগরিক) ক্ষতি করবে, আমি মুহাম্মাদ কিয়ামতের মাঠে তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবো" (রাসুল কারো বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়া অর্থ হোল সে জাহান্নামী)

রাসুল আরও বলে গিয়েছিলেনঃ "যে মুসলিম কোন মু'আহিদ (চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তি) কে খুন করবে, সে জান্নাতের গন্ধও পাবেনা যদিওবা জান্নাতের সুঘ্রাণ ৪০ বছর পরিভ্রমণের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়" [মুস্নাদ আহমাদ]

খিলাফতের ১৪০০ বছরের ইতিহাসে অমুসলিমরা খলিফাদের দ্বারা এরুপেই নিশ্চয়তা পেতেন। তাই ইসলামের ইতিহাস বিকৃতকারী কুখ্যাত "ওরিয়েন্টালইস্ট" রাও বাধ্য হয়েছিল খিলাফতের আওতাধীনে অবস্থানকারী অমুসলিমদের ব্যাপারে সঠিক চিত্র তুলে ধরতেঃ

"জোরপূর্বক অমুসলিম সম্প্রদায়কে মুসলিম বানানো বা নিধন করার কোন ঘটনা আমরা কখনই শুনিনি। যদি খলিফারা এমন ইচ্ছা পোষণ করতেন তাহলে খুব সহজেই খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে নির্মূল করতেন যেভাবে রাজা ফারদিনান্দ ও রানী ইসাবেলা স্পেনে মুসলিমদের করেছিলো, ব্রিটিশরা যেভাবে ইহুদীদের ইংল্যান্ড থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল ৩৫০ বছর" [Sir Thomas Arnold, ‘The Preaching of Islam']

তাই যেভাবে আমরা মুসলিমদের বলি খিলাফতের জন্য দাবি তুলুন, ঠিক সেভাবেই আপনাদেরও বলবো নিজেদের নাগরিক নিরাপত্তার জন্য গণতন্ত্রকে পরিহার করে খিলাফতকে সমর্থন করুন।









কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন