মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৪

উম্মাহ’র একজন খলিফা থাকাটা ফরজ



শরিয়াহ্ মূলনীতিঃ এটা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত যে আমাদের জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও শরিয়াহ্ আইনের বাস্তবায়ন করা ফরজ। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন শাসক থাকছেন অথবা তার হাতে ক্ষমতা না থাকছে ততক্ষণ আমাদের জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও শরিয়াহ্ আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আর শরিয়াহ্’র মূলনীতি হচ্ছে “ওয়াজিব পালনের জন্য যা প্রয়োজন তা নিজেই ওয়াজিব।” এক্ষেত্রে এই শরিয়াহ্ মূলনীতি অনুযায়ী একজন খলিফার উপস্থিতি ওয়াজিব। বিভিন্ন দলিল-প্রমাণ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে মুসলমানদের উপর শরিয়াহ্ আইন ও ক্ষমতা বাস্তবায়ন এবং একজন খলিফা থাকা যিনি আইন প্রয়োগের ও শরিয়াহ্ বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, একটা অবশ্য কর্তব্য। উপরন্তু শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ ও ক্ষমতার খাতিরেই নয় বরং অভিভাবক ও নেতা হিসেবেও উম্মাহ’র একজন খলিফা থাকাটা ফরজ। এটা নিম্নোক্ত হাদিসের মাধ্যমে জানা যায়। আউফ বিন মালিক আল আশ’আবী বলেন যে, “রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের ইমামদের (নেতা) মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে তারা যারা তোমাদেরকে ভালবাসে এবং তোমরা তাদেরকে ভালবাস, এবং যারা তোমাদের জন্য প্রার্থনা করে এবং তোমরা যাদের জন্য প্রার্থনা কর; এবং তোমাদের ইমামদের (নেতা) মধ্যে নিকৃষ্ট হচ্ছে তারা যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর আর তারা তোমাদেরকে ঘৃণা করে ও তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দাও আর তারা তোমাদেরকে অভিশাপ করে।” আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমরা কি তখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করব না?’ তিনি বললেন, ‘না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের ভেতর সালাত (ইবাদত) প্রতিষ্ঠা করে ।’’ [মুসলিম] এই হাদীস স্পষ্ট ভাবে আমাদেরকে ভাল ও খারাপ নেতাদের সর্ম্পকে জানায় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইবাদত প্রতিষ্ঠিত রাখে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ করে। ‘ইবাদত প্রতিষ্ঠা’ মানে হচ্ছে ইসলামকে উচ্চে তুলে ধরা ও শরিয়াহ্ বাস্তবায়ন করা। ইসলামিক আইনের উৎস সমূহের মধ্যে মুসলমানদের উপর একজন খলিফা নিয়োগের দায়িত্ব যিনি ইসলামের আইন বাস্তবায়ন করবেন এবং ইসলামের আহ্বানকে (দাওয়াত) সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেবেন এমন গুরুত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে যে এটা সন্দেহাতীত ভাবে একটা ফরজ দায়িত্ব। অবশ্য এটা একটা সম্মিলিত দায়িত্ব (ফরজে কিফায়া)। যদি কিছু লোক এই কার্য সমাধা করে তবে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে এবং অবশিষ্ট উম্মাহ্ দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু উম্মাহ্’র একাংশ যদি এই দায়িত্ব পালনের জন্য কাজ করেও তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে পুরো মুসলিম জাতির উপর এই দায়িত্ব পালন করার দায় থেকে যায়। মুসলমানরা যতদিন খলিফা (ইসলামিক শাসক) ছাড়া থাকবে ততদিন মুসলিম উম্মাহ্’র কেউই এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবে না। http://liberatedthought.blogspot.com.au/2012/04/blog-post_20.html?m=1





মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগে রাসূল(সাঃ) এবং সাহাবা(রাঃ)-রা এমন ১৩ বছর সময় কাটিয়েছিলেন, যখন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, 'ফিজিবল' রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উপযোগী ভূমির কর্তৃত্ব মুসলিমদের হাতে ছিল না, ইসলাম বাস্তবায়ন এবং মসুলিমদের নিরাপত্তা দানে সক্ষম এমন আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদ'রা কোথাও নিঃশর্তে নুসরাহ দিতে রাজী হননি।

মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ১৯২৪ সাল পর্যন্ত খিলাফত ব্যবস্থা টিকে ছিল।

১৯২৪ সালের পর থেকে আমরা এমন কোন রাষ্ট্র পাইনি যারা সত্যিকার অর্থে শরয়ী-ঊসূলী ক্রাইটেরিয়া পূরণ পূর্বক খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটা শিয়া ইরান কিংবা তালিবান আফঘানিস্থান যারাই হোক না কেন। জ্বিহাদীরা বরং জাতীয়তাবাদী কুফর সীমানা মেনে নিয়ে ইমারাহ প্রতিষ্ঠা করেছে। তা না হলে মুল্লাহ উমার কেন সউদি, আমিরাত এবং পাকিস্থানকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে নিল? কেন তারা জাতিসংঘের সদস্যপদ চাইল? বাস্তবতা হচ্ছে, আফঘানিস্থান বা শীশান বা মালী বা ইয়েমেন বা সোমালিয়াতে যারা নিজেদের ইমারাতের আমীর দাবী করছে, তারা কেউই খিলাফত ডিক্লেয়ার করেনি বা খলিফাহ হিসেবে বাই'য়াতও চায়নি।

কিন্তু এখন সেই আল-ক্বায়িদাহপন্থীদের মধ্যেই বিভাজন শুরু হয়েছে। শাইখ আবু উমার আল-বাগ্বদাদী আমির-উল-মুমিনীন হিসেবে বাই'য়াত নিচ্ছেন, ইরাকের আনবার থেকে সিরিয়ার আলেপ্পো অবধি অন্তত ২০-টির বেশি শহর নিয়ে লেবাননের চাইতেও বড় অঞ্চলে শারি'য়াহ বাস্তবায়নের দাবী উঠেছে। ইয়েমেন থেকে জাওয়াহিরির বদলে শাইখ আবু দু'য়ার প্রতি বাই'য়াত নেওয়ার প্রচেষ্টার কথাও শোনা যাচ্ছে। ১৯২৪-এর পর প্রথম বারের মতো আসারিয়য়্যাহ'র বর্ডার উৎপাটন করা হয়েছে।

তাহলে প্রশ্নঃ

(১) জিহাদিদের কাছে আমিরুল মু'মিনিন কে মুল্লাহ উমার নাকি শাইখ বাগ্বদাদি?
(২) জিহাদিদের গ্লোবাল কর্তৃত্ব কার হাতে আইমান আল-জাওয়াহিরি না শাইখ আবু দু'য়া?
(৩) শাইখ আবু উমার কি বাই'য়াত নিচ্ছেন ইমারাহ'র আমীর হিসেবে নাকি খিলাফাহ'র খলিফাহ হিসেবে?
(৪) ইমারাহ কনসেপ্ট-এর ঊসূলী ভিত্তি কি? কে এর আমীর নিয়োগ করবে? অস্বীকারকারীর শাস্তি কি?
(৫) খিলাফাহ ঘোষণা না করা পর্যন্ত উক্ত মুক্ত ভূমি কি দারুল কুফর নাকি দারুল ইসলাম?
(৬) ভূমির অথরিটি হাতে আসবার পরও, খিলাফাহ ঘোষণা না হওয়ায়, হাজার হাজার মানুষের উপর বছরের পর বছর ইসলাম বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা কিভাবে জায়েয হতে পারে? তাহলে কি উক্ত জনপদ-সমাজ কি কুফরের ভিত্তিতেই চলতে থাকবে? তাদের জীবনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ইসলামের ভিত্তিকে হবে না? কে তাদের দেখাশুনা করবে?

ইমারাহ আজকের বাস্তবতা! যা ইসলামের দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে আজ আমাদের এক ইউনিক মানাত-এর সম্মুখীন করেছে। উসূলের দিক থেকে চুপ করে থাকলে হবে না, ইজতিহাদ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর পলিটিক্যালি এর ওয়ে আউট একটাই, খিলাফাহ ডিক্লেয়ার এবং এক খলিফাহ'র কাছে সবাই বাই'য়াত নেওয়া!

নিশ্চয় ইমাম মতপার্থক্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ করেন ... State man


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন